আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

যত দিন রবে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা বহমান

চলো আবার সবুজ গড়ি
শিরোনামটা কোথায় যেনো পড়েছেন... মনে পরছে? হ্যা ঠিক ধরেছেন। আমি সেদিন বাংলাদেশের ইতিহাসের সেই ঐতিহাসিক অধ্যায়ের পাশ দিয়ে হেটে যাচ্ছিলাম। প্রচন্ড গরম। মাথার ঘাম সত্যি সত্যি পায় পরছিলো। বাংলাদেশের প্রান পুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ীটির সামনেই পুকুর ঘাটে মুল্যবান পাথরে ষ্টিলে সুন্দর করে লেখা "যতদিন রবে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা বহমান তত দিন রবে কির্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান" দুটি লাইন পড়ে আমার ভেতরে অন্য রকম একটি অনুভূতি জেগে উঠলো।

জাতি তাদের এই সব মহান ব্যক্তিদেরকে আজো সঠিক মূল্যায়ন করতে শিখেনি। তার পরমাত্মীয়রা ভেবে থাকে কিছু রাজ মিস্ত্রি দিয়ে সুন্দর কিছু পিতলের হরফে পিজি হাসপাতালের নামকরন আর ভাষনী নভোথিয়েটারের (অন্য একজন সম্মানিতের নাম পরিওর্তন করে) নামকরন করলেই বুঝি ন্যায্য সম্মান দেয়া হয়ে যায়। পুরো দেশের নামও যদি পরিবর্তন করে মুজিব বাংলাদেশ রাখা হয় তাতেই কি তাকে সম্মান দেয়া হলো? হায়রে অবুঝ!!!! তাকে তো ঠিক ভাবে অসম্মানও করতে পারেনি তার পরমাত্মিয়রা। তাদের কি স্বপ্ন ছিলো? আশা ছিলো? সেই স্বপ্ন আশার সোনার বাংলা কি আজো কোনো শাষক দিতে সক্ষম হয়েছে? শুধু নাম আর নাম। কেউ এলে বাবার নাম কেউ এলে স্বামীর নাম।

এতো নাম দিয়ে কি হবে? সেই সব মৃত ব্যক্তিরা কি ওপারের জীবনে এই সব কাজে এতটুকুও শান্তি পাবে? না। কোনোদিনই না। আমি হলফ করে বলছি... জাতির এই সব সূর্য সন্তান রা এই দেশের ইতিহাসে তাদের অবদানের জন্য চিরদিন বেচে থাকবে ঠিকই, কিন্তু এই শাষক গোষ্ঠির উন্মাদ নৃত্যে তাদের সত্যিকার অর্জন গুলো মুখ থুবড়ে পড়তেও হয়তো খুব বেশিদিন দেরী হবেনা। কি সুন্দর করে লেখা যতদিন রবে পদ্মা মেঘনা যমুনা বহমান ততদিন রবে কির্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান। ।

কতো চমতকার কথা। কিন্তু এর অর্থ কি? নদীরা শুকিয়ে গেলে মুজিব কে আমরা ভুলে যাবো? তাহলেতো ভুলতে আর বেশীদিন দেরী নেই। আর তার পরমাত্মীয় রা সেই ভুলে যাওয়ার কাজ টাকে আরো দ্রুততার সাথে সম্পাদন করছেন। পদ্মা তো অনেক আগেই শুকিয়ে গেছে। এখন বাকি আছে মেঘনা আর যমুনা।

কিছুদিন আগে যমুনা পার হতে গিয়ে দেখলাম মাঝখানে বিশাল চর পরেছে। তাতে মনে হলো বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সেই মহা মুল্যবান সেতুটির আর খুব বেশিদিন প্রয়োজন হবেনা। ভালো একটি বঙ্গবন্ধু মহাসড়ক (খারাপ উদ্দ্যেশে বলছিনা। ঐ যায়গাটির জন্য তো ঐ নামটি’ই বরাদ্দ কিনা) করার মতো যথেষ্ট ব্যবস্থা হয়ে যাচ্ছে। মেঘনা যদিও এখনো তার নিজস্ব স্রোতধারায় উত্তাল আছে তবুও বাড়ী যাওয়ার সময় হঠাত হঠাত মনে হয় সঙ্গীর অভাবে এই মহা স্রোতও হয়তো মরু হতে বেশী সময় নেবেনা।

আর টিপাই মুখে বাকী নদীগুলোর গলা টিপে ধরার জন্য অপেক্ষা করছে এক ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন। আমরা ভাষানীকে দেখেছি নদী বাচাতে লং মার্চ করেছে। আমাদের তো আর সেই সাহস নেই, তবুও জাতির একজন ক্ষুদ্র মানুষ হিসাবে মুজিবের কির্তি গুলোকে জিইয়ে রাখতে হলেও নদী গুলোকে বাচাতে হবে। আমরা ভুলে যেতে চাইনা ভাষানী, মুজিব, জিয়ার মতো বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদেরকে।
 


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।