আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

কে এই আবদুর রহিম মজুমদার???



প্রিয় ব্লগার বন্ধু, পাঠক, ভিজিটরবৃন্দ আমার শুভেচ্ছা নিন। আজ এক ভিন্ন বিষয় নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। প্রেসফ্রিডমের ওপর লেখা আমার একটি আর্টিকেল হুবহু নকল করা হয়েছে। জনৈক আবদুর রহিম মজুমদার এর নামে কানাডা থেকে প্রকাশিত নতুন দেশ পত্রিকার প্রথম বর্ষ সংখ্যা ৩৮, ২১ এপ্রিল, ২০১০ সংখ্যায় আমার লেখাটি ছাপানো হয়। (http://notundesh.com/motmotantor_news4.html) ।

অথচ এই লেখাটি আমার লেখা। এবং এটি ছাপা হয়েছে বাংলাদেশের প্রাচীন দৈনিক সংবাদপত্র সংবাদ এ, ১৬ জুলাই, ২০০৯ তারিখে। (Click This Link) এমনকি আমার লেখা ইংরেজী বই শান্তির জন্য সংগ্রাম (২৬ মার্চ, ২০১০ প্রকাশিত, আদর্শ প্রকাশন, ঢাকা) বইয়েও স্থান পেয়েছে লেখাটি। প্রিয় পাঠক, বন্ধু, ব্লগার, ভিজিটর আপনারাই বিচার করুন। আপনাদের জ্ঞাতার্থে আমার লেখাটি এখানে তুলে দিলাম।

সাহসী সাংবাদিক শামছুর রহমান হত্যা দিবস এবং বাংলাদেশে সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতন জাহাঙ্গীর আলম আকাশ: দীর্ঘ স্বৈরশাসনের অবসান হয়েছে মাত্র। তখন আমি কলেজে পড়ি। শিক্ষানবিশ রিপোর্টার হিসেবে দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড় থেকে কাজ করি দৈনিক বাংলায়। তখনই দৈনিক বাংলা কার্যালয়ে পরিচয় দু:সাহসী দেশপেমিক সাংবাদিক শ্রদ্ধেয় শামছুর রহমান কেবল ভাইয়ের সঙ্গে। ১৬ জুলাই তাঁর হত্যাবার্ষিকী।

২০০০ সালের এই দিনে দুর্বৃত্তরা তাঁকে হত্যা করে বুলেটের আঘাতে। তখন তিনি দৈনিক জনকণ্ঠে কাজ করেন যশোর থেকে। সন্ত্রাস, রাজনীতি ও সমাজনীতির সব তথ্যের জীবন্ত ভান্ডার ছিলেন কেবল ভাই। বাংলাদেশের সাংবাদিকদের জীবনে দিন যায়, মাস যায়, বছর ঘুরে নতুন বছর আসে। কিন্তু সাংবাদি হত্যা-নির্যাতনের বিচার হয় না।

বোমার আঘাতে আরেক দেশপ্রেমিক সাংবাদিক মানিক সাহার মাথার খুলি উড়িয়ে দিয়েছিল। আজও জ্বল জ্বল করে ভেসে ওঠে মানিক সাহার সেই রক্তাক্ত ছবিটা। মুক্ত গণমাধ্যমতো পরের কথা সাংবাদিদের জীবনেরই কোন নিশ্চয়তা নেই। গণতন্ত্র ছাড়া গণমাধ্যম স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে না, মানবাধিকারও থাকে না। অসাম্য আর অন্যায্যের পৃথিবীতে সাংবাদিকতা দিন দিন ঝঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

যুদ্ধ-বিধ্বস্ত ও অশান্ত দুনিয়ায় সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতন নতুন কোন বিষয় নয়। তাইতো বিশ্বময় প্রেসের স্বাধীনতা তথা প্রেস ফ্রিডম বা মুক্ত গণমাধ্যমের জন্য আওয়াজ তীব্র হচ্ছে ক্রমশ:। এই আওয়াজ গণমাধ্যমের গন্ডি পেরিয়ে নাগরিক সমাজের বৃহৎ অংশকেও টানতে সক্ষম হয়েছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ছাড়া গণতন্ত্র অসহায়। গণমাধ্যম ও গণতন্ত্র একে অপরের পরিপুরক।

বিশ্বে তথা দক্ষিণ এশিয়ায় সাংবাদিকতার ঝুঁকিটা চরমে পৌঁছেছে। আর বাংলাদেশেতো প্রায় প্রতিনিয়ত সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম রাষ্ট্রযন্ত্রের খবরদারি, নিপীড়নের মধ্যেই আছে। জনগণের তথ্য জানার অধিকারকে রক্ষা করা, গণতস্ত্র আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের পথকে এগিয়ে নেয়া, অধিকারহারা শোষিত বঞ্চিত অসহায় মানুষদের পক্ষে এবং সমাজপতি, রাষ্ট্রনায়কদের দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার মহান দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে গণমাধ্যম। সামাজিক ও পেশাগত দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে সাংবাদিকরা শত প্রতিকুলতার মধ্যেও কাজ করছেন। বাংলাদেশে দু’টি জনপ্রিয় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে।

দুর্নীতি, রাজনৈতিক সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজি, দখলদারিত্ব ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা লুটপাট নিয়ে খবর বেরুলেই হলো। সংশি¬ষ্ট সাংবাদিকের খবর হয়ে যাবে। একই কারণে সাংবাদিককে মন্ত্রি-এমপিদের অথবা রাজনৈতিক প্রভাবশালি মহলের খপ্পড়ে পড়তে হবে। গণমাধ্যমকর্মীদের, প্রভাবশালিদের রোষানলে পড়ার ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। হত্যা-নির্যাতন, হয়রাণি, গ্রেফতার, মিথ্যা অভিযোগে মামলা দায়ের স্বাধীন সাংবাদিকতার পথকে বন্ধুর করে তুলেছে।

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় সাংবাদিকদের জন্য জীবন খুব বিপদজনক। কারণ সাংবাদিকরা মানুষের কথা বলেন, মানুষের বিপদ হত্যা-নির্যাতস, রাজনৈতিক দূুর্বৃত্তায়ন, দুর্নীতি-দু:শাসনের কথা তুলে ধরেন। ফলে সাংবাদিকদের উপরেই সবচেয়ে বেশি নিগ্রহের কষাঘাত এসে পড়ে। যেসমস্ত সাংবাদিক বা মিডিয়া মানুষের নিগ্রহের বিরুদ্ধে কথা বলতে চেষ্টা করে কিংবা যারা মানুষের দুর্দশার কথা তুলে ধরার চেষ্টা করে তাদের উপরেই সবচেয়ে বেশি অত্যাচার নেমে আসে। এখানে আমরা উদাহরণ দিতে পারি একুশে টেলিভিশন (বন্ধ হবার আগেকার একুশে টিভির কথা বলা হচ্ছে) এবং সিএসবি নিউজ এর।

একুশে টিভি এবং সিএসবি নিউজ এই দু’টি টিভি চ্যানেল ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন ছল-ছুতোয় সরকার এই বৃহৎ দু’টি টিভি চ্যানেল বন্ধ করে দিয়েছে। যদিও আদালতের রায়ের মাধ্যমে একুশে টেলিভিশন পুনরায় চালু হয়েছে। বাংলাদেশে সাংবাদিক নির্যাতনের সর্বশেষ উদাহরণ হলো ময়মনসিংহের গফরগাঁয়ে দৈনিক সমকালের বিপ¬বের হাত-পা ভেঙ্গে দেয়া। অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য সরকার দলীয় একজন সাংসদের প্রত্যক্ষ মদদে এ ঘটনা ঘটেছে বলে সংবাদপত্রের খবরে প্রকাশ।

সেই ঘটনার সর্বশেষ কী অবস্থা তা আমরা আজও জানি না। ঢাকার উত্তরায় একজন তরুণ কমিউনিটি বেইসড একটি পত্রিকার তরুণ রিপোর্টার নূরুল খুন হয়েছেন চলতি বছরের গত ৩ জুলাই। এইতো মাত্র ক’দিন আগে রাজশাহীতে সন্ত্রাসী হামলায় আহত হয়েছেন ডেইলি স্টারের রিপোর্টার আনোয়ার আলী। আর জরুরি অবস্থায় এই লেখক ছাড়াও দ্য ডেইলি স্টারের তাসনীম খলিল নির্যাতিত হন। জরুরি অবস্থা চলাকালে সিলেট, বান্দরবন, নীলফামারীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাংবাদিদের বিরুদ্ধে হয়রাণিমূলক মামলা দায়েরের ঘটনা ঘটে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্টে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর সামরিক শাসন দেশের মানুষের ওপর জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসে। বহু লড়াই-সংগ্রাম আর আত্মাহুতির মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে দীর্ঘ সামরিক শাসনের অবসান ঘটে, মুক্তি পায় গণতন্ত্রের পায়রা। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্টিত হয় জেনারেল জিয়াউর রহমানের গড়া দল বিএনপি। ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় এসেই বিএনপি সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে ভেঙ্গে চুরমার করে দেয়। সরকারি মালিকানাধীন সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থা, গণমাধ্যম থেকে বিএনপির কাছে ‘অপছন্দনীয়’ সাংবাদিকরা গণছাঁটায়ের শিকার হন।

কোন রকমের টার্মিনেশন বেনিফিট ছাড়াই বিএনপি সরকার ছাঁটাই করে দৈনিক বাংলার তৎকালীন সম্পাদক তোয়াব খান, তৎকালীন সাপ্তাহিক বিচিত্রার নির্বাহী সম্পাদক শাহরিয়ার কবিরসহ ১৪ জন সিনিয়র সাংবাদিককে। ২০০২ সালের নভেম্বর মাসে বিবিসি চ্যানেল ফোরের জন্য একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের জন্য বাংলাদেশে এসেছিলেন বিদেশী সাংবাদিক জাইবা মালিক ও ব্র“নো সরেনটিনো। বিএনপি সরকার ব্রিটিশ ও ইতালীয় এই দুই সাংবাদিকসহ বাংলাদেশের শাহরিয়ার কবির, সালিম সামাদ ও পিসিলা রাজকে গ্রেফতার করে। আর ময়মনসিংহের সিনেমা হলে বোমা হামলার ঘটনার সাথে জড়িত করে গ্রেফতার করা হয় বাসস’র সাংবাদিক এনামুল হক চৌধুরী ও বিশিষ্ট কলামিষ্ট ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসির মামুনকে। আটকাবস্থায় বিএনপি সরকার সাংবাদিকদের ওপর বর্বর নির্যাতন চালিয়েছিল।

২০০৯ সালের এপ্রিল মাসের শেষ দিকে দৈনিক সংবাদের ধামরাই প্রতিনিধি শামীম পারভেজ খানকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় দুর্বৃত্তরা। এলাকার নিরীহ লোকদের বিভিন্ন মিথ্যা মামলা থেকে বাঁচতে সহায়তা করার জন্য শামীম পারভেজ ভূমিকা গ্রহণ করেন। এতেই ক্ষুব্ধ হয় স্বার্থান্বেষী মহল। হুমকির বিষয়ে থানায় জিডি হলেও সন্ত্রাসীরা গ্রেফতার হয়নি। প্রায় সব সংবাদপত্রের রিপোর্ট অনুযায়ী, একই মাসের শুরুর দিকে ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে দৈনিক সমকাল প্রতিনিধি শামীম আল আমিন বিপ¬বের ওপর সাংসদ অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন গিয়াসউদ্দিন আহমদ এর ক্যাডার বাহিনী আক্রমণ করে বিপ¬বের হাত-পা ভেঙ্গে দেয়।

২০০৬ সালের ১৬ এপ্রিল চট্রগ্রামে বাংলাদেশ ও অষ্ট্রেলিয়ার মধ্যে ক্রিকেট ম্যাচ চলাকালে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ বাহিনী সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়। পুলিণশের তৎকালীন ডিসি আলী আকবরের নেতৃত্বে সেদিন পুলিশ বাহিনী অন্ত:ত ৩০ জন সাংবাদিককে আহত করে। প্রায় অর্ধশত বছর ধরে সাংবাদিকতা পেশায় নিযুক্ত প্রবীণ আলহাজ্ব জহিরুল হককে সেদিন পুলিশ যেভাবে আক্রমণ করেছিল তা কোন সভ্য সমাজে ভাবাই যায় না। পুলিশ রাইফেলের বাঁট দিয়ে সাংবাদিকদের পিটিয়েছে। সাংবাদিক সমাজের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ঘটনা তদন্তে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল।

সেই রিপোর্ট আজও আলোর মুখ দেখেনি। হামলাকারী পুলিশ কর্মকর্তাসহ অন্যান্যরা কেউই শাস্তি পাননি এখনও। ২০০৬ সালের ২৯ মে কুষ্টিয়ায় তৎকালীন সরকার দলীয় সেখানকার সংসদ সদস্যের লেলিয়ে দেয়া ক্যাডার বাহিনীর হামলায় গুরুতর আহত হন বিশিষ্ট সাংবাদিক বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও বাংলাদেশ অবজারভার সম্পাদক জনাব ইকবাল সোবহান চৌধুরী। আমাদের স্মৃতিতে আজও সেই রক্তাক্ত ইকবাল সোবহান চৌধুরীর ছবি ভেসে ওঠে। সন্ত্রাসী ক্যাডারদের কোন শাস্তি হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই।

সাংবাদিকতাই আমার পেশা, নেশা, সার্বক্ষণিক ধ্যান, চিন্তা-চেতনার মধ্যেই আছে আমার সাংবাদিকতা। মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা, জনকল্যাণ, মানুষের ওপর যে অন্যায়-অত্যাচার, অবিচার হয় এসব নিয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাই হলো আমার জীবনের জন্য কাল। নন পার্টিজানশিপ সাংবাদিকতা করার এবং সর্বদাই ইনভেষ্টিগেটিভ জার্নালিজম করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমি কখনই ভাবতে পারি না, কল্পনাও করিনি কোনদিন যে অন্যায়-অবিচার নির্যাতনের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে আমাকেই রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার হতে হবে। আমি কল্পনাও করিনি যে যেধরনের অন্যায়-নির্যাতনের বিরুদ্ধে আমি রিপোর্ট করেছি সেইধরনের নির্যাতনই আমার জীবনটাকে পাল্টে দেবে? আজকে এমন একটা বাস্তবতা কিংবা সত্যের মুখোমুখি যে এক ধরনের একটা অনিশ্চয়তা একটা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে আমার জীবনটাকে।

আমি জানি না এ অবস্থার অবসান হবে কিনা? কারণ আমরা এমন একটি অসভ্য-বর্বর সমাজের দিকে অগ্রসর হচ্ছি, যে অপশক্তি এই সমাজকে সবসময় অন্ধকারের দিকে নিয়ে যেতে চায় সেই অপশক্তি দিন দিন সমাজকে আবৃত করে ফেলছে। আমরা জানি, শত হয়রাণি, নির্যাতন ও হুমকিতেও জনজোয়ারের ঢেউ আটকানো যায় না। তেমনি কোন কোন মানুষকে আদর্শচ্যুত করা যায় না। অত্যাচার, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করেও অপশক্তি কখনই সত্যকে নিভিয়ে দিতে পারে না। তেমনি বাংলাদেশের সত্যান্বেষী কলম সৈনিকদেরও দমানো যাবে না হত্যা-নির্যাতন করে।

আমাদের বিচার প্রক্রিয়ার মধ্যেই নির্যাতন, অত্যাচার বা নিপীড়ন বিষয়টা এমনভাবে গ্রেথিত যে মানুষ খুব স্বাভাবিকভাবেই (ব্যতিক্রম ছাড়া) নিয়েছে রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্রসফায়ারের মত মানব হত্যার জঘন্য ঘটনাকে। পুলিশ, র‌্যাব বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর হেফাজতে নির্যাতনের প্রেক্ষিতে মৃত্যুর পরও সমাজ কোন উচ্চবাচ্চ করে না। সরকার সবসময় এসব অপকর্মকে বৈধতা দিয়ে আসছে। অন্যকথায় দায়মুক্তি দিচ্ছে। এখানে মিডিয়ার ভূমিকাও প্রশ্নবোধক।

মিডিয়া তোতাপাখির ন্যায় ক্রসফায়ারকর্তার দেয়া প্রেসবিজ্ঞপ্তিটি ছেপে দিতে কার্পণ্য করে না। অবশ্য যারা সাহস নিয়ে দু’একটি রিপোর্ট করেন তারা পড়েন চরম বেকায়দায়। জাতির বিবেক, জাতিকে যারা সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে সেই সাংবাদিকদের উপরে র‌্যাবের নির্যাতন চরমে এসে পৌঁছায় জরুরি অবস্থার সময়ে। তার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ আমি নিজেই। আর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের উদাহরণ দেয়া যায় আমাদেরই সাহসী সাংবাদিক বিশিষ্ট কলামিষ্ট মানবাধিকার ব্যক্তিত্ব শাহরিয়ার কবির এর।

সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরের উপর যে বর্বর রাষ্টীয় নির্যাতন হয়েছে আজও তিনি তাঁর শরীরে সেই ক্ষতচিহ্ন নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। একই অবস্থা আমারও। কিন্তু তারপরও আমরা চাই, আর কেউ যেন নির্যাতনের মাধ্যমে কিংবা বিচার বহির্ভূত হত্যার শিকার না হয়। দেশে সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতনের কিঞ্চি ৎ খতিয়ান তুলে ধরা যাক এবার। খ্যাতিমান সাংবাদিক দৈনিক সংবাদ, নিউ এজ, বিবিসি ও বন্ধ হয়ে যাওয়া একুশে টেলিভিশন এর প্রতিনিধি মানিক সাহা সন্ত্রাসীদের বর্বর ও নৃশংস বোমা হামলায় নিহত হন ২০০৪ সালের ১৫ জানুয়ারি বেলা সোয়া একটার দিকে।

এমন নৃশংস কায়দায় সাংবাদিক হত্যার নজির নেই আমাদের দেশে। মানিক সাহা হত্যার প্রতিবাদে সারাদেশ জুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এই হত্যাকান্ডের প্রকৃত খুনিরা আজও ধরাছোয়ার বাইরে। ২০০৪ সালের ২ রা মার্চ দি নিউ এজ পত্রিকার খন্ডকালীন সাংবাদিক কেরানীগঞ্জের আবদুল লতিফ নাবিলকে জবাই করে হত্যা করা হয়। স্ত্রী ফারহানা সুলতানা কনকের পরকীয়া প্রেমে বাধা দেয়ার কারণে স্ত্রীর প্রেমিক নির্জন মোস্তাকিন, মোস্তাকিনের বন্ধু শহিদুল ইসলাম পাপ্পু ও নাবিলের স্ত্রী কনক মিলে নাবিলকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

মোস্তাকিন, পাপ্পু ও স্ত্রী কনককে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ২০০৪ সালের ২৭ জুন খুলনায় দৈনিক জন্মভূমি সম্পাদক ও খুলনা প্রেসক্লাব সভাপতি হুমায়ূন কবির বালুকে সন্ত্রাসীরা বোমা মেরে হত্যা করে। একই সালের ২১ আগস্ট রাতে সন্ত্রাসীরা খাগড়াছড়ির মানিকছড়ির আজকের কাগজ প্রতিনিধি ও উপজেলা ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেনকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে জবাই করে হত্যা করে। বগুড়ার দূর্জয় বাংলার নির্বাহী সম্পাদক ও বিএফইউজে সহ-সভাপতি দীপংকর চক্রবর্তী (৫৯) কে একই বছরের ২ অক্টোবর গভীর রাত (সাড়ে ১২ টা) শেরপুরের সান্যালপাড়ার নিজ বাড়ির পাশেই সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। ঢাকার কাঁটাবনে ২০০৪ সালের ২৪ অক্টোবর বিকেলে দৈনিক এশিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকা অফিসে ঢুকে সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করে শহীদ আনোয়ার অ্যাপোলো (৩৫) কে।

অ্যাপোলো দৈনিক এশিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক বলে তার পকেট থেকে একটি ভিজিটিং কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। ঠিকাদারি ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকান্ড ঘটে থাকতে পারে বলে জানা গেছে। ২০০৫ সালের ৫ ফেব্র“য়ারি খুলনা প্রেসক্লাবে বোমা হামলা চালিয়ে দৈনিক সংগ্রাম’র খুলনা ব্যুরো প্রধান শেখ বেলালউদ্দিনকে হত্যা ও আরও ৪ সাংবাদিককে আহত করা হয়। ২০০৫ সালের ২৯ মে দিবাগত মধ্য রাতে কুমিল¬ায় দৈনিক কুমিল¬া মুক্তকন্ঠ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মুহাম্মদ গোলাম মাহফুজ (৩৮) কে জবাই করে হত্যা করে সন্ত্রাসী-দুর্বৃত্তরা। সন্ত্রাসী-দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত হয়েছেন ফরিদপুরে সমকালের প্রতিনিধি গৌতম দাস, যশোরে দৈনিক রানারের গোলাম মাজেদ, খুলনায় হারুন-অর রশিদ খোকন, দৈনিক জন্মভূমির হুমায়ুন কবির বালু, দৈনিক সংবাদের মানিক সাহা, রাঙ্গামাটির জামালউদ্দিন, ঝিনাইদহের মীর ইলিয়াস হোসেন দিলীপ, দৈনিক সংগ্রামের শেখ বেলালউদ্দিন, নহর আলী, শুকুর আলী হোসেন, নারায়ণগঞ্জের আহসান আলী, মৌলভীবাজারের ফারুক আহমেদ, নীলফামারীর নীলসাগরের মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, সাতক্ষীরার শ.ম.আলাউদ্দিন, যশোরের দৈনিক জনকণ্ঠের শামছুর রহমান কেবল, সাইফুল আলম মুকুল।

সাংবাদিক, লেখক,বুদ্ধিজীবী, মানবাধিকারকর্মীদের ওপর নির্যাতনের একটি ঘটনায়ও নির্যাতনকারির শাস্তি হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। জোট আমলে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কারণে বিশিষ্ট কলামিষ্ট অধ্যাপক মুনতাসির মামুন, সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, এনামুল হক চৌধুরী সালিম সামাদ রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। জোট আমলে নির্যাতিত হয়েছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, আলহাজ্ব জহিরুল হক। নির্যাতিত হয়েছেন সাংবাদিক প্রবীর শিকদার, টিপু সুলতান। বিগত ১৫ বছরে বাংলাদেশে ২৩ জন সাংবাদিক খুন হয়েছেন।

ঢাকার উত্তরা থেকে প্রকাশিত কমিউনিটিবেইসড পাক্ষিক মুক্তমনের সাংবাদিক নূরুল ইসলাম সুজন সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হয়েছেন। বাংলাদেশে সাংবাদিক হত্যাকান্ডের সর্বশেষ শিকার এই সুজন। দেশে আলোচিত সাংবাদিক হত্যাকান্ড হলো সাংবাদিক মানিক সাহা, শামছুর রহমান কেবল, হুমায়ুন কবির বালু, দীপংকর চক্রবর্তী, গৌতম দাস, হারুনর রশিদ খোকন, সাইফুল আলম মুকুল, শেখ বেলালউদ্দিন উলে¬খযোগ্য। সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নির্যাতিত হয়েছেন দৈনিক জনকণ্ঠের সম্পাদক প্রকাশক মুক্তিযোদ্ধা আতিকউল¬াহ খান মাসুদ, তাসনীম খলিল, কার্টুনিষ্ট আরিফুর রহমান প্রমূখ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার জের ধরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত ঘটনায় বিশিষ্ট নাট্যকার, কলামিষ্ট মলয় ভৌমিক বর্বর নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন।

এসব সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতনের সাথে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের বিচার হয়নি। বেসরকারি সংগঠন অধিকারের রিপোর্ট মতে, বর্তমান সরকারের আমলে বিগত ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন, ২০০৯ পর্যন্ত ৪১ জন সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এরমধ্যে ৫ জন রিপোর্ট প্রকাশের কারণে শারীরিকভাবে নির্যাতিত হন। একই সময়ে ৩৮ জন সাংবাদিককে হুমকি দেয়া হয়েছে। সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতনের ঘটনাগুলো নতুন নয়।

জরুরি অবস্থার সময় সাংবাদিকদের আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। সাংবাদিকদের যেভাবে পর্যুদস্ত করা হয়েছে তার প্রতিকার সাংবাদিক সমাজ কার্যকরভাবে চাইতে পেরেছে কিনা সেটাও আজকে একটা বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। সাংবাদিকদের বিভাজন, রাজনীতিকরণ, সুশাসনের অভাব, কার্যকর গণতন্ত্রহীনতা, সুবিধাবাদিতা, বৈষম্য, ধনিক পুঁজি অভিমুখী গণমাধ্যমসহ নানা কারণে সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতনের কোন প্রতিকার হয়নি আজও। একজন সাংবাদিক হিসেবে দেশের সাধারণ একজন নাগরিক হিসেবে আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, যেকোন হেফাজতে কোন নাগরিককে সে সাধারণ নাগরিক হোক অথবা তিনি রাজনীতিবিদ হোক অথবা তিনি পেশাজীবি হোন, কিংবা গণমাধ্যমকর্মী হোন কারও কোন নির্যাতনের ঘটনা যেন না ঘটে। সাংবাদিক সমাজের পক্ষ থেকে এটা আমাদেও দাবি কিংবা প্রত্যাশা।

যদি এই ধরনের কোন ঘটনা ঘটে তার সুষ্ঠু তদন্ত করে যারা এর সাথে জড়িত থাকবে তাদের বিচারের কাঠগড়ায় আনতে হবে। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত সংঘটিত সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতনের ঘটনার কার্যকর তদন্ত এবং দোষিদের বিচারের মুখোমুখি আনয়ন অত্যন্ত জরুরি। কেননা, সভ্য সমাজে মানব হত্যা-নির্যাতন কল্পনাও করা যায় না। বাংলাদেশের সমাজ যদি আদর্শভিত্তিক পরিবর্তিত না হয় তাহলে প্রেসফ্রিডমটা মূলত: সোনার হরিণ ছাড়া আর কিছুই নয়। দেশের মানুষ দেখেছেন, দুর্নীতিবাজরা সব সরকারের আমলেই নিয়ন্ত্রিত।

আর এসব দুর্নীতিবাজ কিংবা কালো টাকার মালিকরাই বাংলাদেশে মিডিয়ার ওনারশিপের জায়গাটা ধীরে ধীরে দখল কওে নিচ্ছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মিডিয়াকে ঘোষণা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কালো টাকার মালিক মিডিয়ার ওনারশিপে থাকায় তাদের মধ্যে একেবারেই ব্যতিক্রম ছাড়া কোন ইডিওলজি নেই। ফলে সাংবাদিকরা প্রথমত: সেলফসেন্সরশিপের মুখে পড়ে। সরকারি বিজ্ঞাপনকে ঘিরে দেশে মুড়ি-মুড়কির মত সংবাদপত্র বেরিয়েছে।

এর কতগুলো জনগণের কল্যাণে কাজ করছে তাও আজ একটি বড় প্রশ্ন। সরকারের তরফ থেকে মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণের একটি অন্যতম বড় হাতিয়ার হলো বিজ্ঞাপন। মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলো বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে। পেশাদারিত্বেও সংকট বাংলাদেশে প্রেসফ্রিডমের ক্ষেত্রে একটি অন্যতম বাধা। দেশে প্রেসফ্রিডমের আরও একটা সমস্যা হলো কনটেম্পট টু কোর্ট এবং মানহানি বিষয়ক সুনির্দিষ্ট কোন সংজ্ঞা না থাকায় গণমাধ্যমকর্মীদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

সম্প্রতি দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক-প্রকাশকের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ উঠেছে। ফলে কোনটা লিখলে আদালত অবমাননা হবে তার কোন সৃনির্দিষ্ট বর্ণনা নেই কোথাও। এনিয়ে সাংবাদিক, সম্পাদক সকলেই একটা চরম ঝুঁকির মধ্যে। সর্বোপরি বাংলাদেশে কোন জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা নেই। জবাবদিহিতা ও সুশাসনের অভাব, সাংবাদিদের মধ্যে অনৈক্য, রাজনৈতিক বিভাজন, আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক কাঠামোর কারণে সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতন থামছে না।

সাংবাদিক খুন বা নির্যাতিত হলে তার প্রতিকার মেলে না, বিচার হয় না। ফলে সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতনকারিরা উৎসাহিত হচ্ছে। সাংবাদিক সমাজ আমরা দেশে এযাবৎ সংঘটিত সকল সাংবাদিকসহ সকল হত্যা-নির্যাতনের বিচার চাই। সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতনসহ সকল হত্যা-নির্যাতনের প্রতিকার কেবল তখনই পাওয়া যেতে পারে যখন সমাজে সত্যিকারের আইনের শাসন, কার্যকর গণতন্ত্র থাকে। অত্যাচার-নির্যাতনের কোন প্রতিকার, বিচার, প্রতিবিধান নেই-এই যে একটা ধারণা মানুষের মনে বদ্ধমূল হয়েছে সেটাকে ভাঙতে হলে চাই দেশপ্রেমিক জনঐক্য।

রাজনীতি, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীস্বার্থের উর্দ্ধে ওঠে গণ জাগরণ গণবিপ¬বের মাধ্যমেই কেবল সমাজ ও রাষ্ট্রের ভেতরকার সমস্যাগুলোর সমাধান হতে পারে। সমাজ ও রাষ্ট্রে দায়মুক্তি এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির শেকড় এত গভীরে যে সহকর্মীর নৃশংস হত্যাকান্ডের পর সাংবাদিক সমাজকে ’বিচার পাই না তাই বিচার চাই না’ এমন ¯ে¬াগান লিখে রাজপথে নামতে হয়। আমরা আশা করবো, এই অবস্থার পরিবর্তন হবে। তবে সুখের এবং আশার কথা হলো বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেশে কমিউনিটি রেডিও নীতিমালা প্রণয়ন করে গেছে। মানবাধিকার কমিশন গঠন করা হয়েছে।

বর্তমান সরকার রাইট টু ইনফরমেশন অ্যাক্ট প্রণয়ন করে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে একটি ধাপ এগিয়ে এনেছে বলে বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে। তবে এসব আইন প্রণয়ন করলেইতো আর হবে না। এগুলোকে স্বাধীনভাবে চলতে দিতে হবে এবং কার্যকর করতে হবে। শুনেছি আমাদের নয়া তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাসমূহ তুলে নেয়া হবে। ভাল কথা।

কিন্তু একটি কথা পরিস্কার হওয়া দরকার। সেটা হলো ধরুণ, একজন সাংবাদিক এক্স। তিনি সত্যি সত্যি চাঁদাবাজি করেছেন। তার মামলাও কী তবে তুলে নেয়া হবে? এক্ষেত্রে দায়িত্বশীল নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, না সব মামলা তোলা উচিত হবে না। কেবলমাত্র যেসব মামলা রাজনৈতিব উদ্দেশ্য প্রণোদিত, মিথ্যা-হয়রাণিমূলক সেইসব মামলাই তুলে নেয়া হোক।

অন্যথায় দেশে আইনের শাসন রক্ষা করা যাবে না। ১১.৭.২০০৯

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।