আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

যমজ বোনের চমক!



এসএসসির মতো এইচএসসিতেও সাফল্যের ধারা বজায় রেখে চমকে দিয়েছে সৈয়দপুরের চা-দোকানির যমজ দুই মেয়ে আফসানা দীপা ও রোকসানা নিপা। অভাব-অনটনের সংসারে নানা বাধা-বিপত্তির পরও দরিদ্র মা-বাবার মুখে হাসি ফুটিয়েছে ওরা দুই বোন। এসএসসিতে দুজনেই জিপিএ ৫ পেলেও এইচএসসিতে নিপা জিপিএ ৫ ও দিপা জিপিএ ৪.৫ পেয়েছে। এখন ইংরেজি বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা নিতে আগ্রহী ওরা দুই বোন। তবে উচ্চশিক্ষার বিষয়ে তারা শঙ্কিত।

কারণ খরচ জোগানোর মতো সামর্থ্য নেই তাদের মা-বাবার। সৈয়দপুর শহরের হাওলাদারপাড়ার নিজাম উদ্দিন ও জাহেদা দম্পতির যমজ মেয়ে আফসানা দীপা ও রোকসানা নিপা। নিজাম উদ্দিন পেশায় একজন ক্ষুদ্র চায়ের দোকানি। বাড়ির পাশেই ছোট একটি চায়ের দোকান। ওই দোকানের আয়ে চলে ৯ সদস্যের পরিবার।

চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে দীপা ও নিপা চতুর্থ। ছোটবেলা থেকে যমজ দুই বোন যেমন মেধাবী, তেমনি লেখাপড়ার প্রতিও আগ্রহী। সৈয়দপুর আদর্শ বালিকা বিদালয় ও কলেজ থেকে ২০০৮ সালে এসএসসিতে দুজনেই বাণিজ্য বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পায়। ওই সময় তাদের কৃতিত্বপূর্ণ ফল নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর অনেকেই তাদের লেখাপড়ার ব্যাপারে আর্থিক সহযোগিতায় এগিয়ে আসে।

দীপা-নিপা দুজনেই জানায়, উচ্চশিক্ষা শেষে তারা শিক্ষকতা পেশায় নিজেদের নিয়োগ করতে চায়। নিজাম উদ্দিন জানান, তাঁর চায়ের দোকান থেকে প্রতিদিন যে আয়-রোজগার হয় তা দিয়ে পরিবারের ৯ সদস্যের তিন বেলা ঠিক মতো খাবারই জোটে না। তাই মেয়েদের উচ্চ শিক্ষা নিয়ে এখন তিনি কী করবেন সেই চিন্তা সারাক্ষণ মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। ফলের ব্যাপারে দীপা জানায়, পরীক্ষার আগে তার শরীরে ছোট একটি অপারেশন করাতে হয়েছে। অসুস্থতার জন্য লেখাপড়ায় কিছুটা হলেও ব্যাঘাত ঘটেছে।

তাই জিপিএ ৫ পাওয়া হয়নি তার। তবে সে না পেলেও ছোট বোন নিপা জিপিএ ৫ পেয়েছে, এতেই খুশি। অন্যদিকে নিপা জানায়, বড় বোন দীপার ফলের জন্য একটু খারাপ লাগছে। তবে দুজনেই শিক্ষক হতে চায়। অনেক পেশা থাকতে শিক্ষকতা কেন?_এ প্রশ্নের জবাবে নিপা বলে, 'আমরা দরিদ্র পরিবারের মেয়ে।

দরিদ্রদের লেখাপড়া করা কত কঠিন তা আমরা উপলব্ধি করছি। তাই শিক্ষকতা পেশায় গিয়ে আমরা সমাজের অবহেলিত দরিদ্র পরিবারের ছেলেমেয়েদের বিনা পয়সায় লেখাপড়া করাতে চাই। '

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।