আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

"তবু অপেক্ষায়"

বেক্কলের মতো তাকায় আছি.....................।

" এই তুই আমাকে কি মনে করিস? " -টিকটিকির লেজ । " কি! এটা কেন?" -যতবার তোকে খসাই,তুই আবার আমাকে বের করিস । এজন্য তুই একটা টিকটিকির লেজ । " আমি টিকটিকি হলে তুই কি? তুই একটা গিরগিটি ।

" -টিকটিকি নাতো । লেজ,এমনিতে টিকটিকির অনেক সম্মান হানি করসি । " চুপ যা । গিরগিটি রং বদলায় আর তুই জায়গা বদলাস । তুই হলি জায়গা বদলানো গিরগিটি ।

" -তারপরও তোর থেকে মুক্তি মেলেনা । এবার কি পাগলামি করবি? " ল্যাম্পপোস্ট এর সাথে কথা বলব । " -কি বললি! তুই এসব পাগলামি থামাবি ? তোর জন্য আমার মাথাও নষ্ট হয়ে গেছে । সেদিন মাঝরাতে ঘুম ভাঙ্গার পর ফ্যান বলল 'বাবা আর কতো ঘুরবো আমি? আমারে একটু থামাও' । " কনগ্রেচুলেশন ।

তুইও তাহলে জড় বস্তূর কথা শোনা শিখে গেলি । আমি আগেই তোকে বলেছিলাম......" -চুপ যা টিকটিকি,ধমক দিয়ে ওকে চুপ করালাম । নয়তো সাহিত্য রচনা করত । আমি একটু বাচাল,অন্যের কথা বেশি শুনতে ভাল্লাগেনা ,নিজে বলতে ভাল্লাগে । একা থাকতে ইচ্ছে করছে ।

ওকে তাড়ানোর অজুহাত লাগবে । -এই আমার টিউশনি আছে । এখন যা । " রাতে তাহলে রেডি থাকিস " -হুম ওকে । মাঝরাত, একটু গরম আবার ঠাণ্ডা ।

শীতলতা আর উষ্ণতার মাঝামাঝি পর্যায় । আমি হাঁটছি চারুর পেছন পেছন । পীর ভক্তের মত চারুভক্ত । সাধু বাবা যেদিক যায় ভক্তেরা তার পিছু পিছু যায় । আমিও যাচ্ছি আর যাচ্ছি ।

-আর কত ল্যাম্পপোস্টের সাথে কথা কইবি চারু? চল খাম্বাপোস্টের লগে কথা কই । " খাম্বাপোস্ট মানে কি?" -দেখিসনা খাম্বার মধ্যে লাইট লাগানো । ওগুলা খাম্বাপোস্ট । " তোকে কতবার বলসি , উদ্ভট জিনিসের নাম বলবিনা আমার সাথে " -তুই উদ্ভট কাজ করতে পারবি আর আমি বলতে পারবোনা? " আমি উদ্ভট কাজ করিনা । কল্পনা করা কি উদ্ভট কাজ? মানুষ কত কিছু নিয়ে ভাবে ।

আমি নাহয় জড় পদার্থ নিয়ে ভাবলাম । " -হা রে আমিও একসময় আমাদের ব্যাচ এর কল্পনাকে নিয়ে কল্পনা করতাম । দুর্ভাগ্য মেয়েটার বিয়ে হয়ে গেল । " চুপ" আমি চুপ হয়ে গেলাম । দুজন এখন পাশাপাশি হাঁটছি ।

হলদে আলোতে একধরনের মায়া মায়া ভাব । ওকে দেখতে পরির মত লাগছে, হলুদ পরী । পাগলামির একা একদিন । সন্ধ্যার পর থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি পড়ছে । বছরের প্রথম বৃষ্টি ।

ক্রমেই বাড়ছে , আজ আর চারুর আসা হবেনা । আমার এখন পাগলামি করার ভুত চাপসে মাথায় । ভুতের ভয়ে পাগলামিটা করেই ছাড়লাম । বছরের প্রথম বৃষ্টিতে স্নান । গায়ে কাঁপুনি আসে আসে, হাটতে হাটতে বড় রাস্তায় চলে আসলাম ।

গত দুদিন ওর পাগলামিকে প্রশ্রয় দিলাম । আজ নিজেই পাগলামি করবো । ল্যাম্পপোস্ট এবং আমিঃ- আমিঃ কি খবর ল্যাম্প ভাই? আচ্ছা ল্যাম্পের কি লিঙ্গ আছে? এটাকি ছেলে নাকি মেয়ে? চারুকে জিজ্ঞেস করতে হবে । নাকি ল্যাম্পপোস্ট হিজড়া ? ধুর আগে কথা বলি । ল্যাম্পঃ কেমন আছি পরে অইব ।

আগে বলেন মাইয়াটা কই ? আমিঃ আমি বিয়ে করিনি মেয়ে কই পাব? ল্যাম্পঃ আরে ওই মেয়েটা যার পিছু পিছু হাঁটতেন । ইশ হাতটা কি নরম । আমিঃ আপনি অশ্লীল কথা বলেন কেন? লাম্পঃ অশ্লীলতাই জীবন । আমরা সবাই অশ্লীল । কেও বাইরে , কেও ভেতরে ।

যেখানে জন্ম নেয়াই একটা অশ্লীলতা সেখানে এটা কিছুইনা । আমিঃ নোবেল অফ অশ্লীলটা আপনাকে দেয়া উচিত । কল্পনা করলাম আমি । অশ্লীলতা আমার মধ্যেই । শুধু শুধু ল্যাম্প এর দোষ ।

আমি হাঁটা ধরলাম । বৃষ্টিতে ভিজতে ভালোই লাগছে । দু চারটা বৃষ্টি ফোঁটাকে যদি পোশ মানাতে পারতাম । চাঁদিফাটা রোদে তাদের ঝরতে বলতাম । ২ মনে হচ্ছে পুড়ে যাচ্ছি ।

ভয়াভয় কোন অগ্নিকান্ডের ভেতর আটকে পরলে যা হয় । জ্বরের মাত্রা কত জানা নেই , ঘোর লাগা জ্বর । ঘোরের মধ্যে দেখছি চারু আমার পাশে বসে আছে, জলপট্টি দিচ্ছে মাথায় । অনেক নরম সুরে মাঝে মাঝে জিজ্ঞেস করছে " এখন কেমন লাগছে? " -চরম রোম্যান্টিক লাগছে । ধমক খাওয়ার জন্য রেডি থাকলাম , নাহ ধমক খেলামনা উলটো হাসি শুনলাম ।

-তুই যদি এভাবে জলপট্টি দিস আর মিষ্টি করে হাসিস তাহলে সারাজীবন আমি এই অগ্নিকান্ডে থাকতে পারবো । এবারও হাসল সে । " আহান জ্বরতো অনেক । ডাক্তার ডেকে আনি আমি । " -কিসের ডাক্তার? তুই আমার ডাক্তার , পাশে বসে থাক ঠিক হয়ে যাবো আমি ।

একটু জোরে হেসেই বলল " আচ্ছা তাহলে চারুকেই ডেকে আনি " -চারুকে ডেকে আনি মানে? ঘোর কেটে গেল , দেখলাম চাচা-চাচী পাশের ঘরের । চাচী মাথায় পট্টি দিচ্ছিল । সকালে চারু আসলো । চাচা-চাচী সারারাত আমার পাশে ছিলেন আর আমি জ্বরের চোদ্দ গুষ্টিকে গালাগাল দিলাম। " তোমার ডাক্তার এসে গেল , আমরা যাই " চাচী বললেন ।

পাশে চারু এসে বসল । " বৃষ্টির সাথে ডেটিং মারতে গেসিলি নাকি? " -হা । বৃষ্টিটা বড় রোম্যান্টিক ছিলরে । ওর স্পর্শের উষ্ণতা আজো গায়ে লেগে আছে । " আমি মরার এক মিনিট আগে হলেও তোর ওই থোঁতা মুখটা ভোঁতা করে যাবো, বুজলি? " -না বুজিনি ।

বৃষ্টির মত রোম্যান্টিক করে বল । বুঝার ট্রাই করবো । আর কোন কথা বললনা চারু । ফাইজলামিটা হজম করছে । ওকে রাগাতে ভাললাগে আমার ।

রাগলে ও আর কথা বলতে পারেনা । চুপ করে থাকতে থাকতে ঘুমিয়ে পড়লাম । দুপুরে ঘুম ভাঙল তখনো চারু পাশে বাসে আছে । ওকে এবার বিদায় করলাম । অগ্নিদাহ থেকে অবশেষে মুক্তি মিলল ।

তবে এখন হ্যালুসিনেসন হয় । ঘুমের ঘোরে কখনো ফ্যান কখনো খাট কখনোবা জানালার কথা শুনতে পাই আমি । এইতো সেদিন খাট আমারে বলে " তুমিত সিঙ্গেল মানুষ এত নাড়াচাড়া কর কেন? " আমি তখন ধড়ফড় করে উঠে গেলাম । সেই থেকে এখন পর্যন্ত আমি নিচে শুই । একথা চারুকে বলিনি বললে হাসতে হাসতে দম আটকে মারা যাবে ।

আমি আর চারু এখন সামিনাদের বাসায় যাচ্ছি । সামিনা চারুর বন্ধু, আমারও বন্ধু । দেখতে পরীর মত । এমন মেয়ের বন্ধু হওয়াটা ভাগ্যের ব্যাপার । বুঝতেই পারছেন আমার সেই ভাগ্য আছে ।

সামিনা গত বছর বিয়ে করে । প্রেমের বিয়ে, ওর বাবা এতে যারপরনাই খুশি । বিয়েতে তার খরচ হয়নি তাই । সামিনারও মেন্টাল প্রবলেম আছে । সামিনার বরের নাম মফিজ ।

মফিজ সাহেব দেখতেও মফিজ টাইপের । সিঁথি করা চুল আর মোটা ফ্রেমের চশমা পুরাই আতেল । সামিনার ওনাকে কেন ভাল লাগলো আজো বুঝতে পারিনি । সেদিকে গেলামনা আর । ভালোবাসা বোজা আমার কম্ম না ।

আমাকে আর চারুকে একসাথে দেখে সামিনা অনেক্ষন আড়চোখে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল । আমি খুব নরম সুরে মিস্টি করে ওকে বললাম -সামু কেমন আছিস ? " ঢং ছাড় । আমার সাথে ঢং করবিনা । আমি ভালই । তুই কেমন আছিস? " -এক গ্লাস পানি খাওয়া ভাল থাকবো ।

আজ কোন একটা বিশেষ কারনে চারু অদ্ভুত আচরণ করছে । কোন কারন ছাড়া-ই সামিনাদের বাসায় আসলো । কিছু একটা বলবে বলবে করে বলছেনা । আমিও কিছু জানতে চাইনি উলটো আমার আজগুবি হ্যালুসিনাশন এর কথা বলে একা একা হাসলাম । সামিনা নাস্তা দিয়ে গেল ।

বেয়াদপটা ইচ্ছা করে পানি দেয়নি । এক গ্লাস কালো তরল সাথে বিস্কিট । আমি তৃষ্ণা মেটালাম সেই ঝাঁঝালো গোমূত্র দিয়ে । ভাবছেন গোমূত্র ঝাঁঝালো এতা কেমনে জানি? আমার এক চাচা নাকি, আপন চাচা না, দূর সম্পর্কের গোমূত্র পান করতেন । তার থেকেই শুনে শুনে সবাই বলে ।

পানির গ্লাস হাতে সামিনা ঢুকল । -আচ্ছা মফিজ ভাইকে তোর কি দেখে ভাল্লাগলো ? প্রশ্নটা সরাসরি করলাম । আমার উত্তর না জানা পর্যন্ত শান্তি হবেনা । সামু বিচলিত হলনা, যেন প্রস্তুত ছিল । " জানিনা আমি ।

তুই পারলে বের কর " - চ্যালেঞ্জ করছিস? " হুম চ্যালেঞ্জ । পারলে বলিস " আমার ওসব চ্যালেঞ্জ টেলেঞ্জ ভাল লাগেনা । নাস্তা খেয়ে একা বসে রইলাম । কেও নেই । মফিজ ভাই বই পরছেন ।

দুই বান্ধুবি রসালাপ করছে । সবই অন্দরমহলে । আর আমি বান্দরমহলে মানে বারান্দায় । হটাৎ রাস্তা থেকে একটা গানের আওয়াজ শুনলাম । ' ও টুনির মা গানটা ' ।

আমার মাথায় বাঁদরামি ভর করল । আমাকে একটু অভদ্র হতে হবে । আমার জন্য এটা কোন বেপারই না । আমরা সবাই ভদ্রতার মায়াজালে আটকা । সবার মনোযোগে আসার জন্য আমি উচ্চস্বরে গান ধরলাম ।

- ও বন্ধু লাল গোলাপি কই রইলারে , এসো এসো বুকে বউকে রাখব ধরে...। " ওই থাম তুই বিয়ে করিসনাই এখনো । বউ পাইলি কোথায়? " হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্ছে সামিনা । আমিও হাসলাম । চারু চুপচাপ, বিষণ্ণ ।

আমি এখনো জানিনা কেন আজ এমন করছে ও । জানতে ইচ্ছে করছে । " তোমার গানের গলা অনেক ভাল । নাম কি তোমার? " মফিজ ভাই বললেন । আমি আকাশ থেকে পরলাম , মাটিতে না একেবারে ডাস্টবিনে ।

মিনমিন করে জবাব দিলাম , -আমার নাম আহান । মফিজ মানুষটাকে আমার ভাল লেগে গেলো । কাউকে ভাল লাগলে তার কাছে থাকতে ইচ্ছা করে , বলতে ইচ্ছা করে । আমার কিছুক্ষনের জন্য মনে হল আমি অন্য জগতে আছি । যেখানে অকারনেও সবাই সবাই কে বাহবা দেয় ।

দুপুরের খাওয়া শেষে আমরা বের হলাম । আমি আর চারু, পাশাপাশি হাঁটছি । কোন একটা কারনে চারু আজ গাড়িতে উঠছেনা । আমিও হাঁটছি কিছু বললামনা । " আহান আমি চলে যাচ্ছি ।

" - যা , মানা করলাম কখন? " অনেক দূরে যাচ্ছি । " - ভালইতো , নতুন বাতাস লাগবে গায়ে । " আমি আর ফিরবনা " - না ফিরলে না ফিরবি । যেখানে ভাল লাগবে সেখানেই তো থাকবি তাইনা? " তুই আমার কথা বিশ্বাস করলিনা ?" - করবনা কেন? " তুই আমাকে বাধা দিবিনা? " - আমি কাওকে বাধা দেইনা । আমরা কেও কাওকে বাধা দিতে পারিনা ।

শুধু বাধা দেয়ার অভিনয় করি । " তুই আমাকে বুজিসনা একটুও " - তোকে বোঝার কি হল? তুইকি বীজগণিত নাকি পাটিগণিত যে বুঝতে হবে? আর কোন কথা শুনলাম না । শুধু ফোঁপানোর শব্দ । চারু কাঁদছে । সান্ত্বনা দিলামনা ।

সান্ত্বনা দিলে আবেগ প্রশ্রয় পায় । আবেগ কে প্রশ্রয় দিতে নেই । আমি আহান । ঝুম বৃষ্টিতে একা একা ভিজছি । বসে আছি ল্যাম্পপোস্ট এর নিচে ।

চারুর শেষ বার্তায় ও বলেছিল " জানি আসবিনা তবু অপেক্ষায় ৪টা ৩০মিনিট । " এখন ৫টা বাজে । আমি যাইনি । এখন ভেজাকাক হয়ে বসে আছি । আকাশ কাঁদছে ।

আমার সাথে । চারু কোথায় গেলো আমি জানিনা । আর কখনো ফিরবে কিনা তাও জানিনা । তবু অপেক্ষায় আজীবন । কোথা থেকে যেন সামিনা এলো ।

" আহান, তুই একটা কাপুরুষ " - তুই একটা কামহিলা । এত কষ্টেও কিভাবে আমি ঠাট্টা করছি? আমিকি মানুষ না? ঘৃণাভরা চোখে তাকিয়ে সামিনাও চলে গেলো । অবশেষেঃ- শেষ পংতি শেষে আমি আবার একা বাঁকা হাসি চড়ুই এর ঠোঁটে আর কদমফুল সেতো ঠাট্টায় মত্ত আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করে ...। ।


সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে ১১ বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।