আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

দুই টাকার কাগজ

!

মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে আসা কিছু দুই টাকার কাগজ--বাংলা সংবাদপত্র জগতের সাম্প্রতিকতম সংযোজন। ঢাকা শহরের বাস-যাত্রীরাই কাগজগুলোর পয়লা নম্বর কাস্টমার। জ্যামে আটকে আছে বাস, দাঁড়িয়ে কিংবা বসে ঘেমে গোসল হচ্ছেন আপনি। পাঁচ মিনিট, দশ মিনিট--তথৈবচ; কি করছেন? বুকে ফুঁ দিয়ে গরম তাড়ানোর ব্যর্থ চেষ্টা? ভাই, দু'টাকার একটা নেত্‌নেতে নোট দিয়ে কিনে নিন না 'অমুকদেশ প্রতিদিন' অথবা 'ঘোরের ডাক'। 'তেনাদের সময়' এর জন্য অবশ্য একটি টাকা বেশি গুনতে হবে।

সত্য-অসত্য, ঝাল-মিষ্টি খবর পড়ে সময়টা ভালোই কাটবে। হাতপাখা হিসেবে ও বস্তুর উপযোগীতা তো রয়েইছে। মাইরি বলছি, ৮ থেকে ১২ পাতার কাগজগুলোতে সুন্দর বাতাস হয়। উত্তরা-বাড্ডা-রামপুরা রুটের সিটিং সার্ভিস গুলোর নিয়মিত যাত্রী আমি। এ রুটের যাত্রীদের বুদ্ধিমত্তার লেভেল বেশ উঁচু, অন্তত এই অভাজনের চাইতে কিছুটা ওপরে।

তা না হলে বাসে উঠেই কেবল 'চুল্লী-পাশে' সিট্‌ পাই কেন?! চুল্লী-পাশের মানে বুঝেছেন তো ভায়া? বাসের যে পাশটায় জুলুমবাজ সূর্য্যটা চালায় অকথ্য নির্যাতন ( ও ব্যাটাকে আবার গদোগদো স্বরে 'মামা' বলে ডাকা, যত্তোসব!)। কি আর করা, সিট্‌ পাওয়ার কৃতিত্তে নিজের পিঠ চাপড়ে বসে পড়ি। কি ভেবেছেন? সারাটা রাস্তা রোদে পুড়ে টোস্ট হই? মোটেই না। এভারেজের চেয়ে কিছুটা লো, তবে বুদ্ধি জিনিসটা যে একেবারেই 'লেই' তা কিন্তু 'লয়' দাদারা। দু'টাকা দিয়া কিনে নেই একটা 'অমুকদেশ প্রতিদিন'।

কয়েকটা পাতা আটকে দেই পাশের জানালায়। আহা, বড্ড আরাম হয়। যা বলছিলাম, রোদ ঠেকাতে গিয়েই এসব 'ঠেকার' পত্রিকার সাথে পরিচয়। পরিচয়ের প্রথম দিন থেকেই আমি মুগ্ধ। এবং খানিকটা হতবাক।

১২ পাতার কাগজ। মূল্য ২ টাকা। হিসেব তো মিলতেই চায় না। তার ওপর কোন কোনটার দু'পাতা জুড়ে শিল্পা, রিমি, রাইমা, প্রিয়াংকা সহ ভুবনের তাবৎ উদ্ভীন্ন যৌবনাদের রঙ্গীন সব ছবি (এহেম, রোদ ঠেকানোর অজুহাত কি খুব দূর্বল ঠেকছে?)। খোদা জানেন কিভাবে এদের চলে।

বিজ্ঞাপন বেচে? কি জানি বাবা। মূর্খ্য, নাদান আমি। কোনকালেই গভীর কিছু বুঝি নি। পরম সৌভাগ্য আমার। জাতের পত্রিকা এগুলোর কোনটাই না।

বিষয়বস্তু, সংবাদের মান ( এক কথায় কন্টেন্ট ) যেমনই হোক, কেবল মূল্যটাই এ কাগজগুলোকে জাতে উঠতে দেবে না। একটি দুই টাকার পত্রিকার নিয়মিত গ্রাহক-- অভিমন্যু মধ্যবিত্তরা এ কথা কিছুতেই স্বীকার করতে চাইবেন না। আর জাতে তোলার কাজটা কিন্তু মধ্যবিত্তদেরই। যুগ যুগ ধরে সাফল্যের সাথে এ মহৎ কর্ম তারা করে আসছেন। যাই হোক, নিম্ন মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র শিক্ষিত শ্রেনীর কিন্তু এ ধরনের কোন বালাই নেই।

আগে এদের বৃহৎ একটি অংশ পত্রিকা পড়ার বিলাসিতা সারতেন কোন একনিষ্ঠ পাঠকের ঘাড়ের পেছনে উঁকিঝুকি দিয়ে অথবা প্যাপার স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে (৮ টাকায় এক কেজি টমেটো পাওয়া যায়। পেট মোটা আস্ত একটা খবরের কাগজ কিনতে যাবে কে?! )। আজকাল তারা কিনে পড়ছেন। যারা একেবারেই পড়তেন না, তারাও ফাটা দু'টাকার নোটের বিনিময়ে নিয়ে নিচ্ছেন একটা এবং নিজের অজান্তেই রপ্ত করে ফেলছেন পত্রিকা পড়ার 'বাজে' অভ্যাস । মন্দ কি! আমাদের সাহিত্য জগতের কিছু মহারথীদের সম্পর্কে অভিযোগ আছে তাঁদের লেখা নাকি কিছুটা কাঁটা ছাড়া মাছের সাথে মেলে ।

সহজেই খাওয়া যায়, তবে স্বাদে ভূবনমোহিনী নয়; তার ওপর কাঁটা ছাড়ানোর রোমাঞ্চটুকোও পাওয়া যায় না। এ জাতের কোন লেখককে নিয়ে যখন ভালো কিছু না বললেই নয়, তখন বলা হয়--"বিশাল পাঠক গোষ্ঠী গড়ে তোলায় তাঁর অবদান অনস্বীকার্য"। দুই টাকার কাগজ গুলোর মত?

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।