আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

গ্রাফিক-আর্ট ও প্রচ্ছদ শিল্পী মানেবন্দ্র সুর আর নেই !

বাংলাদেশ আমার দেশ, বাংলা আমার ভাষা...

আজ ২৪ শে ডিসেম্বর ২০০৯ দুপুরে মস্তিকে রক্তক্ষরণ জনিত কারণে গ্রাফিক-আর্ট ও প্রচ্ছদ শিল্পী মানেবন্দ্র সুর চলে গেলেন। ঐতিয্যবাহী পুরোনো ঢাকার শাঁখারীবাজারের বাসিন্দা সুদর্শণ মানুষ মানেবন্দ্র সুর সদা হাস্য বিনয়ী ও একনিষ্ঠ করিৎকর্মা মানুষ ছিলেন। পল্টনের গ্রাফিক্-স্ক্যান লিমিটেড ও মিউচুয়াল গ্রাফিক্সে তিনি দীর্ঘদিন দক্ষতার সঙ্গে গ্রাফিক-আর্ট সম্প্রসারণে আগ্রণি ভূমিকা রেখেছেন। দেড় দশকব্যাপী শিল্পী ধ্রুব এষের অঙ্কিত প্রচ্ছদরাজী সবই গ্রাফিক্স-প্রসেস হয়েছে মানবেন্দ্র সুরের হাতে। সে কারণেই দেশের প্রকাশনা শিল্পের কেন্দ্রস্থল ঢাকার বাংলাবাজারের সৃজনশীল প্রকাশক পাড়ায় নিঃশব্দে শীতের বাতাস হাহাকার করে বলছে, `অমর একুশে বই মেলা ২০১০' -এর আগ মুহূর্তে মানবেন্দ্র সুর আর নেই? সৃজনশীল গ্রন্থজগতের প্রচ্ছদ শিল্পের নেপথ্যের এই মানুষটির আকস্মিক প্রয়াণ আমাদের প্রকাশনা শিল্পের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

ধ্রুব এষের বাসায় গিয়ে তাঁর চোখে চোখ রাখতেই স্পষ্ট হয়ে উঠছিল মানবেন্দ্র সুরের অনুপস্থিতি। শাঁখারীবাজার বারোয়ারি পুজা মিন্দর থেকে প্রতি বছর শারদীয়া দুর্গোৎবে প্রকাশিত দৃষ্টিনন্দন সাহিত্য সাময়িকী `অকাল বোধন' এর সম্পাদক ছিলেন মানবেন্দ্র সুর। অকাল বোধনে দেশের প্রতিষ্ঠিত সব লেখকই গল্প কবিতা উপন্যাস লিখতেন প্রধানত মানবেন্দ্র সুরের সাথে তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণেই। আর মানবেন্দ্র সুরের সম্পাদকীয় রুচি ও প্রকাশনার আভিজাত্যবোধ দেশের প্রধান লেখক কবি সাহিত্যিকদের জানাই ছিল। কারণ তাদের অধিকাংশ বইয়ের প্রচ্ছদ শিল্পী ধ্রুব এষ এবং সেই প্রচ্ছদের গ্রফিক্স-প্রসেস বা ফিল্ম পজিটিভ হয়েছে অকাল প্রায়াত এই সজ্জন মানুষটির মেধায়, পরিশ্রম, পেশাজীবিতায়।

মানবেন্দ্র সুরের অনুপস্থিতিতে সর্বোচ্চ ক্ষতি ও শোকগ্রস্থ তাঁর শিশু কন্যা স্ত্রী পরিবার-পরিজন- সবার সঙ্ঙ্গে আমরা এই শোক ভাগ করে নিতে চাই। বিশেষ একটি তথ্য, আমাদের প্রথম ডিজিটাল ছবি `ব্ল্যাকআউট'-এর প্রিমিয়ার প্রদশর্নির সময় প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকা বিনিয়োগে ধ্রুব এষের সঙ্গে `ব্ল্যাকআউট প্লেইয়িং কার্ডস' বা `মনে নেই তাসগুলো'-র মুদ্রণ সমন্বয়ক ছিলেন গ্রাফিক ডিজাইনার মানবেন্দ্র সুর। আমাদের প্রিয় মানু-দা। এবং ব্ল্যাকআউট শ্যুটিংয়ের সময় এই ছবিতে অভিনয় করা থেকে রেহাই পাবার জন্য লাজুক ধ্রুব এষ পালিয়ে থাকলেও মানু-দা ছবির পরিচালক টোকন ঠাকুরকে ধ্রুব এষকে ধরতে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করেন। ১৩ সেপ্টম্বর ২০০৬ রাশিয়ান কালচারাল সেন্টার অডিটরিয়ামে যখন ব্ল্যাকআউট প্রিমিয়ার প্রদশর্নী হয়, মানু-দা তখন স্বপরিবারে উপস্থিত ছিলেন।

হয়তো উদ্দেশ্য ছিল ধ্রুব এষ ব্ল্যাকআউট ছবিতে কি অভিনয় করেছেন তা দেখা, কিংম্বা আমাদের মানু-দা থেকে যাবেন আমাদের সেঙ্গই। এই তো.... আজ সবই স্মৃতি। কিছু স্মৃতি মনে থাকবে, কিছু স্মৃতি ভুলে যাবো। কিছু স্মৃতি কোনোদিন ভোলা হবে না। মানু-দা তারই অংশ।

মানবেন্দ্র সুর অমর রহে... ব্ল্যাকআউট টিম ২৪ ডিসেম্বর ২০০৯, বিষ্যুদবার, ঢাকা

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।