আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

সেই দুদক আর এই দুদক..................সত্যিই বিচিত্র!



আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ‘স্বাধীন’ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান দুদক মরি মরি অবস্থায় এসে পৌঁছেছে। অবস্থা এতটাই শোচনীয় হয়ে পড়েছে যে, মাস কয়েক আগে দুদকের চেয়ারম্যান দুদককে ‘দন্তহীন বাঘ’-এর সঙ্গে পর্যন্ত তুলনা করেছেন। এর কারণ তৈরি করেছিল ২৭ এপ্রিলে মন্ত্রিসভার নেয়া কিছু সিদ্ধান্ত, যেগুলোর বাস্তবায়ন হলে দুদক আর ‘স্বাধীন’ থাকতে পারবে না। ‘দন্তহীন বাঘ’-এর নখ শুধু নয়, হাত-পাও কেটে ফেলা হবে। এমন এক অবস্থাতেই দেশের সাতটি বিভাগের ২৯টি জেলা ও সাতটি উপজেলায় জনমত জরিপ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল অব বাংলাদেশ (টিআইবি)।

জরিপে দেখা গেছে, দুদকের আইনে সরকার যে চারটি সংশোধনী আনার প্রস্তাব করেছে জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ তার বিরোধী। প্রশ্নের উত্তরে ৫৭ শতাংশ বলেছে, তারা সরকার প্রস্তাবিত চারটি সংশোধনী সমর্থন করে না। কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা দায়ের করার আগে দুদককে সরকারের অনুমতি নিতে হবে—এ প্রস্তাবটি ৭৩ শতাংশ উত্তরদাতা সমর্থন করেননি। দুদককে রাষ্ট্রপতির কাছে জবাবদিহি করতে হবে—এ প্রস্তাবটি ৫২ শতাংশ সমর্থন করেননি। দুদকের সচিব নিয়োগ দেবে সরকার—এ প্রস্তাব সমর্থন করেননি ৭১ শতাংশ উত্তরদাতা।

উদ্দেশ্যমূলকভাবে দর্নীতির মামলা করা হলে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হবে—এ প্রস্তাবও অধিকাংশ উত্তরদাতা সমর্থন করেননি। টিআইবি যা-ই বলুক, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে দুদককে শক্তিশালী ও বিকশিত করার প্রশ্নে স্পষ্ট কোনো অঙ্গীকার ছিল না। একটি অনুচ্ছেদে শুধু বলা হয়েছিল, ‘দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। ’ লক্ষ্য করলে পরিষ্কার হবে, এ ছিল নামকাওয়াস্তে অঙ্গীকার মাত্র—কিছু একটা বলতে হবে বলেই দায়সারাভাবে কথাগুলো বলেছিল আওয়ামী লীগ। সেদিক থেকে দুদকের ব্যাপারে সরকারের পদক্ষেপে বিস্মিত হওয়ার সুযোগ নেই।

তাছাড়া পর্যালোচনায় দেখা যাবে, দুদকের জন্য এমন অশুভ পরিণতির পটভূমি তৈরি করে গেছেন দুদকের পূর্ববর্তী চেয়ারম্যান—যিনি ‘উদ্দিন’ সাহেবদের আমলে হঠাত্ ক্ষমতাধর হয়ে উঠেছিলেন। অন্য অনেক রাজনীতিকের সঙ্গে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও দুদককে সে সময় তত্পর দেখা গেছে। আওয়ামী লীগের আরও অনেককেই ফাঁসিয়েছিল দুদক। এবার এসেছে আওয়ামী লীগের প্রতিশোধ নেয়ার পালা। তাই দেখাতেও চাচ্ছে সরকার যথেচ্ছভাবেই।

অন্যদিকে দুদক নিজেও কিন্তু এখন গণতান্ত্রিক সরকারের আমলেও আগের মতোই সরকারের ইশারায় চলছে, কোনো কোনো মহলের ‘তল্পিবাহক’-এর ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ একটি গোয়েন্দা সংস্থার নির্দেশনাকেও দুদক ‘শিরোধার্য’ হিসেবে মেনে চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যেমন—বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, সুনির্দিষ্ট তথ্য ও অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং এমপিসহ ক্ষমতাসীন দলের কারও বিরুদ্ধেই দুদক কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, নিচ্ছেও না। বিরোধী দলের বেলায় কিন্তু একই দুদককে আবার পড়ি কি মরি করে দৌড়-ঝাঁপ করতে দেখা যাচ্ছে।


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।