আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

নাম্বার ওয়ান আবুল খান

কিছুদিন আগে পত্রিকাতে দেখলাম স্তিভ জবস এর জীবনী নিয়ে ছবি বানানো হবে। দেখার পর আনন্দিত হওয়ার সাথে সাথে কেমন যেন বুকের বাম পাশটাতে একটু ব্যথা অনুভব করলাম। “যে দেশে গুণীজনের কদর নাই সেই দেশে গুণীজন জন্মাইতে পারেনা” একই সাথে ভাবতে লাগলাম এরা আমাদের দেশের মনিষীর এই কথাটা জানল কি করে এত দূরের দেশে থেকেও। পরে মনে হল মনিষী দাদার কোন নাতি পুতি হয়ত থেকে থাকবে তাদের দেশে। তার কাছ থেকেই হয়ত শুনে থাকবে।

আমরা কতই না হতভাগা দাদার দেশে থেকেও দাদার কথাটার মূল্য বুঝতে পারলাম না,আর কোথাকার না কোথাকার ইংরেজরা বুঝে ফেলল। অবশেষে ভাবলাম না আর বসে থাকা চলবেনা এই দেশের তরুণ হিসেবে আমারই এই দায়িত্ব নেয়া উচিৎ। আমি নিজেই করব গুণীজনের কদর অন্য কেউ করুক আর না করুক। এখন তো পরে গেলাম মহা ফাফরে কিভাবে করব গুণীজনের কদর। ভাবি আর ভাবি কিন্তু কোন কুল কিনারা পাইনা।

অবশেষে মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল, ভাবলাম আমিও ঐ ইংরেজদের অনুসরণ করে একটা ছবি বানিয়ে ফেলি না কেন। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পর তো আরেক বিপদ কাকে নিয়ে ছবি বানাই। আমাদের দেশে তো আর গুণীজনের অভাব নেই। অবশেষে চিন্তা করলাম গত কয়েক মাসে পত্র পত্রিকায় যার নাম সবচেয়ে বেশিবার স্মরণ করা হয়েছে সেই হতে পারে আমার প্রথম গুণীজন যাকে নিয়ে আমি আমার ছবি বানাতে পারি। পুরাই অস্থির বুদ্ধি।

এরপর শুরু হল পত্রিকা গাটাগাটি এবং দেখা গেল শুধু পত্রিকা না ফেসবুক থেকে শুরু করে ব্লগ পত্রিকা সব জায়গায় আমার সেই গুণীর মুখর পদচারণা। আমার সেই গুণীজনটির নাম সৈয়দ আবুল হোসেন ,আমাদের মাননীয় যোগাযোগ মন্ত্রী। তাকে নিয়ে কোন কোন জায়গায় এমনও কৌতুক দেখলাম... “যোগাযোগ মন্ত্রীর গাড়ির সামনে পড়ে একটা বাচ্চা গাধা মারা গেছে মন্ত্রী সাহেব গাড়ির ড্রাইভার কে বললেন গাধার মালিককে খুঁজে বের করতে কিন্তু ড্রাইভার যখন ফিরে আসলো তখন দেখা গেলো তার গলায় একগাদা ফুলের মালা মন্ত্রী জিজ্ঞেস করলেন, কি ব্যাপার? ড্রাইভার বলল, “মানুষজন আমার কথা ভুল বুঝতেছে... আমি বললাম, ‘আমি যোগাযোগ মন্ত্রীর ড্রাইভার। গাধার বাচ্চা মারা গেছে" সবাই এটা শুনে আনন্দ উল্লাস করতে করতে আমার গলায় ফুলের মালা পড়িয়ে দিলো !!!” কতই না অপমানজনক কথাবার্তা। দেখে আমি অত্যধিক ব্যথিত।

এবার ছবির নাম চূড়ান্ত করার পালা। কি নাম দেয়া যায় ছবির????চিন্তার বিষয়। দেখলাম আমাদের মন্ত্রী সাহেব যে সকল কাজ করছেন তাতে ছবিটার নাম “একাই একশ’’ দেয়া যেতে পারে। পরে ভাবলাম না নামটা বড়ই সেকেলে একটু আধুনিক হওয়া দরকার। নাম চূড়ান্ত করলাম “নাম্বার ওয়ান আবুল খান” ।

ভারি আধুনিক একখানা নাম পেয়ে তো আমি যার পর নাই খুশি। একটু বলে নেই আমার সেই গুণীজনটির কিছু কথা। গতকালকেই মনে হয় দেখলাম আমাদের পদ্মা সেতু হচ্ছেনা। কারণ কি ??? দুর্নীতি। আমার এই গুণীজনটি এমনি কাজ করেছেন যে শুধু সেতু হবে এই কথা বলাতেই ১০২১ কোটি টাকা খরচ হয়ে গেছে।

এটাকে বিশ্ব ব্যাংক দুর্নীতি হিসেবে দেখছে। কিন্তু তারা আমাদের গুণীজনটির কথা একবারও চিন্তা করলনা। সেতু করার জন্য কতবার মিটিং করতে হয়েছে সেখানে কি আমার গুণীজনটি শুধু পানি খেয়ে থাকবে নাকি?একটু গলা-টলা ভেজানোর জন্য হলেও তো চা খেতে হয়। তারা কি বুঝল না বুঝল বলে বসল এখানে দুর্নীতি হয়েছে। আমার গুণীজনটির কোন কথাই তারা শুনলনা।

এবার আসা যাক আরেক কথায়। এটা অনেকদিন আগেকার ঘটনা। সড়ক দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনা তো দুর্ঘটনাই সেটা সড়কে কিংবা বাড়িতে যেকোনো জায়গায় হতে পারে। সড়কে হল বলেই আমার গুণীজনটির নামে কত কি বলা হল বাড়িতে হলে কি বলত??অথচ উনি কত মহান কাজ করেছেন।

সরকার যখন জনসংখ্যা কমাতে ব্যর্থ তখন সড়ক দুর্ঘটনার খাতিরে হলেও তো কিছু মানুষ কমছে। আমরা কোথায় তাকে সাধুবাদ জানাব তা না উল্টো তাকে নিয়ে আজে বাজে কথা বলি। এটা মোটেই ঠিক না। উনি সড়কের এই নাজেহাল অবস্থার কথা শুনে নিজে দেখতে গিয়েছেন ময়মনসিংহ শহরে। কতজন যায় বলুন????অথচ উনি গাড়ি থেকে নামেননি সড়ক দেখতে গিয়ে এটাই তার দুষ।

এটা নিয়ে কত কথা...... যাইহোক ভাই আমার এই গুণীজনের আরও অনেক কথাই আছে। আমি সব বলতে চাইনা। অবশেষে একটা সমস্যার জন্য আপনাদের সহায়তা কামনা করছি। কোন স হৃদয়বান বেক্তি যদি ছবিটার জন্য আমাকে একটি স্ক্রিপ্ট লিখে দিতেন বড়ই উপকৃত হতাম। ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।