আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

দাঁতের ব্যাথা থেকে হার্টের ব্যাথা!

অনেকের মনে একটা ধারণা বদ্ধমুল আছে দাঁত ব্যাথা হলে বুঝি দাঁত তুলে ফেলাটাই ভাল। অর্থাৎ দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো। কিন্তু ক্ষেত্রে ধারণাটি পুরোপুরি ভ্রান্ত। পশ্চিম দুনিয়ায় দাঁত তোলার রেওয়াজ প্রায় নেই বললেই চলে। সেখানে দাঁতের সংরক্ষণের গবেষণাতেই মত্ত ডেন্টাল সার্জনেরা।

আমাদের দেশেও এখন অনেক চিকিৎসা কেন্দ্রে এই ব্যাথা দাঁত রেখে দেওয়ার কাজটি করে যাচ্ছেন দন্ত চিকিৎসকরা। কিন্তু কজন জানেন ব্যাথা দাঁত তুলে ফেললে শরীরে উঁকি মারতে পারে রকমারি রোগ। দেখা যাক এ ব্যপারে চিকিৎসক মহল কী বলেন… অস্থিশল্যবিদদের মতে শরীরের যে কোনও অঙ্গের মতো দাঁতের সংরক্ষনই শ্রেয়। দাঁত তুলে ফেললে শুধু যে সৌন্দর্যই ব্যাহত হয় তা নয়, পাকস্থলীর সমস্যাও দেখা দেয়। চক্ষুশল্যবিদেরা অকপটে স্বীকার করেছেন যে দাঁতে কোনও ইনফেকশন থাকলে চোখের অপারেশন করা যায় না।

আগে দাঁতের ইনফেকশন কমিয়ে তবেই চোখের সার্জারি করা যায়। ইনফেকশন কমানো উচিৎ দাঁতের সংরক্ষন করে। কারণ যে কোনও অঙ্গের মতো দাঁতের সংরক্ষণই শ্রেয়। এ ছাড়াও দেখা গেছে দাঁতে ব্যাথা হলে অনেক সময় চোখে রেফারড পেন হয়। হার্ট স্পেশালিষ্টদের মতে হলো হার্টের কোনও ভালভ বা কপাটিকা ক্ষতিগ্রস্থ থাকলে (রিউম্যাটিক ভালভ বা ডিজেনারেটেড ভালভ) অথবা কোনও কনজেনিটাল হার্টের সমস্যা (যেমন ভেন্ট্রিকুলার সেপটাল ডিফেক্ট, অ্যাটরিয়াল সেপটাল ডিফেক্ট ইত্যাদি) থাকলে দাঁত তোলার সময় হার্টের সমস্যা হতে পারে।

অর্থাৎ দাঁত তোলার সময় যদি ব্যাকটিরিমিয়া হয় অর্থাৎ প্রচুর পরিমাণে ব্যাকটিরিয়া রক্তে প্রবেশ করে তাহলে তা হার্টের ক্ষতি করে। ফলে উপযুক্ত এন্টিবায়োটিক কভারেজে প্রতিটি দাঁতের সংরক্ষণই শ্রেয় এবং অবশ্যই আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত টেকনোলজি প্রয়োগের মাধ্যমে। তাঁরা সাধারণ মানুষের স্বার্থে আরও বলেন যে, যদি কোন ব্যক্তির পেসমেকার বা প্রস্থেটিক ভালভ থাকে তবে দাঁত তুললে হার্টের ক্ষতি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে কনজারভেটিভ পদ্ধতিতে দাঁতের সংরক্ষণ করাই যথার্থ। এই তথ্য গুলি অনেকেরই হয়তো জানা নেই।

তাই সাধারণ মানুষের ধারণা দাঁত ব্যাথা হলে তার একমাত্র চিকিৎসা হল দাঁত তুলে ফেলা। কিন্তু একটি বেদননাকাতর দাঁতকে বেদনাহীন অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে রাখতে এ দেশে কাজ করে যাচ্ছেন দন্তচিকিৎসাবিদরা। বিদেশের বিভিন্ন জার্নালে দাঁতের ইনফেকশন ও ক্রমাগত উৎপাটনের ফলে যে উপরোক্ত সমস্যাগুলো হচ্ছে, এ নিয়ে বিশদে আলোচনা হয়েছে। হাতের কোনও সমস্যা হলে যেমন আমরা তার যথাযথ চিকিৎসা করি, তেমনই দাঁত ব্যাথা হলে প্রকৃত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রয়োগে দাঁতের চিকিৎসা প্রয়োজন। দাঁত তুলে ফেলাটা সমাধান নয়।

দাঁত তুলে ফেললে শরীরে নানা সমস্যা দেখা যায়। আর্থিক দিক থেকেও সুরাহা দাঁত ব্যাথা হলে তা তুলে ফেলার খরচ সামান্য হলেও দাঁত উৎপাটনের ফলে হৃদযন্ত্রে যে সমস্যা দেখা দিতে পারে তার খরচ কারও অজানা নয়। শহর ঢাকাতে হৃদযন্ত্রের বিভিন্ন প্রকার চিকিৎসার খরচ ন্যূনতম পঞ্চাশ হাজার টাকা। একটু নামী-দামি জায়গা হলে কমপক্ষে দেড়-দু লাখ টাকা। অতএব আগে থেকে সতর্ক হওয়াই ভাল।

প্রসঙ্গত বলতে পারি আমেরিকানরা তাঁদের হার্ট সংক্রান্ত চিকিৎসার খরচ অনেকটাই কমিয়ে ফেলতে পেরেছেন দন্তচিকিৎসকদের কাছ থেকে সঠিক সময়ে পরামর্শ নেওয়ার জন্য। প্রতিটি অঙ্গের সুরক্ষার মতো বিশ্বমানের প্রযুক্তির সাহায্যে দাঁত সুরক্ষিত রাখতেই তারা সচেষ্ট। বেদনাকাতর দাঁতকে উন্নত টেকনোলজি প্রয়োগ করে বেদনাহীন করতে যে খরচ হয় তা ওই হৃদযন্ত্রের চিকিৎসার বিপুল খরচের বহুগুণ কম। আনুমানিকভাবে উন্নত ও আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তির সাহায্যে এক একটি দাঁতের ক্ষেত্রে এই খরচ চার হাজার থেকে দশ হাজার টাকা। দাঁত ব্যাথার রহস্য দাঁতের ক্ষয়রোগের ফলে দাঁতে প্রচন্ড ব্যাথা হয়।

দাঁতের বহিস্তর এনামেল এবং এর পরবর্তি ভিতরের স্তর ডেন্টিন। এই ডেন্টিন স্তরের পরই থাকে পালপ চেম্বার, যেখানে সূক্ষ রক্তবাহী স্নায়ু থাকে। দাঁতের ক্ষয়রোগের ফলে এনামেল ও ডেন্টিন ক্ষতিগ্রস্থ হলে স্নায়ু আক্রান্ত হয় ও পালপ চেম্বারে ইনফেকশন হয়। তখন দাঁতে ব্যাথা অনুভুত হয়। সমাধান দাঁত ব্যাথা হলে রোগীরাই বেশির ভাগ সময় বলেন যে – ডাক্তারসাহেব, দাঁতটা উঠিয়ে দিন না।

প্রথমেই মনে রাখতে হবে ইনফেকশন নিয়ে কখনওই কোনও দাঁত ওঠানো উচিৎ নয়। আর আজকাল দাঁত ওঠানোর যুগ চলে গেছে। দাঁতের সংরক্ষণ নিয়েই গবেষণা হচ্ছে। সূক্ষ যন্ত্রাংশের সাহায্যে কড়া জীবাণুমুক্তিকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে কড়া নিরাপত্তায় দাঁতের পালপ চেম্বারের ইনফেকশন বের করে সেখানে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় বিশেষ ফিলিং ম্যাটেরিয়াল। এভাবেই আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা পদ্ধতিতে একটি বেদনাকাতর দাঁতকে বেদনাহীন করা যায়।

এই পদ্ধতিটিতে ন্যূনতম পাঁচ বা তার বেশি সিটিং লাগে। পরবর্তীকালে ওই অসুস্থ দাঁতকে আরও শক্তপোক্ত করার জন্য ওই দাঁতের উপর একটি বর্মের মতো ক্যাপ( অবিকল দাঁতের রঙের এবং দাঁতের মতোই দেখতে খোলস )বসিয়ে দেওয়া হয়, যার সাহায্যে শক্ত জিনিষও খাওয়া যায়। তবে এই ক্যাপ প্রতিস্থাপনের খরচ সম্পূর্ণ আলাদা। দুর্ঘটনা জনিত কারণে বা অন্যান্য কারণে দাঁত ভেঙে গেলেও এই চিকিৎসা পদ্ধতি ধন্বন্তরি রূপে কাজ করে। ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে ১১ বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।