আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বুয়েটে ভর্তি হতে চায় যারা, তাঁদের জন্যে। (২০০ থেকে ৬০০ ওয়ালাদের জন্য)

কমেন্টার ছোট ভাইবোনদেরকে কিছু বলা কর্তব্য মনে করছি। আগেই বলে নেই আমার বড় যারা আছেন তাঁদের নিকট আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আমার কথাগুলো ভুল হলে ক্ষমা করবেন। জীবনের এই মুহূর্তটায়(ভার্সিটি তে ভর্তি যুদ্ধে নামার আগে) আমি যা ফীল করেছি তাই লিখছি আশা করি কাজে দিবে ছোটদের। আর লেখাটা পুরোই "বুয়েট"-কেন্দ্রিক।

কেন বুয়েট? এটার উত্তর নাহয় নিজেই বের কর। যদি কেউ বুয়েটে নাও টিকো তবুও হতাশ হবার কিছুই নেই। বুয়েটে না টিকা তোমার মেধা কে যাচাই করতে পারেনা। এখানে না টিকলেই কি জীবন শেষ? মোটেই না। অন্য যেকোনো ভার্সিটিতে পড়েও মানুষ কতো কিছু করে ফেলে যেসব বুয়েটের স্টুডেন্টরা করতে পারেনা।

সবাই সব পারবে চেষ্টা করলে। আর ডাক্তারি নিয়ে আমি বেশি কিছু জানিনা তাই বলতেও চাই না। যাই হোক, আমি কোচিং করেছিলাম উদ্ভাসে। কারণ একটাই। সবাই বলেছে এখানে কঠিন কিছু পড়ানো হয়না।

যেটা একদমই ভ্রান্ত ধারণা। যাই হোক, পড়তে যাওয়ার শুরুতেই হাতে এল ৬ টার মতো গাইড বই। শুরু হল ক্লাস। ভাইয়ারা আসলেই অসাধারণ পড়ায় কিন্তু অনেক ভাইয়াই বই-এর বাইরের অনেক কিছু পড়ায়। যার দরুন আমার মতো "অতিরিক্ত মেধাবি নয়"- এমন ছাত্রছাত্রীরা অনেক ঝামেলায় পরে।

যাই হোক, কথা একটাই। পড়ার নিয়ম- মানে আমি যেই নিয়ম ফলো করেছি তা হল শুরুতেই গাইড বই সব দড়ি দিয়ে বেধে রেখে দিয়েছিলাম। শুধু একটা "QUESTION BANK" নামক গাইডটি টেবিলে রেখেছিলাম। ক্লাস করতে গিয়ে প্রথম দিন যা বুঝলাম শিট যদি পড়তে যাই তাহলে আমার বুয়েটে টিকা শেষ। :/ না পড়তে পড়তেই আসলো WEEKLY TEST।

অনেক খারাপ করেছিলাম। পুরাই ভেঙ্গে পড়েছিলাম। পরে একদিন মিলন ভাই বলল, "শিট/গাইড ফালায় দে। বই পড়। টিকবি।

" ইমু ভাইও একই কথা বলেছিল। আমি যেভাবে পড়েছিলাম - রসায়ন ১ম পত্র কবির/হাজারি স্যার পড়সি রিডিং + অংক + গাণিতিক রসায়ন। ২য় পত্র কবির স্যার পড়েছি কারণ হাজারি স্যারের বই আমি এইচ.এস.সি তে পড়িনি তাই নতুন করে পড়ার সাহস করিনি। কবির স্যারের পুরো বই রিডিং পড়েছিলাম। পদার্থবিজ্ঞান তপন/ইসহাক স্যার এর বইয়ের সব অংক করেছিলাম।

তোফাজ্জল স্যারের বই হালকা দেখেছিলাম যেসব চ্যাপ্টার গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে সেগুলো। গিয়াস স্যার এর বই ধড়ার সাহস পাইনি। শিট তো দূরে থাক। আমি কোন সাবজেক্ট এরই শিট দেখি নাই ফলে আমি উদ্ভাসের পরীক্ষায় খারাপ করতাম কিন্তু পরে আমার লাভই হয়েছে। বীজগণিত করেছিলাম আফসার/এস.ইউ আহমেদ স্যারের বই।

ত্রিকোণমিতি করেছি এস.ইউ আহমেদ স্যারের বই। আর জ্যামিতি/ক্যালকুলাস করেছি আফসার স্যারের বই থেকে। তরফদার/মুজিব স্যারের বই করার টাইম পাইনাই(যদিও বইটা অনেক বেশি ভালো) বলবিদ্যা করেছি জব্বার স্যারের বই থেকে। যদিও সবাই হারুন স্যারের বই করে। কিন্তু এইচ.এস.সি তে নটরডেমে জব্বার স্যারের বই করায় তাই আর হারুন স্যারেরটা করতে পারিনি।

ইংরেজি পড়ে নিজের সময় নষ্ট করিনি। বুয়েট ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজি ৩০ টা এমনিতেই পেরেছি(হয়তবা আমাদের ইংরেজি প্রশ্ন সহজ এসেছিলো) আর সময়-অসময়ে QUESTION BANK টা দেখেছি। যদিও পুরাটা শেষ করতে পারিনি। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টঃ ১.ভাইয়াদের ক্লাস মনোযোগ দিয়ে করো। অনেক কাজে দেয়।

কিন্তু আবারও বলি কোচিং-এ প্রতিটা চ্যাপ্টার থেকে ১০০ শর্টকাট শিখায়। ওগুলা খুব কষ্ট হলেও avoid করে মূল নিয়মে অংক কর। বড় করে করলেও মূল নিয়মে কর। কারন শর্টকাট মনে থাকবে না। ২ বছরের নিয়মই মনে থাকবে।

৩ মাসের নিয়ম মনে থাকে না। যাদের মনে থাকবে তারা তো বস। কিন্তু নিজেকে আগে থেকেই বস ভেবে বসবা না। ২.আমি গাইড/শিট বাদ দিতে বলেছি যাদের ভয় লাগে আমার মতো তাদেরকে। কারণ আমার ইচ্ছা ছিল বুয়েটে ৫০০ এর মাঝে থাকা, তাই টার্গেট ছিল যেন ৪৫০ মার্ক উত্তর দিতে পারি।

এর বেশি একটুও মাথায় রাখিনি। আর তাই হয়েছে। আমি ভর্তি পরীক্ষায় ৮৯ টা(৮৯*২.৫=২২২.৫) MCQ আর ২১ টা(২১*১০=২১০)(ইংরেজির ৩ টা সহ) written দিয়েছি। মোট ৪৩২.৫ মার্কের উত্তর করেছি আর আল্লাহর রহমতে আমি বুয়েটে ১৫০ এর ভিতরে আছি। ৩.যাদের টার্গেট অনেক ভালো করার, যারা কিনা তুমুল স্টুডেন্ট তারা গাইড/QUESTION BANK/সব বই/শিট সব পড়।

তোমরা এমনিতেই পারবা। ৪.বেসিক ঠিক রাখার ট্রাই করবা। অংক এমনিতেই পারবা। বুয়েট ভর্তি পরীক্ষায় থিওরি আসেনা কিন্তু তাও আগে থিওরি পড়বা। বেসিক কনসেপ্ট ক্লিয়ার হতে কাজে দিবে।

কারন এক্সাম হলে ছোট খাট টেকনিক কম মনে থাকে। আসলে মনে থাকে ২ বছর যা পড়েছ, যেই নিয়মে অঙ্ক করেছ। তাই আমি বলব হুট করে শর্টকাট নিয়মে(কোচিং সেন্টার তো বিখ্যাতই শর্টকাটের জন্যে) অঙ্ক না করে এইচ.এস.সি-এর নিয়মে বড় বড় করে অঙ্ক করা বেটার। তাতে করে তুমি ভুল্বানা। এবং তোমার মুখস্থও করতে হচ্ছে না।

৫.বসরা ছাড়া অন্য কেউ এক সাথে দুই কোচিং কইরো না। অনেক ক্ষতি হবে তোমাদের। যারা বুয়েটে প্লেস করবে তারা ৩ টা কোচিং-এ পড়লেও প্লেস করবে না পড়লেও করবে। তাদেরকে নিয়ে মাথা ঘামাইয়না। ৬.সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল পরীক্ষার হলে মাথা ঠাণ্ডা রাখা।

এটা তোমার ট্রাম কার্ড। যদি মাথা ঠাণ্ডা রাখতে পারো তাহলেই হবে। বাকিটুক তো তোমার স্রষ্টা আছেনই উপরে। যেই অংক পারছনা ওইটা নিয়ে বসে থাকবানা। অন্যগুলো করা শুরু করবা।

অনেকে আছে যে সব অংক ধরে না। এটাও ভুল। যেহেতু আংশিক মারকিং আছে তাই প্রত্যেকটা অংক টাচ করবা। পারার দরকার নাই। কিন্তু আবারও বলি, যদি কোথায় আটকে যাও তবে ওইটা নিয়ে বসে থেকো না।

MCQ এর বেলায়ও একই কথা। যদি কোনটা নিয়ে আটকে যাও তবে ওটা নিয়ে বসে থেকো না কারন একেকটা MCQ এর জন্যে মনে হয় ৪৫ সেকেন্ড করে সময়(আমার মনে নেই) এখন যদি তুমি একটা নিয়েই বসে থাকো তবে দেখা যাবে সময়ের অভাবে যেটা পারতা, ওইটাও দিতে পারবানা। ৭.এবার অনেক ইম্পরট্যান্ট একটা কথা বলি। অনেকেই এখন "শিট" পড়বে কি পড়বে না তা নিয়ে হয়তবা ঝগড়া লাগাবে আমার সাথে। অনেকেই বলবে যে আমিতো ৩ মাস শুধু "শিট" পড়েই বুয়েটে টিকলাম।

কথাটা মোটেও ঠিক নয়। "শিট" পড়ে টিকা সম্ভব একমাত্র তাদেরই যাদের ব্যাসিক চরম। যারা কিনা এইচ.এস.সি এর ২ বছর চরম খুঁটিনাটি বের করে পড়েছে। তারা ছাড়া শুধুমাত্র শিট পড়ে টিকা পাবলিক কম। তো সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের আমি বলবো যেন শিট তোমরা না পড়/ টেকনিক শিখায় কোচিং-এ এই খুশিতে লাফাইয়ো না।

কারন দিনশেষে এক্সাম হলে ওসব মনে থাকবেনা। যাই হোক, তোমরা আস্তে আস্তে পড়তে থাকো বই ধরে ধরে। যারা অনেক পারে তাঁদের সাথে তোমরা(যারা একটু কম পারো) কম চলাফেরা করো। কারণ এতে করে তুমি মানসিকভাবে শক্ত থাকবে; ভাল স্টুডেন্ট দের থেকে দূরে থাকলে। উদ্ভাসের পরীক্ষায় খারাপ কইরা কাইন্দ না।

বই পড়লে, শিট না পড়লে উদ্ভাসের পরীক্ষায় খারাপ করবা এটা জানি তখন আমাকে না গালি দিয়ে দয়া করে বই-ই পড়। কাজে দিবে বুয়েটে। বেসিক ঠিক রাখো। অংক ঘুরাইলে এমনেই পারবা। আর তোমাকে তো আর সব উত্তর করতে হবেনা।

টার্গেট ঠিক করবা একটা। ৪৫০ এর কমের যেকোনো টার্গেট ঠিক করবা। যাই হোক, অনেকক্ষণ পেচাল পারলাম। তোমাদের ভালো লাগলে আমার উপায়টা অবলম্বন করতে পারো। তবে বেষ্ট হয়- নিজে কোন পন্থা বের করলে।

কারণ সবার স্টাইল আলাদা। আমার বুয়েটে টিকার পেছনের মানুষগুলোঃ আল্লাহর করুণা, জহরলাল সরকার স্যার, আব্বু, আম্মু, তিতাস স্যার, এলেন স্যার, ইমু ভাই, মিলন ভাই, চমক ভাই। মূল লিংকঃ এখানে ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে ৫১ বার     বুকমার্ক হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.