আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

কবি মেহেরুন্নেছা (সুমনা মেহেরুন) আত্মহত্যা ঘটনা এবং কাজী আরিফ এর মিথ্যাচার প্রসঙ্গে

যে কোন লড়াই শেষ পর্যন্ত লড়তে পছন্দ করি।

তরুণ কবি মেহেরুন নেছা (সুমনা) ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১০ তারিখ আত্মহত্যা করার পর মানবাধিকার রক্ষায় আইন সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা হিসেবে বিডিপিসি ঘটনাটি তদন্তের সিদ্ধান্ত গ্রহন করে এবং নিয়ম অনুযায়ী তদন্তের বিষয়টি সরকারী সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে। এর পর তদন্ত প্রক্রিয়া চলাকালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাক্ষাৎকার বা জবানবন্দি সরেজমিনে গ্রহণ করেছে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই সাক্ষাৎকার বা জবানবন্দি ভিডিও রেকর্ড করেছে। এছাড়া ফেসবুক এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে এই সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করে সেই প্রশ্নের জবাব কারো কাছে থাকলে তা তদন্ত দলের নিকট প্রেরণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। অনেকে তদন্ত দলের প্রশ্নের আলোকে তথ্য সহকারে ম্যাসেজ পাঠিয়েছেন।

তদন্ত দল এসব ম্যাসেজের কপি সংরক্ষণ করেছে এবং তাদের দেওয়া তথ্য গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত কাজ সম্পূর্ন করেছে। অনেকে ফোনে কথা বলেছেন এবং ফোনের মাধ্যমে বক্তব্য/তথ্য প্রদান করেছেন। প্রথমে যাদেরকে নিয়ে তদন্ত দল গঠন করা হয়েছিল, পরীক্ষা, অসুস্থ্যতা এসকল কারনে তারা সকলে তদন্ত কাজে অংশগ্রহন করতে পারেন নি। ফলে তদন্ত কাজ সম্পূর্ন করার স্বার্থে অতিরিক্ত সদস্য অর্ন্তভূক্ত করে তদন্ত কাজ শেষ করতে হয়েছে। এ বিষয়ে যাদের অভিজ্ঞতা আছে তারা জানেন যে এটাই নিয়ম।

সুমনা মেহেরুনের মৃত্যুর পর ফেসবুকের মাধ্যমে অনেকেই দু:খ ও শোক প্রকাশ করেছিলেন। অনেকে দাবি করেছিলেন সুমানার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তির আচার আচরণ সম্পর্কে তারা অনেক কিছু জানেন এবং সেইসব তথ্য প্রদান করে তদন্ত দলকে তদন্ত কাজে তারা সহযোগিতা করবেন। কিন্তু তদন্ত কালে কার্যতঃ তাদের অনেকে তদন্ত দলকে আর সাক্ষাৎকার প্রদান করেননি। কেউ কেউ দিনক্ষণ ঠিক করে সাক্ষাৎকার দিবেন বলে, পরে সে কথা আর রাখেননি। কেউ কেউ পরবর্তীতে এ বিষয়ে কথা বলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

যারা বলেছিলেন সুমনা মেহেরুনের স্বামী মাকসুদুর আব্বাসের বিরুদ্ধে থানায় মামলা এবং জিডি আছে, তারা সেই সমস্ত মামলা এবং জিডির তথ্য প্রমান তদন্ত দলকে দিতে পারেননি অথবা দেননি। পক্ষান্তরে তদন্ত দল ঢাকা মেট্টপলিটন এলাকার কোন থানাতেই মাকসুদুর আব্বাসের বিরুদ্ধে কোন মামলা বা জিডির তথ্য প্রমান পায়নি। থানায় মমলা বা জিডির বিষয়ে যারা সবচেয়ে বেশি কথা বলেছিলেন তারা কেউ তদন্ত দলকে তথ্য প্রমান সংগ্রহে কোন প্রকার সহযোগিতা করতে পারেন নি বা করেননি। দুই জন পহেলা ফালগুন এবং ভ্যালেনটাইন ডে- তে কাজী আরিফ ও সুমনা মেহেরুনের কিছু ছবি ফেসবুকে আপলোড করার পর আবার নামিয়ে নিয়েছেন এবং সেই ছবি গুলো বহু চেষ্টা করেও তদন্ত দল সংগ্রহ করতে পারেনি। অথচ ছবিগুলো এই তদন্ত কাজে খুবই গুরুত্বপূর্ন ছিল।

তদন্ত দলের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকার জন্য সুমনা মেহেরুনের বন্ধু ও নিকটজন বলে পরিচয়দানকারী বেশ কয়েকজনকে আমন্ত্রন জানানো হয়েছিল। কেউ কেউ থাকতে পারবেন না বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন। আবার কেউ কেউ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন এটা নিশ্চিত করার পরও আসেননি বা থাকতে পারেননি। স্বামীর সাথে সুমনা মেহেরুনের সুখের সংসার হলে আজ তার এই করুন পরিণতি কোন ভাবেই হতো না, সেটা সকলে অবগত। তাছাড়া তিনি তার মৃত্যুর জন্য স্বামী মাকসুদুর আব্বাস এবং কাজী আরিফ দু’জনকে দায়ী করে তার ছেলের কাছে বক্তব্য দিয়ে গিয়েছেন।

তদন্ত দলের প্রতিবেদনে এসব বিষয় পরিস্কার ভাবে উল্লেখ আছে। তবে আইন ও অপরাধ বিজ্ঞানের নিজস্ব গতি ও বিবেচনা আছে যা সাক্ষীর সাক্ষ্য এবং অনান্য অনেক বিষয় দ্বারা নির্ধারিত হয়। কোন অপরাধমূলক ঘটনা বিশ্লেষণে সেই গতি ও বিবেচনা প্রাধান্য পায়। সুমনা মেহেরুনের আত্মহত্যা তদন্তের ক্ষেত্রে তদন্ত দল সেই সমস্ত নিয়মনীতি মেনে চলার চেষ্টা করেছে। হত্যা, গুম, অপহরণ এবং আত্মহত্যার ক্ষেত্রে, ঘটনার অব্যবহিত পূর্বে ভিকটিমকে কার কার সাথে, কোথায় কোথায় দেখা গিয়েছে, ভিকটিম সর্বশেষ কার কার সাথে কথা বলেছিল, কি কি বলেছিল, সর্বশেষ যাদের সাথে দেখা গিয়েছিল তাদের কি কি ভূমিকা ছিল, ইত্যাদি সব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই তদন্ত অগ্রসর হয়ে থাকে।

কোন মামলা বা ঘটনা তদন্তধীনে থাকা অবস্থায় সন্দেহভাজন ব্যক্তি সম্পর্কে “একে ধরিয়ে দিন” বলে বিজ্ঞাপন দেওয়া বেআইনী নয়। ঠিক তেমনি ঘটনা সংশ্লিষ্ট কোন ছবির মধ্যে কোন লোককে কেউ চেনেন কিনা তার জন্য ফেসবুকে পোষ্টিং দেওয়া বেআইনী বা উদ্দেশ্যমূলক নয়। শুরু থেকে তদন্ত দল লক্ষ্য করেছে যে ফেসবুক ব্যবহার করে অনেকেই বিভিন্ন উপায়ে তদন্ত দলকে প্রভাবিত করে তারা যা ভাবেন সেই রকম একটি প্রতিবেদন যাতে প্রস্তুত হয় সেই চেষ্টা করেছেন। এই কথাটি বললে মোটেই অতিরিক্ত বলা হবে না। পরে তাদেরকে তদন্তের সময় খুজে পাওয়া যায়নি, তাদের সাক্ষাৎকার পাওয়া যায়নি বা তাদের সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।

অথচ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হওবার পর কেউ কেউ বিভিন্ন বিতর্কের সূত্রপাত করেছেন। তদন্ত দলের সাথে কেউ দ্বিমত পোষণ করতেই পারেন। কিন্তু কারো সঙ্গে অশোভন আচরণ বা হুমকি প্রদান কোনভাবেই কাম্য নয়। এই তদন্ত প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে তদন্ত দলের কোন সদস্যকে কেউ কেউ হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, এতে আমরা বিস্মিত হয়েছি। তদন্ত প্রতিবেদনের উপর সংবাদ সম্মেলন করার পর কাজী আরিফ বিভিন্ন পত্রিকাকে বলেছেন যে, বিডিপিসি তদন্ত দল তার সাথে কোন যোগাযোগ করেনি এবং তার সাথে কোন কথা বলেননি, ঘটনা সম্পর্কে তার মতামতও নেয়নি।

অথচ বিডিপিসি তদন্ত দল কাজী আরিফের সাথে শুধু কথাই বলেনি, তার সাথে সাক্ষাৎকারের পুরো সময়টি ভিডিও রেকর্ড করেছে যার কপি বিডিপিসি’র কাছে রয়েছে। এই ভিডিও কপি প্রয়োজনে ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়া হবে, সকল পত্রিকা অফিসে পাঠানো হবে এবং প্রয়োজন মনে করলে তদন্ত দল এই ডিভিডি/সিডি নিয়ে পুনরায় সংবাদ সম্মেলন করবে। ধানমন্ডীতে নিজের অফিসে বসে বিডিপিসি তদন্ত দলের সঙ্গে সাক্ষাৎকার প্রদানের বিষয়টি অস্বীকার করার মাধ্যমে কাজী আরিফের দেওলিয়াপনা আরো নোংরা ভাবে প্রকাশিত হয়েছে। দুটি কর্পোরেট সংবাদ পত্র কাজী আরিফের বক্তব্য শুনার পর তিন থেকে চার বার বিডিপিসি’র সাথে যোগাযোগ করে বিডিপিসি’র বক্তব্য নেয়ার পরও সুমনা মেহেরুন আত্মহত্যা তদন্ত দলের সংবাদ সম্মেলনের খবরটি শেষ পর্যন্ত ছাপেনি। এভাবেই কাজী আরিফরা কর্পোরেট কালচার ব্যবহার করে সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্য করেন।

যে কারনে সুমনার মত মেয়েরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়। বিডিপিসি তার নিজস্ব নিয়মে এবং গতিতে কাজ করে থাকে। এজন্য বিডিপিসি কোন ব্যক্তির নিকট জবাবদিহিতা করতে বাধ্য নয়। কোন ব্যক্তি বা সংস্থা মনে করলে তিনি বা তারাও ঘটনাটি তদন্ত করতে পারেন। তবে বিডিপিসি তদন্ত দল যা কিছু বলেছে তার পক্ষে পর্যাপ্ত তথ্য প্রমান আছে।

তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশিত হবার পর এক জনের স্ত্রী হয়ে পর পুরুষের সাথে "পরকীয়ায়" লিপ্ত বলে সুমনা মেহেরুন সম্পর্কে "খারাপ" নারী বা মেয়ে বলে কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন। কিন্তু স্ত্রী ও চার সন্তান বর্তমান থাকতেও যে পুরুষ প্রবর তার প্রায় অর্ধেক বয়সী একটি মেয়ের সাথে প্রেমের অভিনয় করে প্রতারণা করে, তার কোন অপরাধ নাই!!!! স্বামীর অবর্তমানে পরস্ত্রীর বাসায় গিয়ে খাওয়া-দাওয়া করেছেন তার চরিত্র ফুলের মত পবিত্র!!!! তার এই চরিত্র সম্পর্কে তাই অনেকে কোন কথা বলেন নি। এটাই হয়তো পুরুষ শাসিত সমাজের নৈতিকতার মানদন্ড। নারায়ণগঞ্জের টানবাজারে এক সময় ১৪,০০০ যৌনকর্মী (কারও কারও ভাষায় পতিতা) বসবাস করতো। জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রতিদিন কমপক্ষে একজন করে খরিদ্দার তাদের দরকার হতো।

এই ১৪,০০০ খরিদদার টানবাজারে থাকতো না, বাইরে থেকে যেত এবং তারা সবাই পুরুষ। তাই এ পুরুষ শাসিত সমাজে যৌনকর্মীদের উচ্ছেদ করা হলেও ঐ ১৪,০০০ পুরুষ সম্পর্কে কোন কথা হয়নি, তাদের বিচারের প্রশ্ন ওঠেনি বা তাদের দোররা মারা হয়নি। এখনও অনেকে সমাজের নৈতিকতার মানদন্ড এভাবেই নির্ধারণ করেন। যাহোক, বিডিপিসি তদন্ত দলের তদন্ত প্রতিবেদন মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয় থেকে হাজারীবাগ থানা পর্যন্ত, বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি গ্রহন করা বা এর আলোকে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা এখন সরকার বা কর্তৃপক্ষের বিষয়, এবং তারা তা করবেন বলে আমরা আশাবাদী।

হাজারীবাগ থানা বা সরকারী তদন্ত কর্তৃপক্ষ বিডিপিসি’র নিকট এই সংক্রান্ত কোন সহযোগিতা চাইলে বিডিপিসি তা প্রদান করবে।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।