আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

কোন পথে চলছে আমাদের চলচিত্র?????

বকলম ব্লগ-- লোলদের জন্য অবারিত দ্বার চলচিত্র নিয়ে গবেষণা বা বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা আমার নেই। সামুর ব্লগে বিভিন্ন ব্লগারের মুভি রিভিউ কয়েকটি পত্রিকায় চলচিত্রের পর্যালোচনা দেখে খুবই হতাশ হলাম। আমাদের চলচিত্র একই কেন্দ্রকে অবলম্বন করে আবর্তিত হচ্ছে। আমরা নতুন কিছু পাচ্ছি না। মাঝে মাঝে কিছু ঝলাকানি থাকলেও তা স্থায়ী হচ্ছে না।

আমাদের বর্তমান চলচিত্র একজন নায়ক নির্ভর হয়ে পড়েছে। নতুন কোন মুখ আসছে না বা আসলেও সফল হতে পারছে না। যার ফলাফল একই কাহিনী আর অভিনেতা দেখতে দেখতে মানুষ অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে তাই আর হলে গিয়ে সিনেমা দেখেত উৎসাহী হচ্ছে না। এর ফলে ভাংছে সিনেমাহল গুলো। সবার রুচিবোধ একরকম নয় তাই একজনের ছবি বারবার দেখতে এক শ্রেণীর দর্শকেরাই আসবে বাকিরা স্বভাবতই মুখ ফিরিয়ে নিবে।

নির্মাতাদের সব শ্রেণীর দর্শকের কথা ভাবতে হবে। আমি শাকিবের কথা বলছি। বর্তমান চলচিত্র বলতে গেলে তাকে ঘিরেই। পরিচালকরা বলবেন শাকিব ছাড়া অন্যকে দিয়ে ছবি বানিয়ে তারা লাভবান হচ্ছেন না তাই আর বিকল্প চিন্তা করছেন না। মানুষ শুধু অভিনেতাকে দেখতে হলে যায় না।

ছবির কাহিনী,চিত্রায়ন ভাল হলে সে ছবি দর্শক সমাদৃত হবেই। উদাহরণ হিসেবে বলতে পারি বাংলাদেশের নাটকের কথা। মনপুরা,থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার ছবিগুলো তারই প্রমাণ। শাকিবকে সবচেয়ে বেশী সমালোচনা হয় তার মেয়েলী ভাব,সংলাপ উচ্চারণ নিয়ে। পরিচালকরা এই বিষয়গুলো নজরে নিলে মনেহয় তার জনপ্রিয়তা আরো বৃদ্ধি পেত সিনেমাহলগুলো আরো কিছু দর্শক পেত।

বর্তমানে আরেকজন আলোচিত নায়ক অনন্ত। বাংলা চলচিত্রকে তিনি একটি নতুন ধারা দিতে চাইছেন। তার দূর্বলতা সংলাপ উচ্চারণ নিয়ে। যেহেতু তিনি নিজেই প্রযোজক তাই এই বিষয়গুলো তিনিই সমাধান করতে পারেন। তিনি যদি নাই পারেন নতুন কাউকে দিয়ে ছবি করাতে পারেন।

গত কয়েকদিনে বেশ কিছু মুভি রিভিউ দেখে মনে হল আমাদের পরিচালকেরা চিত্রায়নের দিকে খুব বেশী মনোযোগী নয়। তাই দৃশ্যের অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে যা অবশ্যই দৃষ্টিকটু। ইদানিং ছবি নকল করার খুব বেশি ঝোঁক দেখা যাচ্ছে। এই প্রসঙ্গে বলতে গেলে বলতেহয় বলিউডের চলচিত্রের কথা। তারা তামিল ছবি থেকে নকল করে ছবি বানালেও তামিল থেকে বেশী জনপ্রিয় হচ্ছে।

কারণ তারা বেশী বিনিয়োগ করে ছবির চিত্রায়ন,প্রিন্ট ইত্যাদি তামিল থেকে উন্নত করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে একটি বাংলাদেশী ছবি"উল্টাপাল্টা৬৯'' এর অনুকরণে নির্মিত ভারতীয় "রাউদে রাঠোর"এর কথাই বলি ছবিটি বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। ছবির কাহিনী মিল থাকলেও গান,অ্যাকশান,দৃশ্যে তারা অনেক উন্নতি করেছে। আমরা বলিউডের সাথে তুলনা করে পারব না। তাই তাদের ছবি অনুকরণ করে সেইমত খরচ করে ছবি বানাতে পারব না সাধ্যেরও একটা ব্যপার আছে।

যদি তাদের কাহিনীমত সবকিছু না করতে পারি তখনই দেখাদিবে নানা গরমিল,অসংগতি। আমাদের চলচিত্র সবসময় এমন ছিল তা নয় অনেক ভাল ছবি আমাদের দেশে হয়েছে। এখনও অনেক মেধাবী পরিচালক আছেন যারা ভাল ভাল ছবি উপহার দিতে পারেন। আমার গত পোস্টে এক ব্লগারের দেয়া কমেন্ট ছিল আমাদের মূল সমস্যা হলো আমাদের চলচিত্র নির্মাতারা যে কোন উপায়ে হল ভর্তি করার চিন্তায় থাকেন। হ্যাঁ অনেকটা তাই।

শুধু ব্যবসায়ীক চিন্তাভাবনা করলে অগ্রগতি হবে না। আরেকটি ব্যপার হচ্ছে আমাদের সুযোগের অভাব। মেধা থাকলেও অর্থের কারণে অনেকেই নিজের মত কাজ করতে পারছেন না। এই সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়ে আমাদের সাধ্য অনুযায়ী কাজ করলে কম বাজেটেও ভাল ছবি বানানো সম্ভব। আসল কথা হল শুধু লাভের কথা না ভেবে চলচিত্রের প্রতি ভালবাসা নিয়ে কাজ করলে আমাদের নির্মাতারা অনেক ভাল ছবি উপহার দেয়ার ক্ষমতা রাখেন।

শুধু পরিচালকরা বা অভিনেতার বদলালেই হবে না বদলাতে হবে আমাদেরও। আধুনিকতার নামে মুখ ফিরিয়ে বাংলা চলচিত্রের দিকে আমাদের ফিরে তাকাতে হবে। বর্তমানে আমরা বড়ই বলিউড,হলিউড নির্ভর হয়ে পড়েছি। আমাদের দেশী চলচিত্র যদি আমরাই না দেখি তাহলে এগুবে কি করে। নির্মাতাদের চেষ্টা করতে হবে নতুন মুখ খুঁজে বের করার।

নির্মাতারাই পারেন একজন অভিনেতাকে জনপ্রিয় করে তুলতে। আমাদের সরকারেরও অনেক কিছুই করার আছে বিশেষ করে পাইরেসি আইনের দূর্বলতার কারণে অনেক ছবি আশানুরোপ ব্যবসা করতে পারছে না। এই নিয়ে নির্মাতারা অনেক অভিযোগ আরো করেছেন। কিন্তু তাতে খুব একটা লাভ হয়নি। আমাদের রুগ্ন চলচিত্রকে সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন নির্মাতা,কলাকৌশলী,দর্শকদের সম্মিলিত প্রচেস্তা।

যেমনটা আমরা করেছি অশ্লীলতা ধূর করতে। ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।