আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বিনা টেন্ডারে ডিসিসির ৭ বিঘা জমি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানকে রেজিষ্ট্রি দলিল এক সুপারিশে ক্ষতি ৪০০ কোটি টাকা!

যেমন কর্ম তেমন ফল। বাজার মূল্যের চেয়ে কমে গুলশান-১ মার্কেটের ১৪০ কাঠা জমি “আমিন এসোসিয়েটস ওভারসিজ কোম্পানিকে” রেজিষ্ট্রি দলিল করে দিয়েছে ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি)। টেন্ডারের মেয়াদ শেষ হওয়ার সাড়ে ৪ বছর পরে এই জমি রেজিষ্ট্রি দলিল করা হয়েছে। ফলে বর্তমান বাজার মূল্য অনুযায়ী ডিসিসির আর্থিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। বর্তমানে শুধুমাত্র ওই জায়গার দাম প্রায় সাড়ে ৭শ কোটি টাকা।

যার কাঠা প্রতি বর্তমান মূল্য ৫ কোটিরও বেশি। ডিসিসির মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই গুলশান-১ মার্কেটের ১৪০ কাঠা জমির চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। জানা গেছে, মেট্রোগ্রুপের আমিন এসোসিয়েটস ওভারসিজ কোম্পানিকে শতকরা ৬৩ ভাগ এবং ডিসিসির ৩৭ ভাগ রেখে রেজিষ্ট্রি দলিল সম্পাদন করা হয়েছে। ও্ই এলাকা হিসেবে জমির মালিক শতকরা ৫০ ভাগ এবং সাইনিংমানি হিসেবে কাঠা প্রতি ২ কোটি টাকা পেয়ে থাকেন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ডিসিসি শতকরা ১৭ ভাগ ক্ষতিতে চুক্তি করলেও কোন সাইনিং মানি নেয়নি।

সাইনিং মানি বাবদ ডিসিসি পেত ২৮০কোটি টাকা। আর শতকরা ১৭ ভাগ শেয়ার কম নেওয়া ডিসিসি’র ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১২০কোটি টাকা। গুলশান এলাকার বর্তমান বাজার মূল্যের বিষয়ে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান স্ক্যাইটাসের ডিরেক্টর (হিসাব) আব্দুস সালাম বলেন, গুলশান এলাকায় কোন জায়গা ডেভেলপমেন্টে মালিক ও ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমান সমান ভাগাভাগি হয়ে থাকে। সাইনিংমানি কাঠাপ্রতি ২ কোটি টাকা বা কোন কোন ক্ষেত্রে তারও বেশি হয়। তবে এটা দু’পক্ষের আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে করা হয়।

আরেক ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান সমাজসেট প্রপার্টিসের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন শাহীন বলেন, গুলশানে এখন ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানকে জমির মালিকদের শতকরা ৫০ ভাগেরও বেশি শেয়ার দিতে হয়। সাইনিংমানি কাঠাপ্রতি ৩ কোটি পর্যন্ত চলছে বলে জানান তিনি। অন্যদিকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিসিসি মেয়র সাদেক হোসেন খোকা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, ডিসিসির মূল্যায়ন কমিটির যাচাই-বাচাইয়ের পর ওই মার্কেটের জায়গা ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানকে রেজিষ্ট্রি চুক্তি করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই চুক্তি কয়েক বছর আগের হওয়ার শেয়ার কিছু কমবেশি হতে পারে। ২০০৫ সালের সিটি করপোরেশন বিধিমালা অনুযায়ী, উদ্যোগী সংস্থার অর্থায়নে বহুতল বাণির্জ্যিক বা আবাসিক ভবন নির্মাণ ও দীর্ঘমেয়াদী বন্দোবস্ত এবং হস্তান্তর নিজস্ব মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

আর ডিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে রয়েছে সাতসদস্য মূল্যায়ন কমিটি। জানা যায়, ২০০৩ সালের ২৭ জানুয়ারি গুলশান-১ এর ওই জায়গায় ‘সিটি ট্রেড সেন্টার’ করতে দরপত্র আহবান করে। ওই সময় অন্য একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান ওই জায়গায় কার্যাদেশ পায়। ডিসিসি সঠিক সময়ে জায়গা বুঝে না দেওয়ায় ওই প্রতিষ্ঠান ডিসিসির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে। এরপর ২০০৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর নতুন করে ওই টেন্ডারে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান আমিন এসোসিয়েটসের সঙ্গে রেজিষ্ট্রি চুক্তি সম্পাদন করে ডিসিসি।

নিয়ম অনুযায়ী ১২০ দিনপর দরপত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু এক্ষেত্রে প্রায় সাড়ে চার বছর পর বিনা টেন্ডারে নতুন করে রেজিষ্ট্রি দলিল করা হয়েছে। তবে নানা জটিলতায় ওই প্রকল্পের জায়গা সঠিক সময় দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠানকেও বুঝিয়ে দিতে পারেনি ডিসিসি। ফলে ওয়ান ইলেভেনের সময় ওই কার্যক্রম আর বেশিদূর এগুতে পারেনি। মহাজোট সরকার গঠনের পর নতুন করে ওই কোম্পানি জায়গা বুঝিয়ে দিতে চাপাচাপি শুরু করে।

ওই সময় ডিসিসি ও ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ছিল শতকরা ২৭ ভাগ ও ৭৩ ভাগ। ডিসিসির আর্থিক ক্ষতির বিষয় নিয়ে মন্ত্রণালয় আপত্তি উঠালে ডিসিসির মূল্যায়ন কমিটি ওই দরপত্রের পুনঃ মূল্যায়ন করে। ২০০৯ সালের ৪ আগস্টে মূল্যায়ন কমিটি পুনরায় যাচাইবাচাই করে ডিসিসির অংশ শতকরা ১০ ভাগ বাড়ানো হয়। এসময় শেয়ার বেড়ে ডিসিসি’র পায় শতকরা ৩৭ভাগ এবং ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের থাকে শতকরা ৬৩ভাগ। তবে এসময় সিটি ট্রেডসেন্টারের খোলা জায়গা ডিসিসির শেয়ারের আওতায় ধরা হয়।

ওই খোলা জায়গা সকলে উভয়েই ব্যবহার করবে কিন্তু ডিসিসি কোন ভাড়া পাবেনা। শুধু মাত্র নামেই মালিক থাকবে ডিসিসি। ডিসিসির মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশের প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষ গত বছরের ২৪ নভেম্বর আমিন এসোসিয়েটস ওভারসিজ কোম্পানি চূড়ান্ত কার্যাদেশপত্র পেয়েছে। শীঘ্রই ‘সিটি সেন্টার’ নির্মাণ কাজ শুরু করবে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান। ডিসিসিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানকে রেজিষ্ট্রি চুক্তি করে দেওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছে ওই মার্কেটের দোকানদাররা।

তাদের অভিযোগ দীর্ঘদিন থেকে তারা মার্কেটে দোকানদারি করে আসছে মার্কেট ভেঙ্গে নতুন মার্কেট করলেও ডিসিসির কম শেয়ারের কারণে সকল দোকানদার দোকান বুঝে পাবেনা। এসব কারণে কয়েকজন উচ্চ আদালতে রীট আবেদন করেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ডিসিসির ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে স্বচ্ছ বরাদ্দ। সকল নিয়ম মেনে এ রেজিষ্ট্রি দলিল করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ওই এলাকার অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বা ব্যক্তি মালিকানার জমির বরাদ্দে উভয় পক্ষই শতকরা ৫০ভাগ এবং সাইনিং মানি পেয়ে থাকলেও ডিসিসির ক্ষেত্রে তার ব্যতয় ঘটলো কেন? এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা অনেক যাচাই বাচাই করে চুক্তি করেছি।

কিছু কম বেশিতো হতেও পারে। তবে তিনি দাবি করেন খোলা জায়গা হিসাবে আনলে ডিসিসি লাভবান হয়েছে। বাজার সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল কালাম মোহাম্মদ আজাদ বলেন, এসব আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগেকার ঘটনা। তবে তিনি বলেন, প্রথম পর্যায়ে ডিসিসির ছিল ২৭ভাগ পরে বাড়িয়ে তা ৩৭ভাগ করা হয়েছে। ডিসিসি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.