আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বাংলা সাই ফাই চলচিত্র:::ক খ নো কি তৈরী হবে?

"নব্য রাজাকার গোষ্ঠির প্রবেশ নিষেধ"
১ মুভি কিভাবে তৈরী করা হয় সে সম্পর্কে আমার ধারনা কম। তাই চলচি্ত্র নিয়ে কিছু চিন্তাভাবনা করলে সেটা হবে দর্শকের দৃষ্টিতে। তেমন গভীর দৃষ্টি দিয়ে মুভি দেখা হয় না। তবে মাঝে মাঝে দেখি আর কি। ২ ছবি দেখা শুরু টিভি থেকে।

শুক্রবার বিকাল তিনটা বিশেষ একটা দিন ছিল। এই দিনে একটা বাংলা ছবি দেখা হবে,এই ছিল ছোটবেলার নিয়ম। টিভি জিনিসটা তখনো সহজলভ্য জিনিস নয়। নেহাত অবস্থা সম্পন্ন না হলে টিভি নামের মহা মূল্যবান জিনিসটির মালিক হওয়া সম্ভব ছিল না। শহরের কথা জানি না।

আমি গ্রামে বড় হয়েছি। অবশ্য আমাদের গ্রামটা অনেকটা মফস্বল টাইপের ছিল। ৯০ ভাগ বাড়ীর কর্তা প্রবাসী। একটু অবস্থা সম্পন্ন হলে টিভি নামক বিলাস দ্রব্য কেনা প্রথম কর্তব্য ছিল। এই দিকে অবশ্য বাড়ির অর্থনৈতিক অবস্হাও প্রকাশ পেত।

৩ যখন নানুর বাড়ি বেড়াতে যেতাম,আরো আৎকে উঠতাম। প্রাই খেয়াল করতাম কিছু কিছু বাসায় বিশাল জটলা। আগ্রহ নিয়ে সামনে গেলে বুঝতে পারি,আসলে ঘটনা কি?ঐ বাসায় টিভি আছে। আহা কত মূল্যবান একটা জিনিস,একদম স্টিল আলমারীর চূড়ায় তার বাস। খুব সাবধানে চালাতে হয়,যদি খারাপ হয়ে যায়? আমার মাথায় ঢুকত না এত উঁচু থেকে কিভাবে টিভি দেখা সম্ভব।

নানুর বাড়ী গেলে,আমার খালাতো ভাইদের সাথে বিভিন্ন বাসায় টিভি দেখতে যেতাম। সব মিলিয়ে পাড়ায় তিনটা টিভি। সব সময় তো এক বাড়িতে টিভি দেখা যায় না, এই জন্য হিসাব চলত কোন কোন সময় কোন বাড়িতে যাওয়া যায়। অবশ্য ঝামেলাও ছিল, রাতের দিকে শিশুদের টিভি দেখা অনেকটা নিষিদ্ব ছিল। ৪ নানুর বাড়ীর এই অবস্থা দেখে নিজেকে ভাগ্যমান মনে হত।

বাসায় তখন তিনখান টিভি। বিভিন্ন সাইজের ব্লাক এন্ড হোয়াইট টিভি। ব্যাটারী দিয়ে চলত। ৬ ইন্সের ডিসপ্লে টিভি। লালটিভি (বডিটা ছিল লাল) ১৪ ইন্স ডিসপ্লে।

আর ১৬ ইন্সের সাদা কালো ন্যাসনাল টিভি। ন্যাসনাল টিভি সেটটাই দেখা হত। আর অন্য দুটি টিভির বাক্স দেখতাম। কোন দিন বের করা হত না ঐ সেট গুলোকে। গোপন এক কুটরীতে রাখা হত,এই জিনিস গুলোকে।

সেই গোপন কুরীতে টিভি ছাড়াও নানা প্রকার যন্ত্রপাতিও ছিল। টয়লেটের উপরে ছোট্ট কুটরীতে লুকিয়ে কত সময় যে কাটিয়েছি তার কোন হিসাব নাই, আব্বজানের সংগ্রহের মহামূল্য বান জিনস পত্র ঘাটতে বড় ভালোলাগত। যন্ত্রপাতি গুলোর বিশাল বৈচি্ত্র ছিল, একটু বললে বুঝতে পারবেন... ইন্সট্যান্ট ক্যামরা,নানা ধরনের ঘড়ি,টিউব লাইট হোল্ডার,হাজার রকমের নাট বল্টু খোলার টুলস,কার ফ্রন্ট লাইট,গোল মত এক জিনিস (সাইরেন),নানা ধরনের ক্লিপ,বিশাল বিশাল স্কেল,কোন স্কেলের আবার তিন মাথা,কোন স্কেলের দুই ঠ্যাং,গোল ধরনের স্কেল,স্লাইড ক্যার্লিপাস(স্কুলে এর নাম জানতে পারি,বন্ধু দের যখন বলি আমাদের বাসায় ও একখান আছে এই জিনিস তারা বিশ্বাস করত না),স্কু গজ,গান শোনার যন্ত্র,ম্যাগনিফাইং গ্লাস,টাইপ মেশিন(নষ্ট), বিশাল টাইপের ক্যাসেট (ও গুলোযে ভিডিও টেপ সেটা জানতাম না...ভাবতাম এত বড়ই যদিই গান শোনার ক্যাসেট,নাজানি কত বড় সেই টুপিস!) আব্বা ছিল প্রবাসী প্রত্যেক বছর আসত আর কুটরীতে নতুন নতুন জিনিস যুক্ত হত। ভেবে পেতাম না এই সব জিনিস পত্র ব্যাবহার না করে কেন লুকিয়ে রাখা হয়। তবে আমার ভালোই লাগত,নতুন নতুন জিনিস নিয়ে নাড়া চড়া করতে পারব বলে... ৫ টিভির কথা বলতে গিয়ে কত কিছুই না বলে ফেললাম।

আমি আসলে বলছিলাম চলচিত্র নিয়ে। বাংলা ছবি নিয়ে বলছিলাম। শুক্রবার ছিল মুভি ডে। অনেক আগ্রহ নিয়ে দেখা হত সেই মুভি। কাহিনী কিছুই না।

এক জন নায়ক,এক জন নায়িকা। এদের মধ্যে ভালোবাসা বাসী হবে। একে কেন্দ্র করে কিছু ঘটনা ঘটবে, শেষ দৃশ্যে পুলিস এসে ভিলেনকে নিয়ে যাবে....ইত্যাদি ইত্যাদি। খুব আগ্রহ নিয়ে দেখতাম, ডিসুম ডিসুম মারামারিতেও বিশাল মজা পেতাম এর পর আসল ভিসিআর,ভিসিপি এর যুগ। টিভি জিনিস টা তার পুরোনো জৈলুস হারিয়ে দেওলিয়া প্রায়।

লোকজন আর টিভি দেখে মজা পায় না। টিভির সাথে অর্থনৈতিক অবস্থা যে সম্পর্ক ছিল তা আর থাকল না। খুব ছোট বেলায় যখন প্রথম ভিসিআরে যে ছবি টা দেখি তার নাম "বিপ্লব" সম্ভবত। ছবির চেয়ে ভিসিআরটা মনযোগের কেন্দ্র বিন্দু ছিল। ভিসিআরটাকে অনেকটা গেরাও করে রাখা হত।

আমি অবাক হয়ে ভাবতাম। কি আর্চয্য! পেটির মত জিনিসটার মধ্য অত বড় ক্যাসেট ঢুকে ক্যামনে? ভিসিআর এর অভাব ও অবশ্য রইল না। আব্বজান আবার চমক দেখালেন। উনি ভিসিআর নিয়ে এসেছেন এবার,সাথে একটা রঙিন টিভিও। কিন্তু একবারের জন্যও সেগুলো খোলা হল না।

কারন এতে ছেলে পেলে দের পড়াশুনার ক্ষতি হবে। তারা যখন বড় হবে তখন চিন্তা ভাবনা করা যাবে। এই অবস্থা অবশ্য বেশিদিন রইল না। আব্বজান দেশ ত্যাগের পরপরই আনপ্যাকড হল এই টিভি,ভিসিআর। আমার ভাইরা এতে অগ্রনী ভূমিকা পালন করেছে।

আম্মা একটু বকটকা দিলেও, পরে আর তেমন কিছু বললেন না। ৬ দেখা শুরু হল হিন্দি সিনেমা। বাংলা ফিল্মের সাথে প্রধান পার্থক্য গানে আর পোশাকে। আরো সমস্যা ছিল বাংলা ফিল্মে নায়িকা দের দেখলে চিনতে পারি,উনি ববিতা,উনি শাবানা...কিন্তু হিন্দি ফিল্মের সব নায়িকা দের চেহারা এক...কাউরে চিনি না...কথাও বুঝিনা.. যাহোক এই সব সমস্যা দের মাঝেও হিন্দি সিনেমা দেখা চলল...মিঠুন চক্রবর্তির মারমরি,অক্ষয় খানের পুলিশ ভুমিকা( এই ব্যাটা এখনো নায়ক!),সালমান খান,আমির খানের কমেডি,সুনিল শেঠির তু চিজ বারি হে মাস্তে মাস্তে...আরো কত কি! মাঝে মাঝে থিয়েটারের মত অবস্থা হয়ে যেত। আম্মা বকা দিত ভাইদের।

তাদের কানে সে সব কথা ঢুকত কিনা সন্দেহ। কিন্তু কি কারনে বুঝলাম না এর ইমপ্যাক্ট পড়ল আমার আর আমার ছোট বোনের উপর। যখন তখন হিন্দি সিনেমার থিয়েটারের দর্শক হওয়ার অধিকার হারালাম। অবশ্য এর পর বেশি দিন চলে নি এই হিন্দি ফিল্ম দেখা। ভাইরা পড়াশুনার জন্য বাইরে চলে গেলেন।

আগের মত ভিডিও ক্যাসেটও আনা হয় না। তার উপর আব্বজানের ফিরার সময় হয়েছে। টিভি ভিসিআর যেভাবে উনি প্যাক করে গেসিলেন ঠিক ঐ ভাবে প্যাক করা হল আবার। সব মজা শেষ! কি নিষ্ঠুর এই পৃথিবী! ৭ এর মধ্যে কিছু হলিউড মুভি দেখা হল যার একটি হচ্ছে টারমিনেটর,আরনল্ড শোয়েজনেগারের আরো কয়েকটা মুভিও দেখা হল বড় ভাইয়ের কল্যানে... নাম মনে নাই...হলিউড মুভিতে শুধু হাইটেক মারা মারি...তবে হিন্দি কিংবা বাংলা মুভির মাঝে মেকিং এর স্পষ্ট পার্থক্য বুঝতে পারতাম তখন... মাঝে মাঝে অস্ত্বিকর অবস্হায়ও পরতে হত যখন নায়ক নায়িকা রোমেন্টিক কোন দৃশ্যতে ঢুকত...যদিও তেমন বুঝতাম না... ঐ গুলো আবার রিমোট এর মাধ্যমে সেন্সর করা হত :p পরের দিকে বিটিভিতে শনিবার সম্ভবত ইংরেজি মুভি দেখানো হত। স্কুল ফাঁকি দিয়ে দেখা ব্যাক টু দি ফিউচার দেখে বিশাল মজা পাইছিলাম...কতদিন যে স্কুল ফঁকি দিসি এই মুভিটা দেখার জন্য... মুভি মেকিং এ বাংলা কিছু ছবি বাদে বেশীর ভাগই জগাখীচুরী, হিন্দি ছবির অস্থাও সেই রকম।

হিন্দি নিয়ে মাথা ব্যাথা নাই। খুবই বিরক্তিকর জিনিস। মুটামুটি যখন বুঝতে শিখেছি...এ এক অখাদ্য, তখন থেকে বাদ... বাংলা ছবি প্রবেশ করল ছিঃনেমা যুগে... একটা মজার কাহিনী মনে পড়ে গেল। আমরা ভার্সিটি থেকে সুন্দরবন যাচ্ছি। পুরো একটা লন্ঞে ভাড়া করা হল।

ভৈরব নদী থেকে সেই লনঞ সুন্দর বন পৌছাতে প্রায় ১২-১৪ ঘন্টা লাগে। এই জার্নিতে যে যার মত লন্ঞের সময় টা কাটাচ্ছে। আমার সব চেয়ে মজা লাগল এক গ্রুপের কান্ড দেখে। তারা বাংলা ছিঃনেমা দেখছে, আর কিছু ক্ষন পর হো হো হাসছে। ব্যাপার কি? কমেডি নাকি।

সেই রকম কিছুনা, খুব কঠিন ছবি। নায়ক বলছে......তুই আমার ফুলির গায়ে হাত দিসোস তোর একদিন কি আমার একদিন ইয়া ডুসুমা লেডি ডুসুম ডুসুম সবাই হাসতে হাসতে গড়া গড়ি খাচ্ছে। এর চেয়ে অদ্ভুত কিছু হতে পারে না...এই সব ছবি পরিচালকরা বানায় ক্যামনে আমার মাথাই ঢুকে না। মাথায় সামন্য পরিমান বুদ্ধি শুদ্ধি যদি থাকত এদের। ৮ এর মধ্যে ভিসিআর এর যুগের অবসান হল।

প্রযুক্তি অনেকটা সাধারন পর্যায়ে চলে আসল। মিশে গেল সাধারন মানুষের জীবনের সাথে। গত এক দশকে এটা একটা বিরাট অর্জন। কিন্তু ছবির মান বাড়ল না। সেই একই কাহিনী।

কিছু কিছু ভালো ছবি হয়, তার বেশির ভাগই গ্রামীন পটভুমিতে। আচ্ছা বাংলাতে কি সাই ফাই টাপের মুভি তৈরী করা যায় না? এক লাফে অ্যাভাটার বানাতে হবে এমন তো কোন কথা নাই। প্রথম দিক কার ইংরেজী সাই ফাই মুভি গুলো হাস্যকর ছিল। সাই ফাই মুভি না হোক,ইতিহাস তো আসতে পারে। ইতিহাস বললে আমাদের চোখের সামনে রাজা বাদশারা ফুটে উঠে।

এটা কেন যে হয় সেটাও বুঝি না। ইতিহাস বলতে....বাংলা বিহার উড়িষ্যার অধিপতি!!! উফ! এর আগে কি বাংলা ছিল না? আর্যরা যখন এই ভূমিতে আসে, কিংবা আমাদের শিকড়,আমাদের সংস্কৃতিরই বা জন্ম কিভাবে...এই সব নিয়েও তো চৎকার থিমের ছবি হতে পারে। আমি ইতিহাসের আগামাথা জানি না,এইখানে কেন লেখকরা প্রাচীন ইতিহাস অবল্বনে কোন গল্প বা এই জাতীয় কিছু লেখেন না সেটাও একটা রহস্য। আমাদের অতীতের সাথে নিজেদের কোন যোগাযোগ নাই। থাকলে হয়ত, এই সময়টা অন্যরকম হতে পারত....
 


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।