আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

"ক" বইটি নিষিদ্ধ। "টিভি ক্যামেরার সামনে মেয়েটি" শীর্ষক ছোট গল্পটিও প্রথম আলো নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু ওই রথি-মহারথিদের বাহ্যিক সুন্দর চেহারার ভেতরের কুৎসিত চেহারা দেখে ফেলার অনুভুতি কি করে নিষিদ্ধ করি?

এসো ভাই , তোলো হাই , শুয়ে পড়ো চিত, অনিশ্চিত এ সংসারে এ কথা নিশ্চিত - জগতে সকলই মিথ্যা , সব মায়াময়, স্বপ্ন শুধু সত্য আর সত্য কিছু নয়। যতদূর মনে পড়ে সময়টা সম্ভবত দুই হাজার তিন সালের মাঝামাঝি হবে। তসলিমা নাসরিন নামক একজন বিতর্কিত, নিন্দুকদের ভাষায় বিতাড়িত লেখিকার "ক" শিরোনামে আত্মজিবনীমূলক বই প্রকাশিত হওয়ার পর পরই সরকার কর্তৃক বইটি বাংলাদেশের বাজারে নিষিদ্ধ হল। নিষিদ্ধ হওয়ার দু একদিনের মধ্যেই চট্টগ্রামের এক সাংবাদিক বন্ধুর মাধ্যমে বইটি আমার হাতে এসে পৌছায়। লাল সাদা কালারের প্রচ্ছদে মোড়া বইটি বাসায় এনেই পড়া শুরু করি।

পুরো বইটিতে লেখিকা কার সাথে একান্তে রাত যাপন করেছেন কিংবা কে তার সাথে রাত যাপন করার খায়েশ প্রকাশ করেছে টাইপের সুঁড়সুড়ি দেয়া চটি বিষয় ছাড়া উল্লেখযোগ্য কিছুই পেলাম না। তবে বইটি পড়া শেষে বিশ্বাস অবিশ্বাসের বিষয়টি গৌণ হয়ে আমার কল্পনায় দুই বাংলার অনেক রথি-মহারথির চেহারা ভেসে উঠলো। সকলের মুখ দিয়ে কামের লালা বেয়ে বেয়ে পড়ছে। এখনো ওই সব রথি-মহারথিদের দেখলে আমার "ক" বইটির একেকটি লাইন মনে পড়ে যায়। আমি এক্স-রে পেপারের মত তাদের চরিত্রের সব দেখে ফেলি এক ঝটকায়।

গত ১৪ এপ্রিল বাংলা ১৪২০ সালের বৈশাখ মাসের ১ তারিখে প্রথম আলো পত্রিকায় হাসনাত আব্দুল হাই এর "টিভি ক্যামেরার সামনে মেয়েটি" শীর্ষক ছোট গল্পটি পড়ে একটি মেয়ের রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের সাথে একান্তে রাতযাপনের আত্মজিবনীমূলক চটি কাহিনী ছাড়া আর কিছুই পেলাম না। তবে অনেকদিন পর আবার ওই "ক" পড়ার পর যেমন অনুভুতি হয়েছিল ঠিক একই অনুভুতি হয়েছে। আবারও চোখের সামনে অনেক রথি-মহারথির চেহারা ভেসে উঠেছে। আবারো কামের লালা, আবারো স্বার্থসিদ্ধি, আবারো এক্স-রে পেপার, আবারে সবকিছু ফকফকা....। "ক" বইটি নিষিদ্ধ।

"টিভি ক্যামেরার সামনে মেয়েটি" শীর্ষক ছোট গল্পটিও প্রথম আলো নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু ওই রথি-মহারথিদের বাহ্যিক সুন্দর চেহারার ভেতরের কুৎসিত চেহারা দেখে ফেলার অনুভুতি কি করে নিষিদ্ধ করি? ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।