আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

লো বাজেট ভারতীয় মশলা বিহীন ভারতীয় থ্রিলার - ফায়ার্ড

কিছু লিখতে চাই। তাই এই পেজ। ফায়ার্ড ২০১০ সালের বানানো হিন্দী ছবি। নির্মাতা সাজিদ ওয়ারিয়র এর প্রথম ছবি এটি। মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন ট্যালেন্টেড ভারতীয় অভিনেতা রাহুল বোস ও মিলিজা রেডমিলোভিচ।

আরেকটি চরিত্রে দীনেশ লাম্বা। ইন্ডিয়ায় শুধু মাল্টিপেক্সের দর্শকদের জন্য খুব লো বাজেটের কিছু ছবি নির্মিত হয়। এই ছবিটি সেই ক্যাটাগরির। সিঙ্গেল স্ক্রিণ দর্শকদের কথা ভাবা হয় না বলে এই সব ছবিতে চিরচেনা ভারতীয় মশলা পাওয়া যায় না। গান-নাচ-মারামারি বিবর্জিত এই সব ছবিগুলো এই উপমহাদেশের বাইরে বেশ কদর পায়।

ফায়ার্ড ও পেয়েছে। ২০১০ সালে ১২ মে এই ছবিটির প্রিমিয়ার কানে হয়েছিল। ছবিটির প্রতি আমার ব্যক্তিগত আগ্রহ তৈরী হয় রাহুল বোসের কারণে। ভারতের দুজন পারফরমার রাহুল বোস আর কঙ্কণা সেন শর্মা - এদের কোন নিম্নমানের ছবি আমি দেখিনি। এই দুজন অভিনয় শিল্পীর সিলেকশনের প্রতি আমার আস্থা আছে।

সেই আস্থা থেকেই ফায়ার্ড এর প্রতি আগ্রহ। হতাশ হয়নি। ছবির মূল গল্পটি একটি সত্যি ঘটনা নিয়ে। ২০০৮ সাথে লন্ডনের অফিসের এক বস (সিইও) অর্থনৈতিক মন্দার কারণে একদিনে তার অফিসের প্রায় সবাইকে স্যাক করে, সেই রাতে অফিসে অতিরিক্ত ZAPRO - হতাশাদূরকারী ট্যাবলেট নেবার ফলে তার যা হয় - তা নিয়ে এই ছবিটি। (সচেতন ভাবে গল্পে এড়িয়ে চলছি, দর্শকের মজা নষ্ট না করার জন্য, কারণ এই ধরণের হরর-সাইকোথ্রিলার টাইপের ছবির শেষের মজাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

) রাহুল বোস ছবিতে সেই বসের ভুমিকায় অভিনয় করেছেন। অফিস থেকে শেষ মানুষটি চলে যাবার পরে ২ ঘন্টার তীব্র হেলুসিনেশনে ভোগা জয় মিত্তালের চরিত্রে নিজের সুনামের প্রতি অবিচার করেননি রাহুল। খুব লো বাজেটের ছবি ফায়ার্ড। মাত্র তিনটি চরিত্র, মূলত একটি রিয়েল লোকেশন ( খানিক আউটডোর আছে), কিছু গ্রাফিক্স এর কাজ ( যা এখন খুব সহজ খোদ ভারতেই) - এই নিয়ে উত্তেজনাটি ধরে রাখতে পেরেছে ফায়ার্ড। খুব আউটস্ট্যান্ডিং কোন ছবি হয়তো হয়নি, কিন্তু যাদের রাজ থ্রি, 19/20 এভিল রিটানর্স অসহ্য লাগে , অথচ হরর থ্রিলার ভাল লাগে - তাদের ছবিটি ভাল লাগতে পারে।

খুব কম সংলাপের এই ছবির নির্মাতা যে কোরিয়ান ছবি দ্বারা প্রভাবিত তা বোঝা যায়। অতিরিক্ত ভায়োলেন্সর কারণে ছবিটি ভারতে A রেটিং পেয়েছিল। এটাও হয়তো কোরিয়ান প্রভাব। মুম্বাই এর ফ্যাশন ডিজাইনার স্বপ্নিল শিন্ডে ছবিটির ওয়ারড্রোব করলেও ছবির পোস্ট হয়েছিল UK তে। ছবিটির একটি ট্যাগ লাইন আছে - মানুষই তার চারপাশকে নরক বানায়, যা আগুন তাকেও ছাড়ে না।

ফায়ার্ড একজন শীতল রক্তের সিইও - এর চিন্তাভাবনা করে করা অবিচারের চরম মূল্য দেবার গল্প। এবং সিনেমা হিসাবে ফায়ার্ড মন্দ না। কোন রকমের অ্যারেঞ্জমেন্ট ছাড়া এই ধরণের ছবি নির্মাতাদের উৎসাহী করে তুলতে পারে। ভাল ছবি নির্মাতাদের টাকা পয়সার অভাবের গল্প সব দেশেই চিরচেনা- কী হলিউড -কী মুম্বাই - কী কলকাতা - কী ঢাকা।  ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে ১৪ বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।