আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

IS IT A LOVE STORY???

আমার কিছু বলার ছিল তামিম। একজন শান্তশিষ্ট ছেলের নাম। বাড়ি-কলেজ-প্রাইভেট। এই তিন তার ঠিকানা। কখনও কারো সাথে কোন ঝগড়া-বিবাদ করে না।

মাটির দিকে তাকিয়ে যায়, মাটির দিকে তাকিয়ে ফেরত আসে। একজন বিশুদ্ধ ভাল ছেলে বলতে যা বুঝায়। তার বাড়ি হতে কলেজ দূর হওয়ায় নসিমন-করিমনে করে যাতায়াত করে। এলাকায় তার খুবই শুনাম। তার মত ছেলে নাকি দুইটা হয় না।

সে এলাকার মেয়েদের চোখেরমনি। কিন্তু তা হলে কি হবে? এসব বিষয় সে বুঝেই না। বিশুদ্ধ ভাল ছেলে বলে কথা! সেদিন তাদের কলেজের নবীনবরণ। তাদের পাশেরবাড়ির একটি মেয়ে এবার তাদের কলেজে ভর্তি হয়েছে। তামিমকে দেখেই সেই মেয়েটি খুবই আগ্রহেরসহিত এসে প্রশ্ন করলো কেমন আছেন? ভালো।

শুধু এই ক্ষুদ্র উত্তরটি দিয়ে এড়িয়ে গিয়েছিল তামিম। মেয়েটি নিশ্চই সেদিন অনেক কষ্ট পেয়েছিলো। কেননা, সে যে আরো বেশি কিছু আশা করেছিলো!!! তারপর হতে তারা রোজ একস্থান হতে ‍কলেজে যায়। কিন্তু কারো সাথে কেউ কথা বলে না। মেয়েটি তামিমের দিকে তাকালেও তামিম তাকায় না।

পাঠক! কি ভাবছেন? মেয়েটি সুন্দরি নয়! তবে বলি শুনুন, তামিম যেমনি অদ্বিতীয় মেয়েটিও অদ্বিতীয়া। রূপে-গুণে-চরিত্রে-লেখাপড়াতে-আদব কায়দায় এলাকায় সেরা। সকল মুরব্বিদের চাওয়া, “আমার পুত্রবধূটি যদি এমন হতো!!!” জোর দিয়ে বলতে পারি যে, সে তামিমের চাইতে বেশি হবে কম না! তবে, মেয়েটির একটি দোষ ছিল। পাঠক কি ভাছেন? মেয়েটির কোন খারাপ দোষ আছে? তার দোষ এই, সে তামিমকে ভালবাসে। এখন কি ভাবছেন? তবে তামিম তাকে অবহেলা করলো কেন? এ যে আমারও প্রশ্ন!!! হয়তোবা সেদিনের ঘটনাটি ঘটবে বলেই....... সেইদিন ছিলো ৭ই এপ্রিল।

তামিমের ইয়ার টেস্ট পরীক্ষা। দুজনেই এসে দাঁড়িয়েছে সেই স্থান। এমন সময় তামিম হাঁকলো, “এই নসিমন!” অবাক হয়ে তাকালো মেয়েটি। ঠিক ধরেছেন পাঠক। মেয়েটির নাম নসিমন।

ছুটে আসলো তানিমের দিকে। কিন্তু ততক্ষনে নসিমন পরিবহনে করে যাত্রা করেছে তামিম। থেমে গেল নসিমনের ছুটে আসা। অবাকদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো, আর তখনই পিছন হাতে একটি ট্রাক!!! আহ্............। তাই বলে থামলো না তামিমের কলেজ যাওয়া! পরীক্ষা তাকে দিতেই হবে।

ভালোছেলে বলে কথা!!!! তারপর ৭ দিন কেটে গেল। এরমাঝে থানা-পুলিশ-পোস্টমর্টেম-দাফন সবই হয়ে। তামিম বসে পড়ছিল। তখন নসিমনের মা এসে তামিমের হাতে একটি ডায়রি তুলে দিল। ডায়রি খুলে তামিম অবাক! এর প্রতি ভাঁজে-ভাঁজে নসিমন লিখে রেখে গেছে শুধু তামিমেরই কথা।

এরপর হতে তামিমের জীবনে এক ব্যপক পরিবর্তন এলো। এখন সে তার আপনসঙ্গিঁ নসিমনের সেই ডায়রিটি। সময় পেলেই ডায়রিতে ছোট-ছোট গল্প লিখে। কিছু গল্পে ভালবাসার বিজয়, কিছু গল্পে ভালবাসার ক্ষয়, আবার কিছু গল্পে ভালবাসার ছেঁকা!!! এসবই যেন তার নসিমনকে নিয়ে কল্পনাতে গাঁথা মালা। ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।