আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

টাক নিবারণ ও ড্যাব ডাশ ভ্যাঁলেনটাইন

হত্যা করেছি নিজেকে...এখন শুধু পাপ বয়ে বেড়াচ্ছি

সক্কাল বেলা উঠিয়া দেবদাস বাবু কি মনে করিয়া স্নান করিবার জন্য তড়িগড়ি করিয়া বাহির হইয়া গেলেন। সক্কাল সক্কাল মূল কর্ম করিতেও ভুলিয়া গেলেন। স্নান করিতে গিয়া দেখে তিল পরিমাণ জায়গা নাই স্নান ঘাটে। কি করিবেন ভাবিয়া না পাইয়া দুটি ডুব লাগাইয়া চলিয়া আসিলেন। দেবদাস বাবুর এহেন তড়িগড়ি দেখিয়া পারু একটু চিন্তায় পড়িয়া গেল।

মনে মনে ভাবিতে লাগিল দেবদাস কি আবার চন্দ্রমুখীর জালে ফাসিয়া গেল? দেবদাস বাবু ধুতি খানা পরিয়া গায়ে ফতুয়া চাপাইয়া ছাতা নিয়া বাহির হইয়া গেলেন। সকালে নাস্তা ও করিলেন না। পারু কে একটু বলেও গেলেন না। পারু অধিক চিন্তায় পড়িয়া গেল। ভাবিতে ভাবিতে খাটের এক কোণায় বসিয়া চিন্তায় মগ্ন হইয়া গেল।

হঠাত করিয়া বর্ষপন্জীতে চক্ষু যাইতেই তাহার চক্ষু ইয়া বড় বড় হইয়া গেল, তাহা হইলে পারু যা ভাবিতে ছিল তাহাই ঠিক। দেবদাস গিয়াছে চন্দ্রমুখীর কাছে! দিনটি ছিল ২রা ফাল্গুন। কি করিবে ভাবিয়া না পাইয়া পারু একখানা চিঠি লিখিলেন চন্দ্রমুখীর কাছে '' ডাইনী চন্দ্রমুখী আর কত দেবদাস খাবিরে তুই? তোর কি কোন মায়া দয়া নেই। আমার দেবদাস কে আবার তুই নিয়া গেলি!'' চিঠিখানা পায়রার পায়ে বেধেঁ দিয়ে তাকে চন্দ্রমুখীর ঘরের ঠিকানা বুঝিয়ে দিলেন। ওদিকে চন্দ্রমুখীর ঘরে পৌঁছাতেই এক দুষ্ট বালক পায়রাটাকে ধরে নিয়ে তার মায়ের কাছে দিয়ে রান্না করে খাবার সাধ জানালো।

সন্ধ্যা হয় হয় পায়রা আর আসে না। পারুর ব্লাড প্রেসার এবার অনেক চরমে উঠলো। ওদিকে দেবদাস বাবুর ও কোন খবর নাই। পারু আজ অনেক কিছু চিন্তা করে রেখেছিলো। দেবদাসের সাথে বসে একটু রোমান্টিক আলাপ চারিতা করবে।

দেবদাসের টাক মাথায় চুল উঠিবার জন্য একখানি 'চুনিলাল হেয়ার ব্যাক' ও খরিদ করিয়া আনিয়াছেন। কিন্তু হায় দেবদাস চন্দ্রমুখীর হইয়া গিয়াছে। ওদিকে দেবদাস বাবু ৮ ঘটিকার সময় ঘরে এসে হাজির। আসিবার মাত্রই পারুকে খুজিতে লাগিলেন। পারু তাহার ঘরে গাল ফুলাইয়া বসিয়া আছে।

দেবদাস আসিয়া তাহার পাশে বসিলেন। পারুর এহেন ফুলা গাল দেখিয়া দেবদাস ক্ষমা চাহিয়া একখানা প্যাকেট তাকেঁ দিলেন। পারু প্যাকেট না নিয়া বলিলেন 'তুমি কোথায় গিয়েছিলে? তুমি কি আবার ডাইনী চন্দ্রমুখীর কাছে গিয়েছিলে?' দেবদাস বাবু রাগান্বিত হইয়া বলিলেন তুমি আজো আমায় সন্দেহ করো? তুমি কি জানো না চন্দ্রমুখী তাহাঁর সাঙ্গ পাঙ্গ লইয়া দুরে চলিয়া গিয়াছে। আর এখন তাহার কাছে যাইতে হইলে আগে হতে চিঠি দিয়া সময় নিতে হয়! পারু কি বুঝিয়া তেমন আর কিছু কহিল না। এবার দেবদাস মুখ ফুলাইয়া বসিয়া আছে।

পারু আসিয়া তাহার কাছে ক্ষমা চাহিয়া তাহাকে একটি বোতল দিল। দেবদাস কহিল এসব ছাইপাশ আমি ছেড়ে দিয়েছি। পারু কহিল না না এ হচ্ছে টাক নিবারণের তেল। দেবদাস কহিল তোমার জন্য যে প্যাকেট খানি আনিয়াছি তাহা খুলিয়া দেখ। প্যাকেট খুলিতে পারু একখানা শাড়ী দেখিল।

পারু খুশি হইয়া দেবদাসের সাথে একটু রঙ্গ করিল। দেবদাস সকালে উঠিয়া রাগান্বিত গলায় পারুকে ডাক দিলেন। পারু আসিতেই তাহাকে 'চুনিলাল হেয়ার ব্যাক' দেখাইয়া কহিলেন 'এইসব কি? এখনো পুরানো প্রেমিক কে ভুলতে পারো নি? তাহার কোম্পানীর হেয়ার ব্যাক নিয়া আসিয়াছো। এমন তেলের আমি নিকুচি করি'। পরক্ষনে পারু গোস্বা হইয়া কহিল 'কাল রাত্রিতে কইলা চন্দ্রমুখীর সাথে তোমার যোগাযোগ নাই আর আমাকে চন্দ্রমুখী শাড়ি আনিয়া দিয়াছো, কি ভাবিয়াছো এই শাড়ি পরিলে আমি চন্দ্রমুখী লাগিব! এ সাধ তোমার পুরণ হবে না।

এই আমি শাড়ি পুড়ে ফেললুম'

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।