আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

(Part-3) 'ট্রানজিট'-এর সহজপাঠ। ট্রানজিট ও করিডোর কি, ভারতকে ট্রানজিট না করিডোর দেওয়া হলো?

5.ভারত- বাংলাদেশ ট্রানজিট না করিডোরঃ এই ব্যাপারে আমারদেশ পত্রিকার সম্পদকের কিছু লেখা অবতারণা করা যায় “চারদলীয় জোট সরকারের আমলে এসকাপ বাংলাদেশের জন্য এএইচ-১ এবং এএইচ-২ নামে দুু’টি আন্তর্জাতিক রুট এবং এএইচ-৪১ নামে একটি আঞ্চলিক রুটের প্রস্তাব করেছে। এর মধ্যে এএইচ-১ এবং এএইচ-২ মূলত ভারতেরই প্রস্তাব। এএইচ-১ রুটে এশিয়ান মহাসড়ক বেনাপোল দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে তামাবিল দিয়ে ভারতে পুনঃপ্রবেশ করবে। এএইচ-২ রুটের মহাসড়কটি বাংলাদেশের বাংলাবান্ধায় ভারত থেকে ঢুকবে এবং এএইচ-১এর অনুরূপ সিলেটের তামাবিল দিয়ে আবার ভারতে প্রবেশ করবে। এএইচ-৪১ রুটে একটি আঞ্চলিক সড়ক বেনাপোল দিয়ে ঢুকে বাংলাদেশের টেকনাফে থেমে যাবে।

এই সড়কটি আদৌ টেকনাফ পেরিয়ে মিয়ানমারে প্রবেশ করবে কি না, সেটিও এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করা হয়নি। সরকারি কার্যক্রমে পাঁচ বছর সংশ্লিষ্ট থাকার অভিজ্ঞতা থেকে আমার ধারণা হলো, একবার এএইচ-১ এবং এএইচ-২ মহাসড়ক দু’টি নির্মিত হয়ে গেলে তৃতীয় সড়ক অর্থাৎ আঞ্চলিক সড়কটির প্রস্তাব হিমাগারে নিক্ষিপ্ত হবে। কারণ, আঞ্চলিক সড়ক নির্মাণের জন্য তখন কোনো আন্তর্জাতিক ঋণ প্রদানকারী সংস্থাই অর্থায়নে এগিয়ে আসবে না। সে ক্ষেত্রে এশিয়ান হাইওয়ের নামে মূলত আমরা ভারতের চাহিদামতো একটি নয়, দু-দু’টি করিডর নির্মাণ করে দেবো । এএইচ-১ এবং এএইচ-২ রুটে বাংলাদেশ সংযুক্ত হলে ভারত ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার অপর কোনো রাষ্ট্রই যে লাভবান হবে না, এটাই বাস্তবতা।

চারদলীয় জোট সরকার এ বিষয়ে তাদের সঠিক অবস্থানটিকে যথেষ্ট যুক্তিসহকারে উপস্থান করে আন্তর্জাতিক মহলকে বাংলাদেশের সপক্ষে যে আনতে পারেনি, এটা তাদের ব্যর্থতা। বাংলাদেশের প্রস্তাবিত রুট অর্থাৎ এএইচ-৪১ নির্মাণে চীন ও মিয়ানমারের সক্রিয় সমর্থন না পাওয়াটাও আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে চারদলীয় জোট সরকারের পাঁচ বছরে যে কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি, এশিয়ান হাইওয়েবিষয়ক জটিলতা তার একটি বড় উদাহরণ” অতএবচারদলীয় জোট সরকার এএইচ-১ এবং এএইচ-২ রুটের এশিয়ান হাইওয়ে নাকচ করে দিয়ে দেশের জন্য ভাল না মন্দ করেছে তা লেখার শেষে আপনারা বিবেচনা করবেন । তাই প্রস্তাবিত ভারত-বাংলাদেশ ট্রানজিট- মূলত করিডোর না ট্রানজিট তা আমরা মাহমুদুর রাহমানের লেখা থেকে ভাল করে বুঝতে পারি । 6.পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ট্রানসিট: অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সাংবাদিকদের কাছে বলেছেন, 'ট্রানজিট নিয়ে বড় জোর একটা সেমিনার হতে পারে।

' অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্যে হতাশ হয়েছে বিশেষজ্ঞমহল। পৃথিবীর যেসব দেশে ট্রানজিট ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানে বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের গবেষণা করা হয় ট্রানজিটের সম্ভাব্য আয় নিয়ে। সেখানে বাংলাদেশে শুধু সেমিনারের মধ্যেই এত বড় একটি পদক্ষেপকে কেন আবদ্ধ রাখা হবে অনেকেই বুঝে উঠতে পারেননি। মিসরের সুয়েজ খালকে অনেকে রাজনৈতিক প্রভাবশালী অন্যতম ট্রানজিট মনে করে থাকেন। মিসর ১৯৫৬ সালে সুয়েজ খালকে জাতীয় করে মিসর সরকারের অধীনে নিয়ে আসে।

এর পর থেকেই সুয়েজ খালের আয় দিয়ে সে দেশে প্রভূত উন্নয়নকাজে ব্যবহৃত হয়েছে। সুয়েজ খালের মধ্যে যদি একটি জাহাজ প্রবেশ করে, তার ওপর বেশ কয়েক ধরনের ট্যাঙ্ ও ট্রানজিট ফি দিতে হয় সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষকে। যেমন এক হাজার টনের একটি জাহাজ প্রবেশের জন্য খাল কর্তৃপক্ষকে প্রদান করতে হয় চার হাজার মার্কিন ডলার। এই খরচের সঙ্গে বীমা খরচ যুক্ত করলে সুয়েজ খাল অতিক্রম করতে হলে একটি জাহাজকে আরো বেশি মার্কিন ডলার গুনতে হয়। জাহাজের টনের পরিমাণ যদি আরো বৃদ্ধি পায় তাহলে ট্রানজিট ফির পরিমাণও বৃদ্ধি পায়।

১০ হাজার টনের একটি জাহাজ সুয়েজ খাল অতিক্রম করতে কর্তৃপক্ষকে ৫০ হাজার ডলার ট্রানজিট ফি গুনতে হয়। ১০ হাজার টনের বেশি ওজনের কোনো জাহাজ যদি খালে প্রবেশ করে তাহলে, খাল কর্তৃপক্ষ ওই জাহাজের ওপর কত পরিমাণ ট্রানজিট ফি আরোপ করবে তা আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে। বেলারুশ থেকে গ্যাসের পাইপলাইন রাশিয়া হয়ে পোল্যান্ড, রোমানিয়া, এস্তোনিয়ায় পৌঁছে গেছে। এই পাইপলাইনের ওপর রাশিয়া উচ্চ হারে ট্রানজিট ফি আরোপ করে থাকে। সম্প্রতি রাশিয়া আরো উচ্চ হারে গ্যাস পাইপলাইনের ট্রানজিট ফি দাবি করলে বেলারুশ সরকার তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

ফলে রাশিয়া গ্যাসের পাইপলাইন বন্ধ করে দেয়, যার কারণে জার্মানি, পোল্যান্ড ও রোমানিয়ায় গ্যাস সঞ্চালন বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি ইউরোপীয় ইউনিয়ন পর্যন্ত গড়ায়। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশের মধ্যে রয়েছে ট্রানজিট ব্যবস্থা। তবে সেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কর্তৃক নির্ধারিত ফি নিয়ে থাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত প্রতিটি দেশ। বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ভারতীয় ট্রাক যাবে, বাংলাদেশের নৌবন্দর ভারতীয় জাহাজ ব্যবহার করবে আর তার বিনিময়ে বাংলাদেশ কোনো ধরনের ট্রানজিট ফি আরোপ করতে পারবে না, তাহলে বাংলাদেশের লাভ কোথায়? এই প্রশ্নের উত্তর সরকারকে জনগণের কাছে পরিষ্কার করতে হবে।

বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা বলছেন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বিধান অনুযায়ী ট্রানজিটের জন্য মাসুল আদায়ের সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। এক দেশের পণ্য অন্য দেশে প্রবেশের জন্য শুল্কসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যে সেবা দেয়, তার জন্য ওই মাসুল আদায় করা হয়। তা ছাড়া বিশ্ব শুল্ক কর্তৃপক্ষের বিধানে ট্রানজিট মাসুল আদায়েরও বিধান রয়েছে। এই বিধানের আলোকেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ট্রানজিট শুল্ক আদায় করা হচ্ছে। আর এ কারণে ট্রানজিট বাবদ ভারতের কাছ থেকে শুল্ক আদায় কেন করা হবে না, তা নিয়ে ব্যবসায়ীরা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

চলবে............... 'ট্রানজিট'-এর সহজপাঠ। ট্রানজিট ও করিডোর কি, ভারতকে ট্রানজিট না করিডোর দেওয়া হলো? (Part-1) ট্রানজিট'-এর সহজপাঠ। ট্রানজিট ও করিডোর কি, ভারতকে ট্রানজিট না করিডোর দেওয়া হলো? (Part-২) ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।