আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

তবে কি এটা "শাওনেরই" নোংরা নাটক!!!

www.facebook.com/tawasawbil ফেইসবুকে "অসামাজিক আমি" হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুতে শোকে মুহ্যমান দেশবাসী। তারা অপেক্ষা করছেন প্রিয় লেখককে শেষবারের মত দেখতে, শেষ বিদায় জানাতে। কিন্তু রিপোর্টটিং করতে গিয়ে জানলাম, হুমায়ূন আহমেদের মরদেহ নিয়ে শুক্রবারই রওনা হওয়া যেত। সেক্ষেত্রে রোববারই দেশবাসী সুযোগ পেতেন হুমায়ূন আহমেদকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর। কিন্তু তার স্ত্রী ও অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন এয়ারলাইন্সের বিজনেস ক্লাস ছাড়া যাবেন না।

যদিও হুমায়ূন আহমেদের মরদেহ এবং স্ত্রী ও দুই পুত্রের দেশেফেরার খরচ বহন করছে বাংলাদেশ সরকার। জাতিসংঘ বাংলাদেশ মিশন হন্যে হয়ে টিকিট খুঁজেছে গত দুদিন ধরে। কিন্তু কোথাও একসঙ্গে টিকেট পাওয়া যাচ্ছিল না। মরদেহ বহন করার ব্যবস্থা হলেও পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে টিকেট মেলেনা। অবশেষে এমিরেটস-এয়ারলা ইন্সে শনিবার রাতের টিকেট মিলেছে।

কিন্তু সমস্যা হয়েছে, এরমধ্যে চারটিবিজনেস ক্লাস এবং বাকিগুলো ইকোনমি। কিন্তু ইকোনমি ক্লাসে যাবেন না মেহেরআফরোজ শাওন। চারটি বিজনেস ক্লাসের টিকেটে মা সংসদ সদস্য তহুরা আলী এবং দুই ছেলের ব্যবস্থা হয়। কিন্তু অন্যপ্রকাশের মাযহার আর শাওনেরে এক বোনকে তাহলে যেতে হবে ইকোনমি ক্লাসে। আর এখানেই যত আপত্তি শাওনের।

তিনি বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তাদের কাছে তার আপত্তির কথা জানিয়েছেন। এখন এ বিষয়টি শাওনকে বোঝানো হচ্ছে। শাওন রাজি না হলে সোমবারও পৌঁছবে না হুমায়ূন আহমেদের মরদেহ। এ বিষয়টি নিয়ে এই মুহূর্তে লিখতে চাচ্ছি না। কারণ কোটি কোটি হুমায়ূন ভক্ত শোকাহত।

তাদের মনে এই মুহূর্তে কোনো প্রশ্নের উদ্রেগ হোক তা চাই না বলেই রিপোর্ট না লেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে একটি প্রশ্ন থেকেই যায়, অর্থ সাশ্রয়ের জন্য যদি বিশেষায়িত ক্যান্সার হাসপাতাল ছেড়ে যদি সাধারণ হাসপাতালে হুমায়ূন আহমেদের অপারেশন হয় তাহলে এখন বিজনেস ক্লাসের অজুহাতে কেন হুমায়ূন আহমেদের লাশ তার কোটি কোটি ভক্তদের কাছে পাঠানো হচ্ছে না। কেন মার্কিন মুল্লুকের শবাগারে পড়ে আছে এই প্রিয় লেখকের মরদেহ? এখানে টাকার প্রশ্ন আসবে কেন? স্লোয়ন কেটারিং হাসপাতাল তো কারো কাছে টাকা চায়নি। টাকা পরে না হয় দিতে হতো। পুরো দেশবাসী কিন্তু পাশে ছিল।

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সকল বাংলাদেশী হুমায়ূন আহমেদের পাশে ছিল। কিন্তু কাউকেউ তো কোনো সুযোগ দেননি হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী শাওন এবং কথিত পারিবারিক বন্ধু মাযহার। আপনি দুর থেকে উপলব্ধি করতে পারছেন না বলেই আপনার এমনটি মনে হচ্ছে। জ্যামাইকা হাসপাতালে কিন্তু বলেই দিয়েছিল তার অপারেশনে ত্রুটি আছে। এরপরই তো আবার অপারেশন হল।

আরো শুনবেন? প্রথম অপারেশনের পর বাসায় চেয়ার থেকে পড়ে গিয়েছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। শাওন এ কথাটি ডাক্তারের কাছে গোপন করেছিলেন। চেয়ার থেকে পড়ে যাওয়ায় তার অপারেশনের সেলাই কেটে গিয়েছিল। এসব কিন্তু নিউজে এসেছে। আপনি পুরনো নিউজগুলো পড়ুন।

একটি কথা মনে রাখবেন, ডাক্তার আর উকিলের কাছে কোনো কথা গোপন রাখতে নেই। কেন তাকে বিশ্বখ্যাত স্লোয়ন কেটারিং সেন্টার হাসপাতাল থেকে বেলভ্যু হাসপাতালে নিয়ে অপারেশন করা হল সেই প্রশ্নের খোঁজার চেষ্টা করছি। এমনও উত্তর পেয়েছি যে অর্থ সাশ্রয়ের জন্য এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলে তার পরিবার, অর্থাৎ মেহের আফরোজ শাওন এবং বন্ধু মাযহার । অথচ আমরা সবাই জানি, এই মার্কিন মুল্লুকে যে কোনো হাসপাতালে সবার আগে রোগীর চিকিৎসা। বিল নিয়ে হাসপাতাল কখনো মাথা ঘামায় না।

হুমায়ূন আহমেদের বিল তার যত সম্পদ তা থেকে পরিশোধ করা যেত। না পারণে দেশবাসী অবশ্যই দিতেন। এমনকি বিল মওকুফ করারও সুযোগ আছে এখানে। যত হাজার ডলার বিল হোক না কেন। আগে তো প্রিয় লেখককে বাঁচানো দরকার ছিল।

এখন লেখক নেই, কিন্তু তিনিতো অঢেল সম্পদ রেখে গেছেন। কি হবে এই সম্পদ দিয়ে? একটি বই বেরুলে কোটি টাকার ওপর রয়্যালটি পেতেন হুমায়ূন আহমেদ। শত শত বই লিখেছেন। নিজের টাকায় চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে চেয়েছিলেন। ইত্তেফাকে আমার সহকর্মী যিনি একজন চিকিৎসকও।

তিনি আজ লিখেছেন‘ইনফেকশনের জন্য দায়ী কে? আমি যদি আজ প্রশ্ন করি ক্যান্সার হাসপাতাল রেখে কেন তাকে সাধারণ হাসপাতালে নেওয়া হল, এই উত্তর কে দেবেন? আজ হোক, কাল হোক এই প্রশ্ন সামনে আসবেই...আসবে। - ইত্তেফাকের বিশেষ প্রতিনিধি শহীদুলইসলামের স্ট্যাটাস থেকে  ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।