আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

হাবি-যাবি কত কি যে মনে পরে!!

যে বিশ্বাস নিয়ে একটা ছোট্ট শিশু হেসে ওঠে তাকে পরে ছুড়ে দেয়া হলে, তেমনি বিশ্বাস আমি করি তোমাকে। আমি জানি তুমি দুঃখ কখনও দেবেনা আমাকে। ২০০২ সালে আমার এক কলিগ ছিল। আজ বেশ কিছু দিন যাবৎ তার কথা ভীষণ মনে পড়ছে। আমি recently একটা university তে join করেছি।

সেখানে কলিগদের দেখলে তাকে যেন আমি আরও বেশি miss করছি। MABS নামক বাংলাদেশের একটি স্বনামধন্য কোচিং সেন্টারে ২০০২ সালে তার সাথে আমার পরিচয়। তিনি ছিলেন পদার্থ বিদ্যার শিক্ষক, আমি ইতিহাসের। আমি তখন সবে মাত্র এইচ.এস.সি. পাশ করেছি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

সম্ভবত micro biology, applied physics/chemistry এমনই কিছু একটা বিষয়ে পড়তেন। তার নামটাও ঠিক মনে পরে না। শফিক বা শরিফ ছিল নাম। এমনই প্রখর স্মৃতিশক্তিধারী আমি তাকে ভীষণ মনে করি। নামটা এমনই তার, যে ফেইসবুকে খুজে পাওয়া খড়ের গাদায় সুচ খুজবার থেকেও বুঝি বেশি কঠিন।

তাই সে চেষ্টাও করিনি, করিনা। মনে পরে কলিগদের মধ্যে একমাত্র তিনিই আমাকে সব থেকে আপন করে নিয়েছিলেন। নাম ধরে ডাকতেন, তুমি করে বলতেন। আমি সেই কোচিং সেন্টারের ছাত্রী ছিলাম, সে সুবাদে পরবর্তিতে আমার শিক্ষকরাও আমার কলিগ হয়ে যায়। তারা ভুলে যায় শিক্ষক সব সময়ই শিক্ষক।

তারাও ভদ্রতাবশত আমাকে Madam/ma’m ডাকতেন, আপনি করে বলা শুরু করেন। আমি ভীষণ রাগ করতাম, অভিমান হত। মানুষ আমাকে দূরে ঠেলে রাখলে ভীষন রাগ হত আমার। আর আপনি করে বললে আমার মনে হয় আমাকে কেউ পর করে দিচ্ছে। তার উপর আমি তাদের ছাত্রী!! যাহোক, ইদানীং তাকে সব থেকে বেশি মনে পরে যখন পরীক্ষার হলে invigilation এ যাই।

কোন বিচিত্র কারনে প্রথম দিন থেকেই “রাগী” বলে সুখ্যাতি ছিল আমার, যা বর্তমান কর্মক্ষেত্রেও বহাল তবিয়তে অক্ষত আছে। সে যাই হোক, এত সুন্দর হেসে, বকা না দিয়ে কথা বলেও বিদ্যার্থীরা আমাকে যমের মত ভয় পায়। সে বোধ করি আমার চেহারার দোষ। পরীক্ষার আগে বোধ করি ওরা ২ রাকাত নামাজ পড়ে আসে যেন হলে আমি invigilate না করি এই প্রত্যাশায়। আমার সেই শরীফ/শফিক ভাই শান্ত-শিষ্ট মানুষ।

ছাত্র-ছাত্রীরা তাকে গ্রাহ্যই করেনা। তাকে যখনি কোন রুমে invigilation এর দায়িত্ব দেয়া হয়, তিনি ছুটে আসেন আমার কাছে। আমি যেন তাকে সাহায্য করি। বাচ্চা-কাচ্চাগুলো আমাকে দেখলে তবু ভয়ে চুপ থাকত। মনে পরে তার interview এর কথা।

আমি পন্ডিত, সেখানকার ছাত্রী হবার সুবাদে interview ছাড়াই যোগদান করেছিলাম। তার ভাগ্যে বিড়ম্বনা ছিল। তার থেকে বেশি আমার ভাগ্যে। আমি এইটুকু মানুষ, সেই মুরুব্বিদের viva board এ থাকব। তাদেরকে বিচার করে নম্বর দেব।

ইস! কি ভয়াবহ ব্যপার ছিল সেদিন। Viva তে মঞ্জু সার উনাকে প্রশ্ন করলেন, মাধ্যাকর্ষন শক্তি না থাকলে কি হত? তিনি কি জবাব দিয়েছিলেন এই মুহুর্তে মনে পরছেনা, কিন্তু মঞ্জু সারের জবাবটা ঠিক খেয়াল আছে। তিনি বলেছিলেন, কোন কিছুই সে ক্ষেত্রে স্থির থাকতনা। মানুষও ঘুরত, সেই সাথে সব বর্জ পদার্থও। এবং ভয়াবহ হত এর পরিনতি।

আরও একজন কলিগ ছিল আমার। জামান ভাই। তিনি কি পড়াতেন মনে পরে না। পড়ানোর পাশাপাশি যে আর কি করতেন, তাও ঠিক মনে পড়েনা। তবে তার ব্যপারে একটা কথা খুব মনে পরে, তিনি আগুন গরম চা এক নিঃশ্বাসে খেয়ে নিতেন।

মনে পরে কবিতা আপুর কথা। স্বামী তাকে কতই না ভালবাসত। রোজা রেখে তার কষ্ট হবে, এই ভেবে রোজার মাসেও প্রতিদিন ভাইয়া তার জন্য খাবারের প্যাকেট হাতে আসত এবং বসে থেকে খাইয়ে যেত। ভালবেসে বিয়ে করেছিল। মেয়ের বাবাকে কথা দিয়েছিল মেয়েকে সর্ব সুখ দেবে।

কখন কোন কষ্ট মেয়ের হবেনা। কিন্তু যদি জানত! যদি পরকাল বলে কিছু থেকে থাকে, সেদিনের জন্য আজন্ম দুঃখ বরাদ্দ করে দিচ্ছেন!!! আজ বেশি করে তাদের কথা মনে পড়ল, কারন, আমার নতুন চাকরীর নতুন পাওয়া এক কলিগ আজ আমার কাছে এসেছে। আমি একটা রুমে invigilation এ ছিলাম। পরীক্ষা শুরু হয়েছে ১০ মিনিট হয়। তিনি হন্ত-দন্ত হয়ে এসে বলছেন, ম্যাডাম, একটু ৬০১ নম্বর রুমে যেতে হবে।

আমি জিজ্ঞেস করলাম কেন। তিনি বললেন, ছাত্ররা নাকি তার কথা শুনছেনা। বই রাখছে না। পরীক্ষার সময় চলে যাচ্ছে। শুনেই হাসি পেয়ে গেল।

আমার জীবনটা কি এই করেই কাটবে? মানুষের ভয়ের কারন হয়ে? ।


এর পর.....

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।