আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

আজ আমার অনার্সের শেষ ক্লাস ও প্রিয় স্যার!

i m lost আজ আমার অনার্সের শেষ ক্লাস। ২০০৮সালের সেই দিনইনা ভর্তি হয়েছিলাম আমার প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামে। সময় বড়ই নির্মম। কখন যে আমার জীবনের চারটি বছর চলে গেল তা টাওর করতে পারি নি। আজ যদিও আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ ক্লাম কিন্তু সে সম্পর্কে অনেক আগে লিখেছি।

আজ আমার ইচ্ছা হল আমার প্রিয় রাকিব স্যার সম্পর্কে এমন একটা লিখা লিখব যা সম্পাদকীয়তে আসবে। প্রিয় কিংবা জনপ্রিয় ব্লগারদের মত এমন একটা লিখা স্যারকে উপহার দেয়ার স্বপ্ন আমার যে লিখাটা বার বার পড়তে মন চাইবে পাঠকের। হাজার বার পড়লেও মনে হবে প্রতিবার নতুন করে পড়ছি। কিন্তু সে যোগ্যতা কি আমার আছে??তবু আমার প্রিয় স্যার সম্পর্ক কিছু লিখছি। আজও ক্লাসে আসতে দেরী হল আমার।

স্যার আমার আগে ক্লাসে ঢুকলেন। আজ আমার প্রিয় স্যারকে অন্য রকম মনে হচ্ছিল। আমি আমার প্রিয় রাকিব স্যারের কথা বলছি। স্যার আমাদের দিকে তাকিয়ে কি যেন ভাবলেন। আমার কাছে মনে হল কান্না আড়াল করার মিথ্যা অভিনয়।

স্যারের সাথে আমার শেষ ক্লাস!!!নিজেকে বিশ্বাস করাতে পারছিলাম না আমার প্রিয় রাকিব স্যার আর আমাদের ক্লাস নেয়ার জন্য ক্লাসে আসবেন না। স্যার আর আমাদের ক্লাস নেয়ার জন্য আসবেন না মনে হতেই নিজেকে অপরাধী মনে হল। মনে হল অনার্স শেষ করেই আমি সবচেয়ে বড় অপরাধ করেছি। না হলে স্যার কেন আপনি ক্লাসে এসে আমাকে আর বলবেন না আনিক কই?? স্যার,আপনার মনে আছে কিনা জানি না তবে আমাদের প্রতি আপনার এই ভালাবাসা কিভাবে ভুলব স্যার?আপনার অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল কাপ্তাই শিক্ষা সফর সেই প্রথম বর্ষেই। ক্ষিধার কথা আপনাকে জানাতেই আপনি আপনার ভাগের একমাত্র আপেলটি আমাকে দিয়ে দিয়েছিলেন।

সত্যিই এক অসাধারন অভিবাবক স্যার আপনি। জাহিদ,শাকিলরা বলেছিল সবাই আপনার অফিসে গিয়ে ছবি তোলব কিন্তু আমি পারিনি। আপনার অফিসে গিয়ে আপনার কাছ থেকে বিদায় নিতে পারব না আমি। কাপা গলায় বলতে পারব না স্যার আমাদের ক্ষমা করে দিয়েন। যদি লিখাটা পড়েন তাহলে এর মাধ্যমে ক্ষমা করে দিবেন স্যার।

সবশেষে ক্লাস থেকে বের হওয়ার পূর্বে আপনার সেই বিদায়ী কথাগুলো আমার আজীবন মনে থাকবে। আপনি বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনার আর আমদের আগমন একই সাথে। আপনি যখন এখানে যয়িন করেন ঠিক সেই সময় আমরাও ভর্তি হই। আপনি বলেছেন আপনার আর আমাদের সম্পর্ক শুধু ক্লাস নির্বর কোন সম্পর্ক নয়। এই সম্পর্ক ক্লাসের উর্দ্ধে আরো গভীর একটি সম্পর্ক।

স্যার আজকে থেকে ২৫/৩০ বছর পর???কেমন হবেন আপনি??আপনার চোখে ছানি পড়বে। চশমা ইউজ করবেন আপনি। আমি চিঠি লিখব আপনাকে.......... প্রিয় স্যার! আপনি আমাকে চিনতে পেরেছেন ? ভাবছেন এইটা আবার কে ? হয়তবা চশমাটা নাকের আরও ওপরে তুলছেন । আচ্ছা পরিচয় দিই। আমি আপনার ছাত্র যাকে বলেছিলেন ক্লাস না করার কারনে প্রাপ্ত নম্বর থেকে পাচ নাম্বার কেটে রাখেবন।

আমি সেই আনিক বিন রশিদ যে কিনা শুধু আপনার ক্লাস করার জন্য মূল্যবান ঘুম নষ্ট করে ক্যাম্পাসে ছুটে আসত। পরিমলরা যখন আমাদের দেশের আদর্শ শিক্ষকদের সম্মান নষ্ট করে তখন পরিমলকে নিয়ে লিখা আমার লিখাটি শেষ না করেই আপনার ক্লাস করার জন্য দৌড় দিতাম............... আরেকজনের মনে স্হান করে নেয়া এত সহজ না স্যার। আর আপনি আমার মনের সেই জায়গাটি কেমন করে দখল করলেন তা আপনিই ভাল জানেন। (স্যারের সাথে রযেছে আমার মোবাইল নিয়ে এক অসাধারন স্মৃতি। সেটি নিয়ে আরেকদিন লিখব।

) ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।