আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

percentage কম নাকি???



তখন আমি ক্লাস টেন এ ,মনের মাঝে বাংলা ছবির ক্লাইম্যাক্স এক দিন পরে টেস্ট পরীক্ষার রেজাল্ট দিবে।গোপন সুত্রে যাহা জানিতে পারলাম যে টেস্ট এ সবাই পাস কিন্ত যাদের percentage এ ঘাপলা আছে তাদের নাকি ফাইনাল পরীক্ষা দিতে দিবে না। আমার মাথায় অন্য চিন্তা আমি টেন এ স্কুল যাওয়ার ক্ষেত্রে খুব ই নিয়মিত থাকলেও ক্লাস থেকে স্কুল এর মাঠ ই আমার বেশী ভাল লাগতো। আমি মাঠে বসে পোলাপান ক্রিকেট খেলত আমি মুগ্ধ হয়ে দেখতাম, এমন না যে আমার খুব খেলতে ইচ্ছে করছে, পোলাপান ছুটাছুটি করছে টা দেখে ই আমার ভাল লাগতো। মনে মনে অনেক ভয় পাইলাম এক সময় আমার সিনেমা পার্টনার আনাস ( মাঝে মাঝে ওরে নিয়া এক সাথে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে সিনেমা দেখতাম ) বলল আমাদের স্কুল এর পিওন এর সাথে নাকি ওর ভাল যোগাযোগ আছে , পিওন রে ৫০ টাকা দিলে percentage পুরা ১০০ হবে , দরকার হলে বন্ধের দিন ও দিয়া দিবে। আমার নৌকার পাল এ বাতাস লাগল , মার ব্যাগ থেকে টাকাটা ছু মন্ত দিয়ে গায়েব করে অনিয়মিত ছাত্র থেকে নিয়মিত ছাত্র হলাম , মনে মনে খুব খুশি হলাম , আর আমি যে খুব বুদ্দিমান এটা ভেবে পরের দিন রেজাল্ট আনতে গেলাম একটা কথা শুনে খুব অবাক হলাম সবাই নাকি পরীক্ষা দিতে পারবে , কারণ সবার percentage ই ঠিক আছে। এই কথা শুনে খটকা লাগল সব পরীক্ষা দেয় কি করে আমি তো মাঝে মাঝে স্কুল এ যেতাম , অনেক ছেলে আছে যারা ভিডিও গেম এর দোকানকে ই নিজের স্কুল মনে করত। পরে যা জানলাম তা হল সাবাই নাকি ২০ টাকা দিয়া ই সব percentage পাইসে । মনে খুব কষ্ট পাইসি ,আনাস রে এই কথা বলায় ও বলল” দোস্ত মন খারাপ করিস না চল একটা সিনেমা দেখি , আমি টাকা দিবো “ আনাসের টাকায় সিনেমা দেখব তাই না করতে পারলাম না, যাক ৩০ টাকা বাচলে যে কাজে ব্যয় করতাম তা তো হয়ে ই গেল। রেজাল্ট যে দিন দিল তার কিছু দিন পরে গেলাম প্রবেশ পত্র আনতে, ঐ দিন এক হুজুর স্যার অনেক জ্ঞানী জ্ঞানী কথা বলছে,যা আমার কানে এখন ও বাজে।এই যেমন নামাজ পড়বা , বড়দের সালাম দিবা, সিনেমা হল এর দিকে পা দিবা না।অনেক কথা , অনেক উপদেশ দিলেন , এগুলা আমার কানে বাজলে কি হবে মনে তো আর বাজে না ,কথা আছে না ভালবাসার টানে পাশে আনে না কি জানি ??? স্যার ভুল জাইগায় ঢিল মারসে ,তাই মন ফ্রেশ করতে এক দিন ১২ টার শো দেখতে গেলাম ।আমি সব সময় সামনে বসে উপরের দিকে তাকিয়ে সিনেমা দেখতে ভালবাসতাম, কারণ আমি যে গুলা ই দেখসি সব ই থার্ড ক্লাস এ বসে দেখা, তাই টিকেট কিনতে হাতে টাকা দিয়ে বললাম মামা একটা থার্ড ক্লাস এ দেন দেখি, আচমকা কে জানি আমার হাত ধরল পরে দেখি আমাদের হুজুর স্যার, আমি ভাবসি স্যার আজ আমারে ফাটাইব , কিন্ত স্যার আমাকে এমন ভাবে সব কিছু বুঝাই বললেন আমি তখন আস্ফত একটা কথা ই বলতাম মানুষ এতো ভাল হয় কি করে, স্যার আমাদের বাড়ি ও এক বার গেসিলেন কিন্ত কখনও ই আমার দুর্বলতা গুলা আমার বাবা কে বলে দেন নি। ভাবছিলাম উল্টাপাল্টা কিছু লিখব এখন যখন স্যার এর প্রসঙ্গ এসে ই গেসে তাই স্যার নিয়ে ই কিছু লিখি।আমাদের স্কুল এ একটা নিয়ম ছিল যে যোহর এর নামাজ স্কুল এ সবার এক সাথে পড়তে হবে, না পড়লে মাইর কারে কয়?? তিনি এসে এই নিয়ম বন্ধ করে বললেন যার ইচ্ছা হবে সে ই শুধু নামাজ পরবে জোর করে নামাজ হয় না, যতক্ষণ কারো মন নিজ থেকে সারা না দিবে ততখন হাজার নামাজ পরে ও লাভ নাই। স্যার এর তিন ছেলে , দুই জন বুয়েট থেকে আর এক জন চট্টগ্রাম মেডিকেল থেকে পাস করে অনেক দিন ধরে ই দেশ এর বাইরে , হয়ত দেশ এর বাইরে যাওয়াটা স্যার এই কারনে ই পছন্দ করতেন না ।তাই তিনি একটা কথা সব সময় বলতেন তা হল যা করবে নিজের দেশে থেকে করবে ,আমার এই দেশ টা বড় ই অভাগা এই মা এর কাছে অনেক ঋণ আমাদের পারলে তোমরা একটু চেষ্টা করে দেখ এই ঋণ এর বোঝা কমান যায় কিনা।স্যার এর বেশী ভাগ কথা আমি না মানলে ও এই কথা টা যেন আমার মনে বাজে তা ই আমি চাই।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।