মরণ আমার ভালো লাগে
গৌরীকেদার ভট্টাচার্য (১৯১৬ - ১৯৮৩), ছিলেন অসংখ্য কালজয়ী, জনপ্রিয় ও হৃদয়স্পর্শী বাংলা গানের মূল শিল্পী। তাঁর কণ্ঠ ছিল সুরেলা, সুমিষ্ট ও তাঁর বিষাদময় গায়কীর আবেদন তখনকার মতো এখনও সমান মনকাড়া ও মর্মভেদী।
গৌরীকেদার জন্মগ্রহন করেন অধুনা বাংলাদেশের চট্টগ্রামের পড়ইকড়া গ্রামে। তাঁর জন্মের কিছুকাল পরেই তাঁর পরিবার চিরস্থায়ী ভাবে বসবাসের জন্য বেনারস চলে যায়। শিশু গৌরীকেদার, বেনারসেই উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের তালিম নেন ধ্রুপদাচার্য হরিনারায়ন মুখপাধ্যায়ের কাছে।
১৯২০ এর দশকে গৌরীকেদারকে কোলকাতায় পাঠানো হয় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহনের উদ্দেশ্যে। কিন্তু তাঁর মন পড়ে থাকে গানে, পড়াশুনায় হন চরম অমনোযোগী। একদিন, নিয়ম ভেঙ্গে স্কুলের মধ্যেই উচ্চস্বরে গান গাওয়ার জন্য তাঁকে রাস্টিকেট করে দেয়া হয়। ফলে চাইলেও কিছুকালের জন্য তাঁর পক্ষে আর কোনও স্কুলে ভরতি হওয়া সম্ভব ছিল না। গৌরীকেদার হয়তো তাই চাচ্ছিলেন, তিনি পুরো উদ্যমে গান বাজনায় মেতে ওঠেন।
পাশাপাশি পেট চালানোর জন্য গানের টিউশনি করতে থাকেন।
১৯৩৩ এ অল ইন্ডিয়া রেডিওতে তিনি প্রথম সঙ্গীত পরিবেশন করেন। ১৯৩৭ এ হিন্দুস্থান রেকর্ডস থেকে তাঁর প্রথম গ্রামোফোন রেকর্ড বের হয়। এর পর থেকে একের পর এক রেকর্ড বের হতেই থাকে ও তাঁর জনপ্রিয়তা বেড়েই চলে। তিনি এতটাই সফল হন যে, তিনি সেসময় তিনটি ভিন্ন নামে রেকর্ড বের করতেন - 'গৌরীকেদার ভট্টাচার্য' নামে আধুনিক গান, 'সুকুমার ভট্টাচার্য' নামে লোকগীতি ও 'গোলাম কাদের' নামে ইসলামী গান।
১৯৩৯ এ গৌরীকেদার কলাম্বিয়া রেকর্ডসের সাথে ও পরে গ্রামোফোন কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। ১৯৪০ এ তিনি 'নিমাই সন্যাসি' সিনেমায় অভিনয় ও কণ্ঠদান করেন। এরপর থেকে শুধুই সাফল্য।
১৯৪৯ এ, ২৬ বছর বয়সে তিনি বিয়ে করেন। এরপর আরও ছয়টি বছর তিনি অনেক কালজয়ী বাংলা গান রেকর্ড করেন।
১৯৫৫ এ তিনি আচমকা গ্রামোফোন কোম্পানির সাথে চুক্তি বাতিল করে দেন। মুলত এর পর থেকেই তিনি ধীরে ধীরে আধ্যাত্মিক পথে অগ্রসর হন ও হাতেগোনা ধর্মীয় সঙ্গীত ছাড়া বাকি জীবনে আর কিছু গাননি। ১৯৭৪ সালে তিনি সন্ন্যাস ব্রত গ্রহন করেন ও তাঁর নাম হয়, 'মোহন্ত চন্দ্রশেখর গিরি'। ১৯৮৩ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী, নিভৃতে, তাঁর গানের অসংখ্য ভক্তের অগোচরেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
গৌরীকেদার ভট্টাচার্য - কালজয়ী বাংলা গান - শত জনমের প্রেম
০১ এনেছি আমার শত জনমের প্রেম (১৯৪৯)
০২ সমাধিতে মোর ফুল ছড়াতে কে গো এলে (১৯৫১)
০৩ নাইবা হ'লো মিলন মোদের (১৯৪৫)
০৪ চাঁপা ভাবে বসি (১৯৪৯)
০৫ মোর হাতে ছিল বাঁশি (১৯৪৪)
০৬ নিও না গো অপরাধ (১৯৪৪)
০৭ কেন পিয়া পিয়া (১৯৪৯)
০৮ মোর ফেলে আসা পথে (১৯৫০)
০৯ মিলন-বিরহ হৃদি যমুনার (১৯৪৯)
১০ কত মধুর রাতি এলো (১৯৫১)
১১ তোমার এ মালা (১৯৫০)
১২ আজি মিলন নিশি ভোরে (১৯৪৫)
১৩ সেই মধুরাতে আধখানা চাঁদ (১৯৪৮)
১৪ ভালবাসি আলেয়ারে (১৯৪৫)
১৫ কত গানের কুসুম ফুটে ওঠে গো (১৯৪৫)
১৬ নাইবা রাঙ্গিলো এ দুটি জীবন (১৯৫২)
১৭ যদি পথ চেয়ে (১৯৫১)
১৮ আমি আর প্রেম জেগে আছি (১৯৪৮)
১৯ এলো বাদল রিম ঝিম ঝিম (১৯৫৪)
২০ পরদেশী গো যেওনা ফিরে (১৯৫১)
২১ মোর জীবনের প্রেম ও প্রনাম (১৯৫২)
কোয়ালিটি - ১৯২ কেবিপিএস এমপি৩
ফাইল সাইজ - ৯২ মেগাবাইটস
ডাউনলোড -
গৌরীকেদার ভট্টাচার্য - শত জনমের প্রেম ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।