আমাদের কথা খুঁজে নিন

   



মালিবাগের এক গার্মেন্টস-এ কাজ নেয় মকু। সেলাই কাজ যেহেতু আগেই জানা ছিলো; সুতরাং কাজের ক্ষেত্রে তার সুবিধাই হলো। কুষ্টিয়ার মর্জিনা আর তার টেবিল পাশাপাশি। কাজের ক্ষেত্রে মর্জিনা তার সিনিয়র হওয়াতে অনেক কিছুই শিখতেই পারছে সে। হাতে কলমে শেখানোর পাশাপাশি হাসি-ঠাট্টা, খুনসুটি থেকে শুরু করে চিমটি কিল-ঘুসি সবই চলে আড়ালে আবডালে।

মর্জিনার একটি বিয়ে হয়েছিলো; সন্তান না হওয়ায় তাকে দায়ী করে তাড়িয়ে দিয়েছে তার তরকারী বিক্রেতা স্বামী। ঢাকায় এসে প্রথমে এক ডাক্তার দম্পত্তির বাসায় রান্না-বান্নার কাজ করতো মর্জিনা। মাস তিনেকের মাথায় ডাক্তার ভদ্্রলোকের প্রলোভনে অন্তসত্তা হয়ে পড়ে সে। সব দোষ গিয়ে পড়ে মর্জিনার ওপর। যার কারণে ঐ বাসা থেকে তাকে তাড়িয়ে দেয় ভদ্রলোকের স্ত্রী।

একবার অন্তসত্তা না হওয়ার কারণে; আরেকবার অন্তসত্তা হওয়ার কারণে পরিত্যাক্ত হয় সে। পোড় খাওয়া জীবনে মকুকে সবুজ সংকেত মনে করে মর্জিনা। চৌধুরীপাড়ায় কয়েকজন পোশাকশ্রমিকদের সাথে একটা মেসে থাকতো মকু। বরিশালের খায়রুন এসে দুবেলা রান্না-বান্না করে দেয় তাদের। খায়রুনের দশ বছরের মেয়ে জুলিও গারমেন্টেস এ কাজ করে।

স্বামী তাকে রেখে আরেকটা বিয়ে করে বউ নিয়ে খুলনা থাকে। খায়রুনের দুঃখের কথা শুনে কষ্টে মকুর বুকটা ভেঙ্গে যায়। খায়রুনকে সান্তনা দেয়। একদিন অন্যান্য মেস-মেটদের অনুপস্থিতিতে খায়রুনকে বুকে তুলে নেয় মকু। খায়রুনের শূন্য আকাশটা যেন পুর্ণ হয় মকুকে পেয়ে।

অন্ধকার জীবনে আলো ফিরে পায় সে। একটা অবলম্বন খুঁজে পায়। অন্যের শোকে কাতর হওয়া মকু এই প্রথম একটু দ্বিধায় পড়লো। একদিকে মর্জিনা; অন্যদিকে খায়রুন। কাউকেই দুঃখ দিতে রাজি নয় মকু।

কৌশলে দুজনের সাথেই সমান তালে সম্পর্ক চালিয়ে যায় মকু। বছরখানেক পর একদিন হরতালে গারমেন্টস বন্ধ থাকে। মেসমেটরা সবাই ধরলো সিনেমা দেখতে যাওয়ার জন্য। শরীরটা ভালো লাগছেনা’ এই অজুহাতে মেসে থেকে যায় সে। যথাসময়ে খায়রুন আসে কাজ করতে।

কাজের কথা ভুলে গিয়ে আনন্দ-ফুর্তিতে মেতে ওঠে মকু আর খায়রুন। ঠিক হয় আজ সন্ধ্যায় ওরা দুজন সিনেমা দেখতে যাবে। সুতরাং ফুর্তির মাত্রা আরো বেড়ে যায়। ঠিক ঐ মুহূর্তে মেসে হাজির হয় মর্জিনা। বাইরে থেকে হাসাহাসি ফিসফাস শব্দ শোনা যায়।

অনেকক্ষণ কড়া নাড়ার পর দরজা খুললে ওদের অসংলগ্ন আচরণে চিৎকার চেঁচামেচি করতে থাকে মর্জিনা। মুহূর্তে আশে-পাশের লোকজন এসে জড়ো হয়। সবকিছু শুনে বেঁধে ফেলে মকু আর খায়রুনকে। আটকে রাখে মর্জিনাকেও। ষোল দিন ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসা নেয় মকু।

ক্ষত তখনো ভালো করে শুকায়নি। জনতার মার-ধরের আঘাতের চিহ্ন আর সেগুলোর ব্যথা এখনো আছে। তবুও ডাক্তার তাকে রিলিজ করে দেয়। এ কদিন মেসমেটরাই তার পাশে ছিলো। ওদের একজনের নিকট থেকে কিছু টাকা নিয়ে অশ্র“সিক্ত নয়নে ঢাকা ছাড়ে মকু।

ঠাঁই হয় মায়ের আশ্রয়ে। কিছুদিন আবার চুপসে থাকে সে। কারো সাথে আর কথা হয়না। অবশেষে মকু এখন একটা মসজিদে নিয়মিত আজান দেয়। বাবার রেখে যাওয়া জমিজমা দেখাশুনা করে আর অবৈতনিক মুয়াজ্জিন হিসেবে মসজিদে পড়ে থাকে।

এখনো মেয়েদের দেখলে পালিয়ে বেড়ায় মকু। তবে লজ্জায় নয়, ভয়ে। (শেষ)

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।