আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

নেই’-এ কাবু রাজধানী



‘গত কয়েক দিন ধরে বাসার ওভারহেড ট্যাঙ্কে তোলা যায়নি এক ফোঁটা পানি। প্রথম রমজানের ইফতারের ঠিক দেড় ঘণ্টা আগে বন্ধ হয়ে যায় বাসার গ্যাস সরবরাহ। আর ইফতারের ঠিক ১০ মিনিট আগে চলে যায় বিদ্যুৎ। এরপর বাজার থেকে কিনে আনা একমুঠো ছোলামুড়িতে মোমের আলোয় পরিজনদের নিয়ে ইফতার। ’ এই দুঃসহ দুর্ভোগের কথাগুলো বলছিলেন রামপুরার পশ্চিম উলনের ১৪৩/৬ বাসার বাসিন্দা মোস্তাক আহমেদ।

শুধু তার পরিবার নয়, ওই এলাকার কয়েক হাজার পরিবার এমন দুর্ভোগের মধ্যে কাটিয়েছেন প্রথম রমজানের সেহরি ও ইফতার। রমজানের দ্বিতীয় দিনেও ওই এলাকার পরিস্থিতি বদলায়নি। গণমাধ্যমে খবর দেখে সকালে ওয়াসার কর্মকর্তারা ওই এলাকায় গেলেও তারা পানির সঙ্কটের কোন সমাধান করতে পারেননি। আর গ্যাসের অভিযোগ দেয়ার মতো কোন কর্তৃপক্ষই খুঁজে পাচ্ছেন না ওই এলাকার বাসিন্দারা। শুধু রামপুরা নয় রাজধানীর অনেক এলাকায়ই এখন চলছে পানি ও গ্যাসের তীব্র সঙ্কট।

আর বিদ্যুৎ। এই আসে এই যায়। কি সেহরি কি ইফতার, তারাবি। কাগজে কলমে লোডশেডিংয়ের সময়সূচি থাকলেও চলছে রীতিমতো ভেলকিবাজি। পুরো ঢাকায় সেই একই চিত্র।

রমজান শুরুর আগে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল রমজানে বাড়তি চাহিদার কথা বিবেচনা করে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হবে। তবে রমজানের প্রথম দিন উৎপাদন হয়েছে এর আগের দিনের চেয়েও কম। ফলে সারা দেশে এদিন লোডশেডিং অন্য যেকোন দিনের চেয়ে বেশি। সেহরি ও ইফতারে পারতপক্ষে লোডশেডিং না করার বিষয়ে বলা হলেও এই দুই সময়েই অন্ধকারে ছিল অনেক এলাকা। আর এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি ইফতার ও সেহরির সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে গত আগস্ট মাসে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়েছে ৪০৫২ মেগাওয়াট। বৃহস্পতিবার রমজান শুরু হওয়ায় এদিন ২০০ মেগাওয়াট অতিরিক্ত চাহিদাসহ সারা দেশে ৫৪০০ মেগাওয়াট চাহিদার কথা জানায় পিডিবি। আর এদিন সর্বোচ্চ চাহিদার সময় উৎপাদন হয় ৩৯৯৫ মেগাওয়াট। এর আগের দিন ৫২০০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন হয় ৩৯৮৮ মেগাওয়াট।

অর্থাৎ রমজান উপলক্ষে বাড়তি প্রস্তুতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে আগের দিনের চেয়ে মাত্র সাত মেগাওয়াট। রমজানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে আগাম প্রস্তুতি নেয়ার কথা বলা হলেও জুলাই মাসেও সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ৪১৬৯ মেগাওয়াট আর জুনে গড় উৎপাদন ছিল চার হাজার ৭৬ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাবে রমজানে ইফতারি ও সেহরির সময় প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদা রয়েছে। এ সময় উৎপাদন ল্য ধরা হয়েছে সাড়ে চার হাজার মেগাওয়াট। গতকাল পর্যন্ত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার কাছেও পৌঁছতে পারেনি।

এদিকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে ইতিমধ্যে কাফকো বন্ধ করা হয়েছে। ১৫ই আগস্ট এগ্রিকোর ১০০ মেগাওয়াটের কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্লান্ট উৎপাদনে আসার কথা। এছাড়া বড়পুকুরিয়ার সংরণ কাজের জন্য বন্ধ থাকা ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিটও দুই একদিনের মধ্যে উৎপাদনে আসবে বলে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। আর এতে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার আশা করছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এদিকে বিদ্যুতের এই অসহনীয় লোডশেডিংয়ের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তীব্র পানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

খিলগাঁও, গোড়ান, কাফরুল, পল্লবী, শ্যামলী, কল্যাণপুর, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, মিরপুর ১০, আজিমপুর, দনিয়া, যাত্রাবাড়ী, পোস্তগোলা, রামপুরা, বাড্ডা, নিউ ইস্কাটনসহ বিভিন্ন এলাকায় পানির অভাবে লোকজন ঠিকমতো সেহরি ও ইফতার করতে পারছেন না। রামপুরার পশ্চিম উলন এলাকার বাসিন্দা আবুল খায়ের জানান, গত কয়েক মাস ধরেই ওই এলাকায় পানি সঙ্কট চলছে। ওয়াসার কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করার পর একাধিকবার রাস্তা কাটাকাটি করা হলেও পানি সমস্যার কোন সুরাহা করতে পারেনি ওয়াসা কর্তৃপক্ষ। তিনি জানান, গত কয়েক দিনে ওভারহেড ট্যাংকে পানিই তোলা যাচ্ছে না। এলাকার লোকজন পানি কিনে এনে রান্নাবান্না সাড়ছে।

গতকাল সকালে ওই এলাকার পানি সমস্যা সরজমিনে দেখতে ওয়াসার কর্মকর্তারা ওই এলাকায় যান। পার্শ্ববর্তী পাম্পে সমস্যা থাকায় তারাও এলাকাবাসীকে কোন সুখবর দিতে পারেননি। নিউ ইস্কাটন এলাকায়ও গত কয়েকদিন ধরে পানির সঙ্কট চলছে। ওই এলাকায় দিনে এক বা দুইবার ওয়াসার লাইনে পানি এলেও তা ১০ বা ১৫ মিনিটের বেশি থাকে না। আর এই সময়ে লোডশেডিং চললে পানিরই দেখা মিলে না ওই এলাকায়।

পানি সমস্যার সমাধানে গতকাল এলাকাবাসী বৈঠক করেছেন। বাংলামোটর ও আশপাশের এলাকায়ও পানি সমস্যায় ভুগছেন এলাকাবাসী। খিলগাঁও, বাসাবো এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় পানি থাকে না। একই অবস্থা জুরাইন, পোস্তগোলা ও যাত্রাবাড়ী এলাকার বাসিন্দাদের। ওই এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পানি সঙ্কট পুরনো হলেও গত কয়েক দিনে এই সঙ্কট আরও তীব্র হয়েছে।

এখন দিনে এক বা দুইবার সর্বোচ্চ লাইনে পানি আসে। আর থাকে মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিট। সমপ্রতি গ্যাস সঙ্কট দুর্ভোগের নতুন অনুসঙ্গ হিসেবে দেখা দিয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। রাজধানীর কাফরুল, কদমতলী, মোহাম্মদপুর, ডেমরা, রামপুরা ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় গ্যাসের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এসব এলাকার কোথাও সেহরির সময় গ্যাস থাকে না আবার কোথাও ইফতারের আগে বন্ধ হয়ে যায় চুলা।

রামপুরা পশ্চিম উলন এলাকার গৃহিণী সালমা হাসান জানান, এই এলাকায় দীর্ঘ দিন থেকে গ্যাসের চাপ কম। কখনও আবার গ্যাস একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। পহেলা রমজানের দিনও ইফতারের ঠিক দেড় ঘণ্টা আগে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে রান্না না করেই ছোলামুড়ি দিয়ে ইফতার সাড়তে হয়। কাফরুলের বাসিন্দা মনিরুল হক জানান, বৃহস্পতিবার গ্যাস না থাকায় ওই এলাকার অনেক পরিবারে রান্নাবান্না হয়নি।


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।