আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

গদি হারালেন মোদি



টুইটার’-এ লোলিত মোদির সর্বশেষ বার্তা, ‘আগামীকাল জিওসি (পরিচালনা পর্ষদের) সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে সব জানাব। ’ কিন্তু সেই সভা আর করা হলো না তাঁর। আইপিএলের সমাপনী অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার ঘণ্টা কয়েকের মধ্যে বহিষ্কার করা হলো মাত্র তিন বছরের মধ্যে ক্রিকেট দুনিয়ার অন্যতম ক্ষমতাধর মানুষ হয়ে ওঠা বিসিসিআই সভাপতি লোলিত মোদিকে। বিসিসিআইয়ের সভাপতি পদ থেকে তাঁকে বহিষ্কার করায় এমনিতেই তিনি আইপিএল ও চ্যাম্পিয়নস লিগের চেয়ারম্যানের পদও হারালেন। আইপিএলের নতুন দল কোচির মালিকানা কেনা নিয়ে কংগ্রেস সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শশী থারুরের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়াটাই কাল হয়েছিল মোদির।

আইপিএল বিতর্কে মন্ত্রিসভা থেকে থারুরের পদত্যাগের পর আইপিএলের গদিটা মোদির জন্য টালমাটাল হয়ে পড়েছিল। সরকারের মনোভাব এবং বিসিসিআই সভাপতি শশাঙ্ক মনোহরসহ অন্যদের কথাবার্তায় পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল মোদির বিদায় শুধু সময়ের ব্যাপার। বিদায়টা হওয়ার কথা ছিল গতকাল সকাল ১০টায় শুরু হওয়া আইপিএল পরিচালনা পর্ষদের সভায়। কিন্তু সভা শুরুর আগের রাতেই ই-মেইলে বহিষ্কারাদেশপত্র ধরিয়ে দেওয়া হয় মোদির হাতে। গভীর রাতে এক বার্তায় তাঁকে বরখাস্তের খবর জানায় বিসিসিআই।

সেই সঙ্গে আইপিএলের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বিসিসিআইয়ের আরেক সহসভাপতি, আইপিএল পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও বরোদা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান চিরায়ু আমিনকে। আর গতকাল সভা শেষে লিখিত এক বিবৃতিতে বিসিসিআই সভাপতি শশাঙ্ক মনোহর বলেছেন, ‘১৫ দিন ধরে সংবাদমাধ্যমে অনেক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ আসছিল। ফলে বিসিসিআই এসব অভিযোগের কথা বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত স্থগিত করে লোলিত মোদিকে কারণ দর্শাও নোটিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ’ আইপিএল পরিচালনা পর্ষদের সভা শুরুর আগেই মোদিকে কেন এভাবে বহিষ্কার করা হলো, তা নিয়ে জল্পনার শেষ নেই। কেউ কেউ বলছে, আইনি জটিলতা কমাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

পরিচালনা পর্ষদের সভায় মোদিকে আইপিএল চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরানো সম্ভব ছিল না, সেটা হতে হতো সাধারণ পরিষদের সভায়। তাই নিরাপদ উপায় হিসেবে বিসিসিআই সভাপতি গঠনতন্ত্রে তাঁকে দেওয়া ক্ষমতা অনুযায়ী বরখাস্ত করেছেন মোদিকে। মোদির বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ, তাঁর সময়ে ক্রিকেট, বিশেষত আইপিএল বিতর্কিত ও কলঙ্কিত হয়েছে। বেআইনি অর্থনৈতিক লেনদেন থেকে শুরু করে ম্যাচ পাতানোর অভিযোগও আছে। বোর্ডের ভাষ্য অনুযায়ী লোলিত মোদির জবাব হাতে পাওয়ার পর তাঁর দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত শুরু করবে বিসিসিআই।

আর মোদির জবাব সন্তোষজনক হলে তাঁর বহিষ্কারাদেশ তুলে নেওয়া হবে। মনোহর দাবি করছেন, এই বহিষ্কারাদেশ মোদির কোনো শাস্তি নয়। তদন্ত নিরপেক্ষ রাখার স্বার্থেই তাঁকে আপাতত এই পদ থেকে দূরে রাখা হচ্ছে। তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হলে আবার দায়িত্বে বহাল করা হবে তাঁকে। এদিকে মোদি ছাড়াও তদন্ত হচ্ছে আইপিএলের প্রধান নির্বাহী সুন্দর রমণের কার্যকলাপ নিয়েও।

বিবৃতিতে মনোহর যতই আইনি কথা বলুন, সংবাদ সম্মেলনে এসে সোজা বুঝিয়ে দিয়েছেন, শুধু মোদি নন, তাঁর অনুসারীরাও নিস্তার পাবেন না। তিনি অভিযোগ করছেন, মোদি গং তাঁদের দুর্নীতির কাগজপত্র পর্যন্ত লোপাট করে ফেলেছেন। কিন্তু এত অভিযোগ যাঁর বিরুদ্ধে সেই লোলিত মোদি কী বলছেন? গতকাল সন্ধ্যায় ‘টুইটারে’ লিখেছেন, ‘আমি এখনো আইপিএলের চেয়ারম্যান। শুধু বহিষ্কৃত হয়েছি। অপেক্ষা করুন—মাত্র শুরু।

’ মাত্র কি ‘খেলা’ শুরু!

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।