আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

শেখ মুজিব সমাজতন্ত্র আর সুশীলগণের মতলববাজী!!!

নিজের বিষয়ে কিছুই বলিবার নাই

আসসালামু আলাইকুম, এই দুনিয়ার যে-কোনো দেশের বা জাতির স্বাধীনতার কথাই বলি আর আত্মনিয়ন্ত্রণের কথা বলি--একজন নেতার প্রয়োজন হয়। শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের দেশের জন্য সেইরকমই একজন নেতা ছিলেন। তাহার নেতৃত্বেই ১৯৭১ সালে দেশের জনগণ স্বাধীনতার সংগ্রামে ঝাপাইয়া পড়িয়াছিলো--তাহাও অস্বীকার করা যাইবে না। আবার এইঠটিও সত্য যে তাহার ব্যর্থ নেতৃত্বের কারণেই স্বাধীনতার পর-পরই দেশটির দশা ক্রমশই বেহাল হইতে থাকে। কারণ সংসদীয় পদ্ধতির যৌথ-নেতৃত্বের বদলে তিনি নিজের ব্যক্তি- নেতৃত্ব নিয়াই গর্ব বোধ করিতেন!!! যৌথতার প্রয়োজনের কথা তিনি ভুলিয়া গিয়াছিলেন।

তখন তাহার চারিপাশে ঘেষিবার মতন আর কেহ ছিলেন না। তাজউদ্দিন আহমদকেও তিনি তাহার পূর্বের জায়গা হইতে সরাইয়া দিতে দ্বিধা করেন নাই। উহার পর চরম স্বেচ্ছাচার। ভুলের উপর ভুল। তিনি বাকশাল নামক একনায়কতন্ত্র কায়েম করিলেন।

অনেকেই সমাজতন্ত্রের দোহাই দিয়া বাকশারের পক্ষে সাফাই গাহিয়া থাকিলেও এইটি একটি বুর্জোয়া দলের ক্ষমতা-কুক্ষিগত করিবার দুরভিসন্ধি ছাড়া আর কিছুই নহে। বাকশাল হইতেছে আওয়ামী লীগের স্বেচ্ছাচারিতার ঘৃণ্যতম নমুনা!!! এইসব কথা এখন বলিবার প্রয়োজন পড়িতেছে কেন? পড়িতেছে এই কারণে যে একদল বামাচারী বুদ্ধিজীবী হইতে আরম্ভ করিয়া রাজনীতিবিদ সুযোগ পাইলেই শেখ মুজিবকে বামপন্থী হিসাবে একটা ইমেজ গড়িবার জন্য আদাজল খাইয়া উঠিয়া পড়িয়া লাগেন। এই ব্লগেও তাহার নমুনা পাইতেছি। সরসিজ আলিম নামক একজন গৃহপালিত কবি বলিতেছেন : আমরা হয়েছি বিস্মিত, ক্ষুব্ধ, মর্মাহত, নিগৃহীত। ঘোর অন্ধকারের ভেতরে আমরা এবজন মহান দরদী মানুষকে স্মরণ করি।

বঙ্গবন্ধুর সকল অস্তিত্বের মাঝেই আমরা আমাদের প্রাণের স্পন্দন খুঁজে ফিরি। মহান কার্ল মার্কস-এঙ্গেলসের বৈজ্ঞানিক দর্শন ও পথ নির্দেশনা নিয়ে আমরা যুগে যুগে দেশে দেশে মুক্তির লড়াই ক’রে চলি। কমরেড লেনিন, মাও জে দঙের বিপ্লবী নির্দেশনাকে সাথে নিয়ে নিজ নিজ দেশে দেশে নতুন বিপ্লব সংগঠনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। এখন প্রশ্ন হইতেছে উনি যে বারবার আমরা-আমরা-আমরা করিতেছেন--এইসব আমরা কাহারা? যাহারা একমুখে কার্ল মার্কস আর অন্যমুখে শেখ মুজিবের নাম নিতে নিতে কাহিল হইতেছেন? এই আমরা কি তবে আমড়া-কাঠের ঢেকি? শেখ মুজিব সমাজতন্ত্রী ছিলেন বা এই আদর্শ বিশ্বাসী ছিলেন তাহার চরম শত্রুও তাহাকে এই অপবাদ দিতে পারিবে না। এইসব নতুন কিছু নহে।

নির্মলেন্দু গুণ নামক বেগুণ-মার্কা কবিও তাহার কিতাবের নাম রাখিয়াছিলেন : লেনিন-মুজুব-ইন্দিরা!!! যেন লেনিন আর মুজিব একই পথের পথিক!!! যেন লেনিন আর ইন্দিরা গান্ধী একই চেতনায় বিশ্বাসী!!! এইসব মাথামোটা কবি-সাহিত্যিকগণ রাজনীতি তো বোঝেনই না সাহিত্যও বুঝিতে পারেন কিনা সন্দেহ হইয়া থাকে। তাহা হইলে তাহারা কি বোঝেন? উহারা নিজের স্বার্থটাই শুধু বুঝিতে পারেন। মস্কোর যখন রমরমা অবস্থা ছিলো তখন লেনিনের নাম তো নিতেই হইবে। মস্কো যাইবার প্লেনের ঠিকিটখানি তো বাগাইতে হইবে!!! দিল্লীতেও তো না যাইতে পারিলে ইজ্জত থাকিবে না। আর এখন? এখন তো মুখে-মুখে প্রগতিশীল হইতে হইবে।

আবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না-থাকিলে যেন গলা ফাটাইয়া বলিতে পারা যায় আমি তো বামাচারী!!! কার্ল মার্কস সাহাবের সমর্থক। আমি সুশীল!!!! এইসব সুশীলগণ কার্ল মার্কসের কিতাবের দুই পাতা পাঠ করিয়াছেন কিনা সন্দেহ হয়। যদি পাঠ করিতেন তাহা হইলে মার্কস সাহাবের সহিত শেখ মুজিবের আলুভর্তা বানাইয়া আচার দিয়া পরিবেশন করিতেন না। তাহা হইলে উহারা কি মতবাদে বিশ্বাসী? উহারা হইতেছে মতলববাদে বিশ্বাসী। নিজের আখের গোচাইয়া নিয়া ছাড়া তাহারা কিছুই বুঝিতে পারেন না।

পরম করুণাময় আমাদিগকে সহজ সরল পথে চলিবার তাওফিক দিন!!! সকলে ছহি-ছালামতে থাকিবেন। এইখানে দেখুন!!!

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।