আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

আর কত আমরা আমাদের ঠুনকো দেশপ্রেম আর হীনমন্যতা প্রকাশ করবো.....।

এসো ভাই , তোলো হাই , শুয়ে পড়ো চিত, অনিশ্চিত এ সংসারে এ কথা নিশ্চিত - জগতে সকলই মিথ্যা , সব মায়াময়, স্বপ্ন শুধু সত্য আর সত্য কিছু নয়। আমি এক পক্ষিয়ভাবে পাবনার জামিলকে দায়ী করতে নারাজ। জাতি হিসেবে বর্তমান সময়ে আমাদের চরম হীনমন্যতাই জামিলের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। মীরাক্কেল জাতীয় রিয়েলিটি শো গুলোতে সবকিছু আগেই ঠিক করে রাখা হয়। এখানে পারফর্মার এর চাইতে স্ক্রীপ্ট রাইটার এবং মেন্টরদের ভুমিকা বেশি থাকে।

সে ক্ষেত্রে যিনি স্ক্রিপ্ট লিখেছেন এবং যিনি ট্রেইনআপ করিয়েছেন কিংবা মিরাক্কেল এর পুরো টিম কিন্তু আগে থেকেই জানত জামিল কি পারফর্ম করবে। তারা যেনে শুনেই কিন্তু জামিলের পারফর্মেন্স এ্যাপ্রুভ করেছেন। জামিলদের মত রুট লেভেলের ভাঁড় যখন দেশেরে কোথাও চান্স না পেলেও দেশের গন্ডি পেরিয়ে পাশ্ববর্তী দেশের বড় সেটে স্থান পায় তখন তারা জাস্ট পুতুলে পরিণত হয়। তাদের কাছে ওই দেশ স্বর্গ সমতুল্য হয় আর ওই দেশের কিংবা ওই অনুষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিদের ইশ্বর বলে মনে হয়। এটার মূলে কিন্তু জামিলদের মত পারফর্মারদের বেসিক স্ট্রং না থাকারই দায়।

এছাড়াও আমরা দেখেছি এদেশের অনেক বড় বড় তারকা ওই প্রোগ্রামের মেন্টরদের বাংলাদেশ সফরে তাদের পাশে দাঁড়িয়ে একখানা ফটো তোলার জন্য কি রকম ব্যাতিব্যস্তই না হয়েছেন। ছবি তুলে ফেইসবুকে নিজের ওয়ালে বড় করে টাঙ্গিয়ে দিয়ে ক্যাপশান লিখেছেন "মিরাক্কেলের আলু পটলের সাথে ফিস মার্কেটে আড্ডা উইথ ফান"। আমরা তখনো এর প্রতিবাদ করেছি। আমাদের দেশের তারকাদের আমরা সেই রকম সম্মান করি, যেরকম সম্মান তাদের দেশেরে তারকাদের তারা করে। যখন দেখি আমাদের দেশের প্রোগ্রাম নির্মাতা সেদেশের একজন প্রোডাকশান বয় কে দেখলে ভক্তিতে গদ গদ হয়ে দাঁড়িয়ে যান, জাতি হিসেবে তখন আমাদের মাথা হেঁট হয়।

আমরা প্রতিবাদ করি। ফলাফল: আমরা আনকালচার্ড, আনসোস্যাল। যাই হোক কথা হচ্ছে মিরাক্কেলে জামিলের পারফর্মেন্সের টপিক নিয়ে, যেখানে জামিল বাংলাদেশ, বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে ঔদ্ধত্ব প্রকাশ করেছে জোকসের মোড়কে। তার পারফরমেন্স এর পর হোস্ট মীর আমাদের সাকিব কে স্যালুট করেছেন। গরু মেরে জুতা দানের উদাহরণ এর চেয়ে আর ভাল কি হতে পারে।

এর আগেও আমরা দেখেছি ফর্মের এবং র‌্যাংকিং এর তুঙ্গে থাকা আমাদের সাকিব, তামিম, মাশরাফি, আশরাফুল, রাজ্জাকদের আইপিএলে ডেকে নিয়ে না খেলিয়ে কখনো হোটেলে, কখনো সাইড বেঞ্চে বসিয়ে রেখে চুড়ান্ত অপমান করতে। আমরা তখনো মুখ খুলেছিলাম। আমাদের মেধাগুলোকে বাইরের দেশ থেকে সার্টিফিকেট আনার দরকার নাই, আমরাই আমাদের মেধার মূল্যায়ন করি না কেন। আর কত আমরা আমাদের ঠুনকো দেশপ্রেম আর হীনমন্যতা প্রকাশ করবো.....। ।


এর পর.....

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।