আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বাংলাদেশ-ভারত পিরীতি যেন বালির বাঁধ না হয়



আজ হাসিনা ভারত সফরে গেলেন। এ সফরের ফলাফল নিয়ে তাঁর শত্রু-মিত্র সবাই উন্মুখ। দীর্ঘদিন যাবত আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে শক্তি ও সহায়তা প্রদানকারী প্রতিবেশী দেশের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক ভাল যাচ্ছিল না। অভিন্ন নদীর পানি, ফেণী সীমান্তে মহুরী নদী সংলগ্ন চরের মালিকানা, সিলেটে অপদখলকৃত ভূমি, উত্তরবঙ্গের ছিটমহল ছাড়াও ইদানিং আসামের উলফাকে বাংলাদেশ ব্যবহার করতে দেয়ার বিষয়সহ সমুদ্র সীমা নির্ধারণ নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্র প্রসারিত হচ্ছিল। এছাড়া ইসলামের নামে গড়ে উঠা জঙ্গীদের বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচিত হচ্ছিল।

তবে মহাজোট সরকার গত এক বছরে প্রমাণ করেছে যে বাংলাদেশে ইসলামের নামে বা অন্য কোন নামে জঙ্গীবাদের প্রশ্রয় দেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ পদক্ষেপ গ্রহণে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এছাড়া সহযোগীতামূলক কাজে বাংলাদেশ ভারতের প্রস্তাব গ্রহণ করতে ভীত নয়। ত্রিদেশীয় পাইপ লাইন স্থাপন, ত্রিপুরায় বিদু্যৎ কেন্দ্র স্থাপনে আশুগঞ্জ নদী বন্দর ব্যবহার ইত্যাদি বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ইতিবাচক সাড়া প্রদান করেছে। সুতরাং বলা যায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরের আগে ভারতের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপনে যথেষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। এখন ভারতকে তার সদিচ্ছার প্রমাণ দিতে হবে।

ডলার বা কোন সহায়তা নয় বা খুশী করার জন্য কোন প্রতিশ্রুতি নয়, ভারত যে বাংলাদেশের সাথে মর্যাদাপূর্ণ বন্ধুত্ব স্থাপন করতে চায় সে অনুভূতিটা নিয়ে যেন শেখ হাসিনা ফিরতে পারেন। একবার অবিশ্বাস ও সন্দেহের কালো ছায়া মুছে গেলে অন্যান্য সমস্যা আপনা আপনিই সমাধান হবে। ভারত একটি বড় দেশ। রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামরিক, বৈজ্ঞানিক ইত্যাদি অনেক দিক দিয়ে ভারত আজ বিশ্বের পরাশক্তির কাছাকাছি পোছে গেছে। সে তুলনায় বাংলাদেশের অগ্রগতি নিতান্তই স্বল্প।

আর এই অসমতাই সন্দেহের বীজ বুনে থাকে। ভারত যেহেতু বড় দেশ, সেজন্য শেখ হাসিনার এ সফরের মধ্য দিয়ে কংগ্রেস সরকার প্রমাণ করুক ''বড়র পীরিতি বালির বাঁধ'' নয়।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।