আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

যৌন ব্যবসা: ইউরো কাপকে ঘিরে

আমার অনুমতি ছাড়া এই ব্লগের লেখা কোথাও প্রকাশ করা যাবে না। ইউরো কাপ দারুণভাবে জমে উঠেছে। নক আউট পর্বে এসে ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই নতুন মাত্রা পেয়েছে। খেলার মাঠের লড়াই দেখতে রাত জাগছি আমরা। কিন্তু জানেন কী ফুটবলের বাইরেও এই প্রতিযোগিতা ঘিরে ঘটছে অনেক কিছু।

কখনও সেটা সরকারি উদ্যোগে, কখনও নিয়মের বাইরে বেরিয়ে। সেইসব নিয়েই সাজানো এই প্রতিবেদন--- যৌন ব্যবসা: ইউরো কাপকে ঘিরে জোর হয়েছেন ইউরোপের বিভিন্ন প্রান্তের বিভিন্ন পেশার বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ। ইউরোর ফুটবলের লোভে, দেশের সমর্থনের জন্য হাজির লক্ষ লক্ষ সমর্থক। আর এই সুযোগটা নিতে উঠে পড়ে লেগেছেন ইউরোর নামকরা সব সেক্স সিন্ডিকেট কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে। প্রতিযোগিতা শুরুর অনেক আগে থেকেই প্রতিযোগিতার দুই আয়োজক দেশ পোল্যান্ড-ইউক্রেনে ঘাঁটি গেড়ে রেখেছে দেহ ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসার নিয়মটা ঠিক আমাদের এখানে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে যৌন আবেদন করা নয়। ইউরোকে কেন্দ্র করে দেহ ব্যবসা চলছে বিভিন্নভাবে। ইন্টারনেটে সুন্দরী মহিলাদের ছবি-ফোন নম্বর সহ ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ইউরোয় হাজির সমর্থকদের ইমেল অ্যাকাউন্টে। তবে এই পদ্ধতিটা বেশ পুরনো। এ বারের ইউরোয় যা চলছে সেটা বেশ কিছুটা অভিনব।

সমর্থক সেজে ছোটখাট পোশাক পরে স্টেডিয়ামে ঢুকে পড়ছে দেহ ব্যবসায়ীরা। এরপর মাঠে ঢুকে বেলুন, কিংবা কাগজের মধ্যে বড় হরফে লিখছে “আই আম ফর সেলস”। পছন্দ হলে সেই মহিলার সঙ্গে মাঠেই লেনদেন সেরে নেওয়া হয়। অর্থাৎ মাঠের মধ্যেই হয়ে যাচ্ছে শরীর নিয়ে বিনিময় প্রথা। আর সেই দেহ উপভোগের টাকার থুড়ি ডলারের কথাটা শুনলে অবাক হতে হয়।

চেক সুন্দরীরা নিজেদের জন্য প্রতি ঘন্টায় দর হেঁকেছেন আট হাজার ডলার, রাশিয়ার সুন্দরীদের দর আরও চড়া। ঘন্টায় তাদের দর বারো হাজার ডলার। ডাচ সুন্দরীরা অনেককে ছাপিয়ে গিয়েছে। ঘন্টায় তাদের দর কুড়ি হাজার ডলার। এর চেয়েও মজার কথা যাদের কথা বলছি তারা সবাই যে দেহ ব্যবসায়ী তা নয়।

এদের মধ্যে অনেকেই কলেজ-কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। রথ দেখা কলা বেচার ছকে ওরা খেলা দেখার ফাঁকে রোজগার করে নিতে চায়। খেলার শেষে হোটেলে ফেরার পথেও হয় জোর ব্যবসা। অনেকে আবার খেলা জেতা-হারার বাজি হিসাবে সুন্দরী মহিলাদের কাজে লাগান। এই যেমন চেক প্রজাতন্ত্র-গ্রিস ম্যাচ কারা জিতবে এই নিয়ে বাজিতে নেমেছিল চেকের একদল যুবক।

তাতে শর্ত ছিল তাদের দল জিতলে তারা নগ্ন পার্টি আয়োজন করবে গ্রিস সুন্দরীদের নিয়ে। আর উল্টোটা হলে একদল গ্রিস সমর্থকদের তারা নগ্ন পার্টিতে আমন্ত্রণ জানাবে যেখানে নাচবেন চেক প্রজাতন্ত্রের সুন্দরীরা। শোনা যাচ্ছে ম্যাচের শেষে নিজেদের রিল্যাক্স রাখতে বিভিন্ন দেশের কোচেরা আড়ালে আবডালে তাঁর দলের ফুটবলারদের যৌন সংসর্গে যেতে উৎসাহ দিচ্ছেন। সেই যাই হোক আসল কথা হল ইউরোর আড়ালে দেহ ব্যবসা জমজমাট। ইউরোপের এক ওয়েবসাইট অনুয়াযী প্রতিযোগিতার প্রথম দশ দিনে এই দেহ ব্যবসায় দুশো কোটি টাকার লেনদেন হয়ে গিয়েছে।

প্রায় চল্লিশ হাজার মত যৌন কর্মী পোল্যান্ড-ইউক্রেনে ছড়িয়ে পড়েছে বলে খবর। এ ছাড়াও রয়েছে ইউরোর ফুটবল ভিত্তিক নীল ছবি তৈরির ব্যবসা। খাদ্যের জন্য গোল: ইউনিসেফকে সাহায্যের জন্য এ বারের ইউরোয় নেওয়া হয়েছে দারুণ পরিকল্পনা। রুনি, রোনাল্ডো, গোমেজরা এক একটা গোল করবেন আর গোল প্রতি তিরিশ হাজার ইউরো চলে যাবে ইউনিসেফের ‘গোল ফর ফুড’ প্রকল্পে। এই প্রকল্পের টাকা সরাসরি চলে যাবে আফ্রিকার বিভিন্ন দারিদ্র্য পীড়িত দেশে।

তাই গোল করে রুনি, রোনাল্ডোরা শুধু দেশকেই জেতাচ্ছেন না, সেই সঙ্গে অন্ন তুলে দিচ্ছেন সেইসব মানুষদেরও যারা একমুঠো অন্নের জন্য চোখ দিয়ে জল ফেলেন। বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াই: এই একটা সমস্যা নিয়ে গোটা ইউরোপ গভীর উদ্বিগ্ন। বর্ণবিদ্বেষের এই সমস্যা অবশ্য আজকের নয় বহু যুগের। কালো চামড়ার মানুষ দেখলেই তাকে আক্রমণ কর, হেনস্থা কর এমনটা এক শ্রেণির মানুষ বহুযুগ ধরেই করে আসছেন। ফুটবল মাঠও এর বাইরে যাইনি।

কালো চামড়ার ফুটবলারদের বিভিন্নভাবে অপমান করে বিরক্ত করা হয়। কখনও সেটা করেন ফুটবলাররা, কখনও সেটা আসে দর্শক গ্যালারি থেকে। ফিফা বেশ কয়েক বছর ধরেই এই বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে। এই ‘ফাইট এগেনেস্ট রেশিসম’ (“fight against racism”) কিছুটা কাজে এলেও বর্ণবিদ্বেষ সম্পূর্ণ মুছে দিতে পারেনি। এ বারের ইউরোয় সেই কাজে হাত দিয়েছে উয়েফা।

নাম দেওয়া হয়েছে “Unite against racism”। মাঠের ধারে বিলবোর্ডে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তো বটেই স্টেডিয়ামের বাইরেও এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে। Click This Link ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।