আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

এন্ট্রি ফর ৪ জানুয়ারী

কোমায় থাকা ব্লগ

প্রতিদিনই সকাল সকাল শার্টের কলার ঠিক করতে করতে বাসের কাউন্টারের সামনে গিয়ে দাঁড়াই। সামনে প্রায়ই আবিষ্কার করি, টিকেট হাতে অপেক্ষায় থাকা ভুখা সৈনিকের এক প্লাটুন। হাতে কিছুটা সময় নিয়ে বের হবার অভ্যাস আমার। তার উপর অফিস বাড়ির বেশ কাছেই। ‘হন্টন-পদ্ধতি’ প্রয়োগে সোয়া ঘন্টার মত! তাই অপেক্ষাটা খুব একটা পীড়াদায়ক হয়না প্রায়ই! দাঁড়িয়ে থেকে আশেপাশের সবাইকেই আড়নয়নে খেয়াল করে দেখি... মনে হয় কলেজের কেমিস্ট্রি ল্যাবে এসেছি... হরেক রকম বোতলে নানারকম রঙিন তরল! বিষ্ময়ভরা চোখে তখন সেগুলো দেখতাম-এখন রঙের মানুষগুলোকে দেখি...দু’চোখের বিষ্ময় এখনও টাটকা! বাস আসে। বাসগুলোর নাম এত বিভিন্ন রকম কেন? সবই তো মুড়ির টিন! নতুন নাম দিলে কেমন হয়? ‘প্রজেক্ট ঠাসবুনোট’ কিংবা ‘বাদুরঝোলা প্রাইভেট লিমিটেড!’ শীতের আমেজটা বেশ জাঁকিয়েই পড়েছে! এসময় পশুপাখিরা নিজেদের কাছাকাছি অবস্থায় থাকতে খুব পছন্দ করে, শুনেছি! মানুষও হয়তো পশু! বাসে কেন এত ঘন-সন্নিবেশ?! বাসায় ফিরতেও একই খেল! পাশে এক গুণী বসেছিলেন। তিনি বলছিলেন আর আমি মুখে মুগ্ধতা মাখিয়ে শুনছিলাম! সিটে বসে বাস ভ্রমণ তার কাছে চরম বিরক্তি-আর অপমানের ব্যাপার! সকাল সন্ধ্যা দাঁড়িয়েই যান তিনি। এটাতেই অভ্যাস! কালেভদ্রে দু’একটা সিট পেয়ে গেলে বিব্রত হন! বলছিলেন তিনি, বাসে আর সিট রাখা কি দরকার? আমরা তো বাসে উঠিই দাঁড়িয়ে যাবার জন্য। এর চেয়ে বরং FnF নাম্বারের মত মেয়ে-শিশু-প্রতিবন্ধীদের সংরক্ষিত ৯ টা রেখে, বাকি সব সিট তুলে দিলেই হয়! আরো লোকের সংকুলান হয়! কথাটা তিনি মন্দ বলেন নি... বিয়ে বাড়ির মত বাসেও ফোল্ডিং সিট বসানো যায়! পিক আওয়ারে ফোল্ডেড আর অফপিকে ‘বিকশিত’!

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।