আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ভালো নেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়?

খুব জানতে ইচ্ছে করে...তুমি কি সেই আগের মতনই আছো নাকি অনেকখানি বদলে গেছো... প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্য্যরে চাদর মোড়ানো দেশের একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। মনোরম পরিবেশ, পাখিদের কলকাকলিতে সুসজ্জিত একটি ক্যাম্পাস। সেই রুপ কথার গল্পের মতো, এখানে মানুষের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলেছে নানান প্রজাতির সবুজ উদ্ভিদ। কতো রংয়ের বেরংয়ের পাখ-পাখালি, প্রাণীকুলের বৈচিত্র্যময়তা আন্দোলিত করে মন। তাই এ সবুজতায়ন থেকে বের হয়েও অবসরের অবস্বাদের ঘ্রান নিতে আমরা ফিরে যাই স্বমহিমায় স্বগৌরবে।

বার বার ফিরে পেতে চাই সেই চৌরঙ্গির মোড়, প্রান্তিকের গেট, ট্রান্সপোর্টের সেই খালার দোকান কিংবা সুপারিতলার সেই আড্ডাখানা। কিন্তু কালের বিবর্তনে এখানে গ্রাস করেছে রাজনীতির কালো থাবা। সরকার পরিবর্তনে এখানেও অযাচিত পরিবর্তন ঘটে। সৃষ্টি হয় লোকাল এন্টিলোকাল গ্রুপ। তারপর হল দখল, মারামারি ইত্যাদি যেন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার।

শিক্ষকদের একটি গ্রুপ বাটার বনের বাটার খাওয়ার জন্য যোগ দেয় ভিসি পহ্নী গ্রুপে তারপর মরিয়া হয়ে উঠে ক্ষমতার বৃত্তে। আর ভিসির চেয়ার দখল করে নেয় ক্ষমতাসীন প্রভাবশালী শিক্ষক। এমনটিই হয়ে আসছে গত দেড়যুগ ধরে। বিশেষ করে গণতান্ত্রিক সরকার ব্যব¯হা শুরুর পর থেকেই বাংলাদেশের প্রায় সবগুলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ার দখলের এ রাজনীতি শুরু হয়েছে। বাদ যায়নি জাহাঙ্গীরনগরও।

অতীতের সব রের্কড ভঙ্গ করে বর্তমান উপাচার্য রসায়নের শিক্ষক হওয়ার সুবাদে জাহাঙ্গীরনগরের পুরো রসায়নই বদলে ফেলেছেন। ত্রিভুজাকৃতির একটি কেন্দ্রিয় শহীদ মিনার এখন কলাভবনের সামনে দন্ডায়মান। আর এ শহীদ মিনারটি যাতে ঢাকা আরিচা মহাসড়ক থেকে দেখা যায়, সেজন্য সমাজ বিঙান অনুষদের সামনের রাস্তার প্রায় দু‘শতাধিক গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। পুকুরগুলো থেকে মাছ চাষে ক্যাম্পাস কতোটা স্বাবলম্বি হবে তা বুঝা না গেলেও পুকুরগুলো লীজে অনেক টাকা টুপাই ইনকাম হয়েছে তা বুঝতে বাকি নেই। আর এজন্য লীজগ্রহীতা আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার লক্ষে পুকুরগুলো এমনভাবে পরিস্কার করেছে যে এবার শীতে কোন অতিথি পাখি এসব লেকগুলোতে দেখা যায়নি।

অতচ প্রতিবছর জাবি ক্যাম্পাসে জাকজমকপূর্ণ ভাবে পাখিমেলার আয়োজন করা হয়। আমরা যখন ছাত্র ছিলাম তখন পাখি বিশেষঙ এনাম আল হকের সহযোগীতায় পাখির মেলার আয়োজন করেছিলাম। যা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিল। দেখেছি জাবি‘র পাখিমেলা নিয়ে অতিথিদের আগ্রহ। সাবেক বর্তমান ছাত্র ছাত্রীদর এ যেন এক অনানুষ্ঠানিক মিলন মেলা।

অতচ ক্যাম্পাস এখন পাখিশুন্য। অতিথি পাখি না আসাই ভালো কারণ অতিথি পাখিরাই নাকি বার্ড ফ্লু সংক্রমনে অগ্রনী ভূমিকা রাখে। এমন কথাও বর্তমান উপাচার্য বিভিন্ন সেমিনারে বলেছেন। হয়তো উনার উর্বর মস্তিস্ক সেই দৃষ্টিকোন থেকেই ক্যাম্পাসের লেকগুলোকে পাখিদের জন্য নিষিদ্ধ পল্লি ঘোষনা করেছেন। বর্তমান উপাচার্য আওয়ামীলীগের উপাচার্য হয়ে সুকৌশলে ছাত্রলীগকে ভিসি লীগে পরিণত করে রেখেছেন।

উনার ক্ষমতাগ্রহনের পর জাহাঙ্গীরনগরে ছাত্রলীগের তান্ডব সারা দুনিয়ার মানুষ দেখেছে। হলের ছাদ থেকে ছাত্রলীগের এক গ্রুপ অন্যগ্রুপের কর্মীদের ধরে ধরে নিচে ফেলে দিয়েছে। যা মিডিয়ার কল্যাণে গণতন্ত্রকামী মানুষ দেখেছে। অতচ এ গুনধর উপাচার্য মসনদে বসে তামাশা দেখেছেন বছরের পর বছর ধরে। একটা ঘটনারও সুষ্ঠ বিচার উনি করতে পারেননি।

এ সরকারের আমলে ছাত্রলীগ যতো সমালোচিত হয়েছে তার আশি ভাগ শুধু জাহাঙ্গীরনগর ইউনিট নিয়ে। তাছাড়া জাহাঙ্গীরনগরের ছাত্রলীগের ইতিহাস খুব একটা ভালো নয়। এর আগের আমলে সেঞ্চুরিয়ান মানিকের রেকর্ড যা আওয়ামীলীগকে ডুবিয়েছে। আর এখনকার আমলে আওয়ামীলীগকে ডুবানোর জন্য বর্তমান উপাচার্যই যথেষ্ট। বর্তমান উপাচার্যের ক্ষমতা আকড়ে রাখার গোড়া খুব শক্ত।

কারন উনার অরিজিন গোপালগঞ্জের। যে গোপালগঞ্জের মাটিতে বঙ্গবন্ধু জন্মিয়েছেন। সেই একই মাটিতে উনার জন্ম। যা গোপালগঞ্জ বাসির জন্য কতোটা সুখকর বলাই বাহুল্য?। এ ক্যাম্পাসের ছাত্রলীগ কর্মিরাই ইংরেজি বিভাগের জোবায়েরকে মেরে ফেলেছে।

অতচ জোবায়ের হত্যা নিয়েও প্রশাসন যে তেলেশমাতি খেলা খেলছে তা বলতেও জাহাঙ্গীরনগরের পরিবারের সদস্য হয়ে ঘৃনা লাগে। অসস্তি বোধ করে সকল সুষ্ঠ মস্তিস্কের মানুষজন। উনার সবচেয়ে বড় গুন উনি ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মীদের ক্যাম্পাসে পুর্নবাসন করতে পেরেছেন। যতো অযোগ্যদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন তার মাশুল একদিন জাহাঙ্গীরনগরকে দিতে হবে। পলিটিক্যাল কোটায় জাহাঙ্গীরনগরে যতো নিয়োগ হয়েছে তা চিন্তার বাইরে।

এ বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন মুক্ত চিন্তার বাইরে যুক্ত চিন্তার চর্চা হয়। রাজনীতির আদলে এখানে যে কেউ যে কারো হাত পা ভেঙ্গে দিতে পারে তার কৈফিয়ত নেয়ার কেউ নেই। অতচ আমরা যারা সাবেক ছাত্র, তারা এ উপাচার্যের নিয়োগে উচ্ছ্বাসিত ছিলাম। কারন এ উপাচার্যের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে কাজ করার অভিঙতা রয়েছে। তিনি হলের প্রভোস্ট থেকে শুরু করে প্রশাসনের ট্রেজারার, উপ উপাচার্যেরও দায়িত্বও পালন করেছেন।

এমন অভিঙতা নিয়ে তিনি যখন মসনদে বসেছেন তখন স্বভাবতই আমাদের প্রত্যাশা ছিল পাহাড়সমান। ভেবেছিলাম হয়তো অনেক গুনগত পরিবর্তন ঘটবে। মেধাবিদের পুর্নবাসনের ¯হান হবে জাহাঙ্গীরনগর। কিন্তু আমরা যে আলেয়াকে আলো ভেবে ভুল করেছিলাম। তা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি।

উনার আমলেই সবচেয়ে বেশি রক্তাক্ত হলো ক্যাম্পাস। লাশ হয়ে বাড়ি ফিরল জোবায়ের। সবুজাতায়নের সবুজ ডানা ছেটে দেয়া হলো সস্তা আবেগে। হলগুলোতে গুন্ডাবাহিনির প্রহরা। অনেক খাটা খাটুনি কমে গেল গার্ডমামাদের।

অতিথি পাখিদের অভয়াশ্রম ধ্বংস করা হলো অর্থের লোভে। মেধাবীদের বঞ্চিত করা হলো রাজনৈতিক দৃষ্টিকোন থেকে। যখন পত্রপত্রিকায় দেখি এ উপাচার্যের নিয়োগকৃত একজন শিক্ষক উপরুন্তু একজন সহকারী প্রক্টর মেডিক্যাল কলেজের ভর্তি বানিজ্যে ভুয়া প্রশ্নপত্রসহ র‌্যাবের হাতে আটক হয় । তখন নিজেকে খুব ছোট মনে হয়। এই আমার বিশ্ববিদ্যালয়।

এদের দিয়েই বিশ্ববিদ্যালয় চলছে এখন? ১২.০৪.২০১২ ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.