আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ইসি’র কল্যাণে জসিম এখনও ভোলার এমপি



মেজর (অব.) জসিমউদ্দিন কি সংসদের মেয়াদ পুরো পাঁচ বছরই সদস্য থাকবেন? ক্ষমতাসীন দলের এমপি হিসেবে তিনি কি অব্যাহতভাবে এলাকা দাপিয়ে বেড়াবেন? সংসদ সদস্যদের জন্য সরকারি বরাদ্দ কি তিনিই পেতে থাকবেন? সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিমকোর্টের আদেশ সত্ত্বেও কি ভোলা-৩ আসন শূন্য হবে না? এসব প্রশ্ন জোরেশোরে উঠেছে ভোলায়। আদালতের আদেশে সদস্যপদ বাতিল হলেও নির্বাচন কমিশনের কল্যাণে মেজর (অব.) জসিম এখনও সংসদ সদস্য হিসেবে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। কেবল বহাল আছেন তা-ই নয়, এলাকায় বলে বেড়াচ্ছেন পাঁচ বছরই তিনি থাকবেন। প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করতে এলাকায় ত্রাসের রাজত্বও কায়েম করেছেন তিনি। গত বছর ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-৩ আসন থেকে বিজয়ী সংসদ সদস্য মেজর (অব.) জসিমউদ্দিনের প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের প্রদত্ত রায় সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ বহাল রাখার প্রায় দু’মাস পরও নির্বাচন কমিশন আসনটি শূন্য ঘোষণার কোনো তাগিদই অনুভব করছে না।

রায়ের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ না পাওয়ার অজুহাতে কমিশন এ গড়িমসি করছে। ফলে এখনও সংসদ সদস্য হিসেবে এলাকা থেকে সচিবালয় পর্যন্ত দোর্দণ্ড প্রতাপ দেখিয়ে যাচ্ছেন মেজর (অব.) জসিম। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে সংসদ সদস্যের ক্ষমতার অপব্যবহার করে চলেছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। আইনি মারপ্যাঁচে এরই মধ্যে প্রায় এক বছর অবৈধভাবেই সংসদ সদস্য থাকার নজির সৃষ্টি করলেন তিনি। নির্বাচন কমিশনের আইন বিভাগে প্রভাব খাটিয়ে যতদিন সম্ভব সদস্যপদ টিকিয়ে রাখার অপচেষ্টা এখনও চালিয়ে যাচ্ছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এ নেতা।

জানা যায়, ভোলা-৩ আসন থেকে টানা ছয়বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপি’র সহ-সভাপতি মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদের রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট জসিম উদ্দিনের সংসদ সদস্যপদ বাতিল করে রায় দেন নির্বাচনের দু’মাস পর গত ২৬ ফেব্রুয়ারি। বস্তুত সেদিনই মেজর জসিমের সদস্যপদ খারিজ হয়ে যায়। রায়ে বলা হয়, সেনাবাহিনীর চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর ৫ বছর অতিক্রান্ত না হওয়ায় তার মনোনয়নপত্র অবৈধ ছিল। তখন হাইকোর্টের রায়ের কপি না পাওয়ার অজুহাতে দীর্ঘদিন নির্বাচন কমিশন ভোলা-৩ আসন শূন্য ঘোষণার উদ্যোগই নেয়ইনি, বরং তার সদস্যপদ রক্ষায় আইন সংশোধন করে পক্ষপাতিত্বের বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। হাইকোর্টের রায়ের ৪ মাস পর জুন মাসে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে সংশোধনী আনে কমিশন।

নির্বাচন কমিশনের সহায়ক ভূমিকার সুযোগে মেজর (অব.) জসিম হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্টে আপিল করেন। সে আপিলও খারিজ করে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ রায় দেয় গত ১৮ অক্টোবর। রায়ের আদেশ অ্যাডভোকেট অন রেকর্ডের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের হাতে পৌঁছে এক সপ্তাহের মধ্যে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের সেই একই অজুহাত—রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পরই সিদ্ধান্ত। দু’মাসেও পূর্ণাঙ্গ রায় কেন পাচ্ছে না নির্বাচন কমিশন তা এক রহস্য।

কমিশন এজন্য অভিযোগের আঙুল তুলছে কোর্টের দিকে। তবে অতীতে বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে উচ্চ আদালতের রায়ের পর নির্বাচন কমিশন স্ব-উদ্যোগে তা সংগ্রহ করে দ্রুততার সঙ্গে পদক্ষেপ নেয়ার। অ্যাডভোকেট অন রেকর্ডের মাধ্যমে প্রাপ্ত আদেশের ভিত্তিতে রায় কার্যকরের বহু নজির থাকলেও নির্বাচন কমিশনের আইন বিভাগ তিন সদস্যের কমিশনকে নেতিবাচক পরামর্শ দিয়ে চলেছেন। ভোলা-৩ আসন শূন্য ঘোষণা প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার (অব.) সাখাওয়াত হোসেন গতকাল আমার দেশকে বলেছেন, আদালতের পূর্ণাঙ্গ আদেশ পাওয়ার পর কমিশন আসনটি শূন্য ঘোষণার জন্য জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পাঠাবে। স্পিকার আসন শূন্য ঘোষণা করলে গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারির ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন হবে।

আসন শূন্য ঘোষণায় গড়িমসির অভিযোগ নির্বাচন কমিশনার অস্বীকার করেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইনজীবীর মাধ্যমে যে আদেশ পাওয়া গেছে তা যথেষ্ট নয়। নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনিও রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার অপেক্ষার কথা বলেন। এর আগে অ্যাডভোকেট অন রেকর্ডের মাধ্যমে প্রাপ্ত আদেশ বলে স্পিকারকে চিঠি দেয়ার কথা বলেছিলেন তিনি। সে প্রসঙ্গে ছহুল হোসাইন বলেন, আদেশে শুধু আপিল খারিজের কথা বলা হয়েছে নাকি কোনো অবজারভেশন আছে তা না দেখে অগ্রসর হওয়া যায় না।

এর আগে অনেক ক্ষেত্রে অ্যাডভোকেট অন রেকর্ডের ওপর নির্ভর করার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি উত্তর এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, ‘উই আর ওয়েটিং ফর দেট’। হাইকোর্টের রায় কমিশনের হাতে রয়েছে। সুপ্রিমকোর্ট কেবল আপিল খারিজ আদেশ দিয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে হাইকোর্টের রায় বহাল রয়েছে।

এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কালক্ষেপণ বিশেষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মনে করেন মেজর হাফিজউদ্দিন আহমদ। কমিশনের সদিচ্ছা থাকলে অ্যাডভোকেট অন রেকর্ডের মাধ্যমে প্রাপ্ত আদেশই আমলে নেয়া সম্ভব। অতীতে তাই হয়েছে। লালমোহনের একাধিক সূত্র আমার দেশকে জানিয়েছে, মেজর জসিম উদ্দিন এলাকায় গেলেই সন্ত্রাস-সহিংসতা বেড়ে যায়। পার্সেন্টেজ ছাড়া তিনি কোনো উন্নয়ন কাজ করেন না।

সূত্রমতে, আওয়ামী লীগেই তার প্রতিপক্ষ একাধিক গ্রুপ রয়েছে। এমপি পদ বাতিল করে সুপ্রিমকোর্টের আদেশের পর আওয়ামী লীগের লোকজনই মিষ্টি বিতরণ করেছে। তার অপকর্ম নিয়ে রিপোর্ট হওয়ায় সাংবাদিকদের ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ তিনি। ঈদের আগের দিন প্রেসক্লাবে হামলার ঘটনা ঘটে। মেজর জসিমের অনুসারীরা ওই হামলা চালায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীর নেতৃত্বে প্রেসক্লাবে হামলা হয়। ঈদের সময় এলাকায় গিয়ে তিনি দম্ভের সঙ্গে বলেছেন, এমপি আছেন এবং ভবিষ্যতেও তিনিই থাকবেন। এমপি পদে বহাল থাকার জন্য সব কৌশল তিনি প্রয়োগ করেছেন বলে ঘনিষ্ঠদের আশ্বস্ত করেছেন। Click This Link

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।