আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

অলস চোখের কথা



অলস চোখ বা এমব্লায়োওপিয়া চোখের একটি মারাত্মক রোগ। এ রোগের নাম আপনি শুনে থাকতেও পারেন কিংবা নাও থাকতে পারেন। তবে সঠিক সময়ে যদি এ রোগের চিকিৎসা করা না হয় তবে একটি শিশু তার দৃষ্টি শক্তি হারাতে পারে। সাধারণত জন্মগত ভাবে বাচ্চারা অলস চোখে নিয়ে আসে না। কিন্তু দেখা যায় একটি চোখের দৃষ্টি শক্তি যদি কোনো কারণে হ্রাস পায় অর্থাৎ তার একটি চোখে ব্যাপক পরিমাণ পাওয়ারের দরকার পড়ে এবং অন্যটি যদি ঠিক থাকে তখন এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সে চোখটির পাওয়ারের দরকার সেটি ক্রমেই অলস হয়ে পড়ে অর্থাৎ চোখটি আর দেখার কাজে ব্যবহৃত হয় না। একটি শিশু সাধারণভাবে পূর্ণ দৃষ্টি ক্ষমতা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে না। তার বয়স যত বাড়তে থাকে একই সাথে তার চোখের দৃষ্টিও ততই বিকশিত হতে থাকে। সাধারণভাবে একটি শিশুর দৃষ্টি পূর্ণভাবে তৈরি হতে দেড় থেকে ছয় বছর পর্যন্ত সময় নিয়ে থাকে। এখন যদি কোনো এই ছয় বছরের আগে যদি কোনো শিশুর দুর্বল চোখের দৃষ্টি শক্তি ঠিক করা যায় তবে আর অলস চোখের মতো সমস্যায় কোনো শিশুকে পড়তে হয় না।

অলস চোখ হিসেবে যে চোখকে চিহ্নিত করা হয় সে চোখে শিশু ঠিকই কম দেখে। কিন্তু কর্ণিয়া থেকে রেটিনা পর্যন্ত এমনকি অপটিক নার্ভ পর্যন্ত পরীক্ষা করা হলে সে চোখে সাধারণভাবে কোনো ক্রটিই ধরা পড়বে না। অর্থাৎ চোখটিকে স্বাভাবিক বলেই মনে হবে। যত রকম পরীক্ষাই করা হোক না কেন চোখটি স্বাভাবিক বলেই মনে হবে। কিন্তু শিশু ওই চোখে দেখতে পায় না।

এ জন্য এ চোখকে অলস চোখ বলা হয়ে থাকে। একটা কথা খেয়াল রাখতে হবে, চট করে সাধারণভাবে অলস চোখ আছে কিনা তা নির্ধারণ করা যাবে না। একমাত্র চিকিৎসকের পক্ষেই অলস চোখ নির্ধারণ করা সম্ভব। তবে চোখ টেরা হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে অলস চোখ। দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার ফলে যে চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে, শিশু সেটি ব্যবহার করে না।

ফলে সে চোখটি যে কোনো এক দিকে বেঁকে যায়। নির্দিষ্ট একটি বয়সসীমার মধ্যে চিকিৎসার মাধ্যমে অলস চোখটি সচল করে তুললে টেরা চোখ ভালো হয়ে যায়। এ ছাড়া জন্মের পরপরই একটি শিশুর চোখ পরীক্ষা করিয়ে নেয়া ভাল। তাতে চোখের সমস্যর আগে ভাগে ধরা পড়ে। তবে নানা কারণে একদম শিশু বয়সে এভাবে চোখ পরীক্ষা করানো সম্ভব না হলেও শিশু যখন স্কুলে যায় তার আগে ভাগে একবার চোখ পরীক্ষা করা দরকার।

না হলে স্কুলের প্রথম দিনটিতে শিশুর চোখ পরীক্ষা করার একটি উদ্যোগ স্কুলের পক্ষ থেকে নেয়া উচিত। তা হলে শিশুর অলস চোখ আছে কিনা তা প্রথম দিকেই শনাক্ত করা বা নির্ণয় করা যেতে পারে। অসল চোখের ব্যাপারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারটি হচ্ছে, শিশু কিছু বুঝে ওঠার আগেই অলস চোখ তার দৃষ্টিশক্তিকে চিরতরে নষ্ট করে দেয়। কারণ, অলস চোখের চিকিৎসা সাত বছরের নিচে থাকলেই করা সম্ভব। সে সময় অলস চোখ আছে বলে ধরা পড়লে চিকিৎসা করে তা সারিয়ে তোলা যেতে পারে।

এই চিকিৎসা পদ্ধতিটিও তুলনামূলকভাবে সহজ। অলস চোখ আছে বলে ধরা পড়ার পর সাধারণভাবে একজন চিকিৎসক শিশুর ভালো চোখটি বেঁধে রাখতে বলেন এবং শিশুকে তার অলস চোখ দিয়ে যতোটি সম্ভব কাজ করতে বলা হবে। এভাবে শিশুর অলস চোখকে কাজ করাতে বাধ্য করা হলে তার চোখের আলসেমি আর থাকবে না। অর্থাৎ তার চোখ ভাল হয়ে যাবে। সাধারণভাবে এ কাজটি একটি শিশুর ছয় বা সাত বছরের মধ্যে করতে হবে।

তা হলে ভাল ফল পাওয়া যাবে। তবে সাত থেকে নয় বছরের মধ্যেই এ জাতীয় চিকিৎসা করা হলে ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু এরপর অলস চোখের আর কোনো ফলপ্রসু চিকিৎসা করা যায় না। #


এর পর.....

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।