আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

"সুনালী যুগের ইতিহাস" পর্ব-০২

আমি কাল মেঘকে ভাল বাসি,কারন সাদা মেঘ শুধুই তারার দেশে ঘুরে ঘুরে ফ্যাসন করে কিন্তূ কাল মেঘ তার জীবনের অস্থিত্বকে হারিয়ে দিয়ে দুনিয়াতে বৃষ্টি দিয়ে ফসল ফলায় করে।

ইসলামের জন্য হযরত তালহা ইবনে ওবায়দুল্লাহ (রাঃ) এর কষ্ট সহ্য করার ঘটনাঃ- হযরত মাসউদ ইবনে হিরাশ (রাঃ) বলেন, আমরা সাফা ও মারওয়ার মাঝে সায়ী করিতেছিলাম। এমন সময় দেখিলাম, বহু লোক ঘাড়ের উপর হাত বাঁধা এক যুবকের পিছনে পিছনে যাইতেছে। আমি জানতে চাইলাম, এই যুবকের কি হইয়াছে? লোকেরা বলিল এই যুবকের নাম তালহা ইবনে ওবায়দুল্লাহ। সে বেদ্বীন হইয়া গিয়াছে। যুবকটির পিছনে একজন মহিলাকে দেখিলাম তাহার প্রতি রাগান্তিত হইয়া গালাগাল দিতেছে। আমি জানতে চাইলাম মহিলাটি কে? লোকেরা বলিল,যুবকের মা সা'বাহ বিনতে হাযরামী। ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে তালহা (রহঃ) বলেন, হযরত তালহা ইবনে ওবায়দুল্লাহ (রাঃ) বলিয়াছেন যে,আমি বসরার মেলায় ছিলাম। সেখানে ইবাদত খানায় একজন পাদ্রী ছিল। সে বলিল, মেলায় লোকদের জিঙ্ঘাসা কর, তাহাদের মধ্যে হারাম অর্থাৎ মক্কার অধিবাসী কোন লোক আছে কিনা? হযরত তালহা (রাঃ) বলেন, আমি বলিলাম, হাঁ, আমি আছি। সে জিঙ্ঘাসা করিল, বর্তমানে আহমদ (সাঃ) এর আবির্ভাব ঘটিয়াছে কি? আমি জিঙ্ঘাসা করিলাম, আহমদ কে? সে বলিল, আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিবের পুত্র। এই মাসেই তাহার আবির্ভাব ঘটিবে। তিনিই শেষ নবী। হারামে অর্থাৎ মক্কায় তাহার আবির্ভাব ঘটিবে এবং তিনি এমন স্থানে হিজরত করিবেন যেখানে খেজুর বাগান ও প্রস্তরময় লোনা যমীন হইবে। এমন যেন না হয় যে, লোকেরা তোমার পূর্বে তাহার অনুসারী হইল আর তুমি পিছনে পড়িয়া রহিল। হযরত তালহা (রাঃ) বলেন, পাদ্রীর কথাগুলো আমার অন্তরে স্থান করিয়া লইল। সুতারং আমি দ্রুত রওয়ানা হইয়া মক্কায় পোছিলাম এবং জিঙ্ঘাসা করিলাম, নতুন কোন ঘটনা ঘটিয়াছে কি? লোকেরা বলিল,হাঁ, আল-আমীন নবুয়তের দাবী করিয়াছে এবং ইবনে আবি কুহাফা ( অর্থাৎ আবু বকর (রাঃ) তাহার অনুসারী হইয়াছেন। হযরত তালহা (রাঃ) বলেন, আমি হযরত আবু বকর (রা) এর নিকট গেলাম এবং বলিলাম, আপনি কি এই ব্যাক্তি ( অর্থাৎ মুহাম্মদের) অনুসরন করিয়াছেন? তিনি বলিলেন, হাঁ,তুমি চল এবং তাহার নিকট যাইয়া তুমিও তাহার অনুসরন কর। কারণ তিনি সত্যের প্রতি আহবান জানাইতেছেন। অতঃপর হযরত তালহা (রাঃ) হযরত আবু বকর (রা) কে সেই পাদ্রীর কথগুলো শুনাইলেন। তারপর আবু বকর (রা) তাহাকে মুহাম্মদ (সা ) এর নিকট নিয়া গেলেন এবং হযরত তালহা (রাঃ) সেখানেই ইসলাম গ্রহন করিলেন। অতপর পাদ্রীর কথাগুলো রাসুল (সাঃ) কেউ শুনাইলেন। তিনি শুনিয়া তাহারও মন খুশীতে ভরিয়া উঠিল। হযরত আবু বকর ও হযরত তালহা (রাঃ) উভয়ে ইসলাম গ্রহনের পর নওফাল ইবনে খুওয়াইলিদ ইবনে আদারিয়াহ তাহাদের উভয়কে এক রশিতে বাঁদিলেন কিন্তু বনু তাইমের লোকেরা তাহাদের কোন সাহায্য করিল না। নাওফাল ইবনে খুওযাইলিদকে কোরাইশের সিংহ বলা হইত। এক রশিতে বাঁদার কারনেই তাহাদের নাম কারীনাইন (অর্থাৎ দুই সঙ্গী) হইয়াছিল। উল্লেখ্য উপরোক্ত উভয় সাহাবীই ছিলেন সেই ১০ জন ভাগ্যবান সাহাবীদের অর্ন্তভুক্ত যাদেরকে দুনিয়াতে থাকতেই জান্নাতের ঘোষনা দেওয়া হইয়াছিল।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।