আমাদের কথা খুঁজে নিন

   



চীন প্রসঙ্গে একটা চমক লাগান তথ্য দিয়ে কথা শুরু করি। জাতিসংঘের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের বডির নাম, নিরাপত্তা পরিষদ (Security Council) । এর জন্মের সময় (১৯৪৪) থেকেই ১৫ সদস্যের এই বডির পাঁচজন সদস্য স্হায়ী আর বাকি দশ অস্হায়ীরা প্রতি দুই বছরের জন্য ভূগোল বিবেচনায় রোটেশনে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মহাদেশ থেকে নির্বাচিত হয়ে থাকে। ঐ পাঁচজন আবার নেহায়েতই স্হায়ী সদস্য নয় রীতিমত ভেটো ক্ষমতাধারী সদস্য। ভেটো মানে, ঐ বডির বিবেচনাধীন যে কোন প্রস্তাব স্হায়ী পাঁচ সদস্যের যে কেউ একাই এক ভোটে নাকচ করে বা সিদ্ধান্ত রুখে দিতে পারে।

এটাই ভেটো ক্ষমতা, কেবল স্হায়ী পাঁচ সদস্যের এই ক্ষমতা ভোগ করে। ফলে এর আর এক মানে হলো, হ্যাঁ অর্থাৎ, বডির কোন সিদ্ধান্ত গৃহিত হতে গেলে পূর্বশর্ত হলো এই পাঁচ জনের সবাইকে একমত হতে হবে, প্লাস সেইসাথে অবশ্য আরও কমপক্ষে চারজন অস্হায়ী সদস্য মিলে এভাবে মোট নয় জনের সংখ্যাগরিষ্ঠতায় যে কোন উদ্যোগ সিদ্ধান্ত বলে গৃহীত হতে পারে। হুমায়ন রশিদ চৌধুরির আমলে বাংলাদেশের ভাগ্যে একবার অস্হায়ী সদস্যের পদ এসেছিল। পাঠক এখন একটা প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করি। আচ্ছা, বাংলাদেশ কী কখনও ভেটো ক্ষমতাধারী স্হায়ী সদস্য ছিল? ও সরি! প্রশ্নটা করতে একটু ভুল হয়ে গেছে।

টাইপিং মিসটেক। বাংলাদেশ না, তাইওয়ান কী কখনও ভেটো ক্ষমতাধারী স্হায়ী সদস্য ছিল? আগের বার টাইপিং মিসটেকের উছিলায় মাফ করে দিলেও এবার পাঠক বোধহয় আমার জ্ঞানবুদ্ধির দৌড় নিয়ে সন্দেহ করা শুরু করেছেন। না, পাঠক মহোদয় আমাকে ক্ষমা করবেন। চমকাবেন না। আমি এবার ঠিক প্রশ্নটাই করেছি - তাইওয়ান কী ভেটো ক্ষমতাধারী স্হায়ী সদস্য ছিল? এর উত্তর ইতিবাচক।

অদ্ভুত শোনালেও কথা সত্যি। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জন্মকাল ১৯৪৪ সালে যে পাঁচজন স্হায়ী সদস্য নিয়ে তা গঠিত হয়েছিল - আমেরিকা, সোভিয়েত ইউনিয়ন, বৃটেন ও ফ্রান্সের সাথে পঞ্চম দেশটি ছিল তাইওয়ান, মানে সে আমলের অবিভক্ত চীন। ওটা ১৯৪৪ সাল ফলে, তখনও মাওয়ের নয়াচীন (১৯৪৯) বলে কিছু হাজির নাই। ১৯৪৯ সালে মাওয়ের বিপ্লবে চীনা মূল ভূখন্ড ছেড়ে পালিয়ে কুয়েমিনতাং প্রদেশ, এখনকার তাইওয়ান ফরমোজা দ্বীপে, আগের সরকার আশ্রয় নিয়ে নিজেকে আসল চীন বলে দাবি করেছিল এবং সেই সরকারের ধারাবাহিকতাই এখনকার তাইওয়ান সরকার। ফলে ভেটো ক্ষমতাধারি স্হায়ী সদস্যপদ ঐ ক্ষুদ্র তাইওয়ানের থেকে যায়।

এর মানে আরও এক চমক লাগা তথ্য হলো, মাও সেতুংয়ের পিপলস রিপাবলিক অফ চায়না (PRC) সংক্ষেপে বেইজিং বা নয়াচীন রাষ্ট্র তখন জাতিসংঘের সাধারণ সদস্যও নয়। নয়াচীনের কতদিন লেগেছিল সদস্যপদ লাভ করতে? দু-পাঁচ বছর নয়, দীর্ঘ বাইশ বছর। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ (General Assembly) মানে, সব সদস্যদেরকে নিয়ে বাৎসরিক সভায়, ১৯৭১ সালের ২৫ অক্টোবর এক আলবেনীয় প্রস্তাবের উপর গৃহীত ভোট ৭৬ বাই ৩৫ (১৭ জন বিরত ভোটসহ) ফলাফলে জয়লাভ করে; বেইজিং বা নয়াচীন প্রথম জাতিসংঘের সাধারণ সদস্যপদ পায়, ফলে তাইওয়ানের বদলে নিরাপত্তা পরিষদের স্হায়ী সদস্যপদে অভিষিক্ত হয়। আর তাইওয়ান? তাইওয়ান সেই থেকে জাতিসংঘের সাধারণ সদস্যপদ থেকেই বহিস্কৃত হয়। কেন কী পরিস্হিতিতে সেসব ঘটেছিল বা ঘটতে পেরেছিল সে প্রসঙ্গে পরে আসব।

এতক্ষণ গুরুত্ত্বপূর্ণ এক তথ্যের সাধারণ বর্ণনা দিলাম, এবার শিরোনামের সাথে এই তথ্যের প্রাসঙ্গিকতা বিচারে পাঠককে নিয়ে যাব। স্বভাবতই প্রসঙ্গ ভারি হতে থাকবে। "ক্ষমতা ও রাষ্ট্র: ক্ষমতার উৎস, ন্যায্যতা ও কনষ্টিটিউশন" - শিরোনামে একটা পোষ্ট দিয়েছিলাম এবছরেরই জুনে। আসলে আজকের এই পোষ্টের প্রস্তুতিমূলক কিছু আগাম ধারণা পাঠককে দেবার কথা মাথায় রেখে ঐ পোষ্ট তখন দিয়েছিলাম। ফলে এই পোষ্টের সাথে আগের ঐ পোষ্টের কথা মিলিয়ে পড়লে এবার সুবিধা হবে।

এছাড়া, স্বভাবতই ঐ পোষ্টে আলোচনা করা অনেক প্রসঙ্গে এখানে বিস্তারে যাবো না। রাষ্ট্র গঠন ক্লাসিক ধারণা: রাষ্ট্রের শত্রু-মিত্রের ভেদ রাষ্ট্রের গঠন (constitute) মানে ঐতিহাসিকভাবে একটা জনগোষ্ঠির রাজনৈতিক কমিউনিটির আকার নেয়া, রাজনৈতিক কমিউনিটি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করা। এতে রাষ্ট্র গঠনের গঠনতান্ত্রিক প্রকাশ ঘটে, গঠনতন্ত্র (constitution) লেখার জন্য নির্বাচিতদের সভা বসে, গঠনতন্ত্র (constitution) লেখা হয়। রাষ্ট্রের এই আত্মপ্রকাশের সবচেয়ে গুরুত্ত্বপূর্ণ মানে হলো, নতুন এই রাষ্ট্রের ভৌগলিক সীমানা বা ভূখন্ডের বাইরে আগে থেকে হাজির সব পুরানো রাষ্ট্র সবাই সাধারণভাবে আসলে হয়ে দাঁড়ায় এর শত্রুরাষ্ট্র, এর সম্ভাব্য শত্রু। তবে কোন বিশেষ পরিপ্রক্ষিতে এরা কেউ কম শত্রু অথবা কেউ বেশি শত্রু; কেউবা সবসময়ই শত্রু কিন্তু, শেষ বিচারে মূলত এরা শত্রু।

এই শত্রুতার লেভেলে ভিন্নতা থাকুক আর না থাকুক মূলকথা হলো, জনগোষ্ঠির রাজনৈতিক কমিউনিটি আকারে রাষ্ট্রে আত্মপ্রকাশ মানেই হলো যে ভূখন্ড নিয়ে এটা গঠিত হলো এতে এর বাইরের প্রত্যেকটা রাষ্ট্রই এর শত্রু হয়ে গেল। সংজ্ঞায় এটা বুঝলাম বটে, তবে সবসময় শত্রুকে এটা মনে করিয়ে দেয়া ভাল দেখায় না, কাজ আগায় না। এজন্য ডিপলোমেটিক ভাষা বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়গুলোর ভাষা বলে একটা কিছু চালু হয়েছে। যেমন দুই রাষ্ট্র প্রধান যখন কোন ভিজিটে একত্রিত হন, কথা বলেন আমরা শুনি, "পরস্পর স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে", "দুই রাষ্ট্রের বন্ধুত্ত্বপূর্ণ সম্পর্ক", "সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা" "প্রটোকল" - ইত্যাদি ভাষা। এই শব্দগুলোই প্রমাণ করে আমরা আলাদা, আমাদের স্বার্থ আলাদা আলাদা ও পরস্পর শত্রু - তবু আমরা একত্রিত হয়েছি পরস্পরের কাছ থেকে কিছু স্বার্থ বের করে আনতে পার কিনা, সে চেষ্টা করে দেখতে।

ওখানে কমন স্বার্থ বলে কিছুকে বের করা যেতে পারে কিন্তু তা একান্তই সাময়িক, সুনির্দিষ্ট পরিপ্রক্ষিতে - এবং সবচেয়ে গুরুত্তপূর্ণ আমরা মূলত শত্রু একথা না ভুলে। একজন রাষ্ট্রপ্রধান মানে তিনি তাঁর জনগোষ্ঠির, রাজনৈতিক সত্ত্বার প্রতীক। এর কোন সামান্য অসম্মান মানে পুরো রাজনৈতিক জনগোষ্ঠিকে অপমান, অসম্মান, শত্রুতা প্রকাশ করে ফেলা। তাই প্রটোকল, প্রটোকলের তলে সব আড়াল করে রাখা। রাষ্ট্রপ্রধান যেখানে সেখানে, যখন তখন, যে কারও সাথে বসে যেতে পারেন না।

পরস্পর শত্রু হলেও এসব বিষয়ে একমত হওয়ার পরেই দুই রাষ্ট্রপ্রধান পরস্পর মুলাকাত করতে পারেন। এসব নিয়ে অবশ্য প্রচুর ডিপলোমেটিক কনভেনশন তৈরি হয়ে আছে - ফলে বারবার এগুলো নিয়ে বসে ঠিক করার দরকার পরে না। এই যে রাষ্ট্র মানেই শত্রুতা, ফলে এর একটা টেনশন আছে এবং স্বাভাবিকভাবে উভয় পক্ষের মধ্যে তা তৈরি থাকবে। আবার পরস্পর থেকে স্বার্থ আদায়ের ব্যাপারও আছে। তাই, এই টেনশনকে ঢাকতে প্লেন থেকে নামামাত্র নিষ্পাপের প্রতীক বাচ্চার হাতে ফুল দিয়ে বরণ থেকে শুরু করে ডিপলোমেটিক রেঠরিক, কথার ফুলঝুরি - "বন্ধুপ্রতীম দেশ", "পুরানো ঐতিহ্যের বন্ধন" ইত্যাদি।

নিজের স্বার্থকে পরস্পরের স্বার্থ বলে হাজির করার ক্ষেত্রে শত্রুকে সযত্নে মানানো, পারসুয়েসিভ ভাষার দরকার আছে। তাই এগুলো জানা ও প্রয়োগের দক্ষতার মূল্য আলাদা - ডিপলোমেটিক পারসুয়েসিভ দক্ষতা । যাই হোক, আমার এত বিস্তারে এগুলো বলার উদ্দেশ্য হলো, ডিপলোমেটিক রেঠরিক বা পারসুয়েসিভ ভাষা দেখে রাষ্ট্র মানেই শত্রু, ভেদাভেদ এই আদত কথা যেন আমরা ভুলে না যাই। ওমুকে আমাদের বন্ধুরাষ্ট্র - এটা একটা জেনেশুনে করা বাকচাতুরি। রাষ্ট্রের বাইরে রাষ্ট্রের কোন বন্ধু নাই, হতে পারে না।

কম শত্রুতাকে, তাও আবার সাময়িক কোন সময়ের পরিপ্রক্ষিতে দাড়িয়ে, ডিপলোমেটিকভাবে ঘুরিয়ে বলি বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র, একটা আপতিকভাব ফুটিয়ে তুলি মাত্র। এতে রাষ্ট্রের স্বার্থ ও তার শত্রুতার সংজ্ঞায় কোন হেরফের হবে না। রাষ্ট্র কনষ্টিটিউট অর্থে গঠন, করার সাথে সাথে রাষ্ট্রের আর একটা অর্থ তৈরি হয়ে যায়। রাষ্ট্র কায়েম হবার মানে জনগোষ্ঠি এখন নাগরিক হলো, নাগরিক হিসাবে রাষ্ট্রের গাঠনিক মূল উপাদান (constituent) হলো - একথা মেনে নেয়া। একথা মেনে লিখিত কাগজ হলো গঠনতন্ত্র (Constitution) যা রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক গঠনভিত্তি।

গঠনতন্ত্র (Constitution) প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্র নাগরিকের কাছে লিখিত ওয়াদা করে যে যেকোন বিদেশি হুমকির বিরুদ্ধে নাগরিকের সাধারণ ও জনগোষ্ঠিগত স্বার্থ রাষ্ট্র সংরক্ষণ ও সুরক্ষা করবে, এটা তার দায়িত্ত্ব ও করতে সে বাধ্য থাকবে। । এখানেই প্রকারন্তরে মানে হলো, অন্য রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত জনগোষ্ঠিকে শত্রু জ্ঞান করলাম, ঘোষণা করলাম। কথাটা আর একভাবে বললে, নাগরিক তাঁর নিজের সার্বভৌম ক্ষমতা বিশ্বাসআস্হা রেখে রাষ্ট্রর হাতে তুলে দেয় যাতে রাষ্ট্র সার্বভৌমত্ত্ব একক হিসাবে আবির্ভূত হয়, প্রয়োজনে এই ক্ষমতা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যেকোন দেশি বিদেশি হুমকি মোকাবিলা করতে, নাগরিক স্বার্থ সংরক্ষণ ও সুরক্ষায় ব্যবহার করতে পারে। এজন্য মৌলিক সংজ্ঞা ধারণায়, রাষ্ট্র মানেই সার্বভৌম রাষ্ট্র, নাগরিকের দেয়া সার্বভৌম ক্ষমতার বলে সে সার্বভৌম একক।

প্রয়োজনের সময় রাষ্ট্র যদি একাজ না পারে তবে এটা কোন রাষ্ট্রই নয়। রাষ্ট্র সম্পর্কে এই হলো মৌলিক ধারণা, এই আগাম ভিত্তিমূলক ধারণার উপর ভর করে এবার সামনে আগাব। ঠান্ডা যুদ্ধের কালে রাষ্ট্র ও ব্লকের ধারণা: ঠান্ডা যুদ্ধের কাল মানে যখন ছোট দেশের টিকে থাকতে গেলে কোন না কোন ব্লক - সোভিয়েত বা আমেরিকান ব্লকে যোগদান করে টিকে থাকতে হত। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের কাল ১৯৪৫ এর পর থেকে গত '৯০ দশক পর্যন্ত এই সময়ে, উপনিবেশ বিরোধী সংগ্রাম, বা জাতীয় মুক্তির সংগ্রামগুলোকে সাহায্য সমর্থন দেবার ক্ষেত্রে সোভিয়েত ইউনিয়নের অনস্বীকার্য ভুমিকা আছে যেমন ঠিক তেমনি এই ব্লক ধারণার কবলে পরে রাষ্ট্রের মৌলিক ধারণা মারাত্মকভাবে চুপসে থেকেছে, ধারণাটা শুধু খাটোই হয়নি, আর বিকাশ লাভও করেনি। "ব্লক" ধারণাটাই রাষ্ট্র ও এর সার্বভৌমত্ত্বের রাজনৈতিক ভিত্তিমূলক ধারণাটার সরাসরি বিপরীত ধারণা।

ফলে রাষ্ট্র বনাম ব্লক - নিয়ে এবার কথা তুলব। "ব্লক" ধারণার কোথা থেকে আসলো খুজলে এর ভাবাদর্শগত গোড়াটা আমরা পাব কমিউনিষ্ট আন্তর্জাতিকতাবাদের (internationalism) ধারণায় ; "দুনিয়ার মজদুর এক হও" - এই বিমুর্ত শ্লোগানে। বিমুর্ত বলছি কারণ, দুনিয়া জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আন্তর্জাতিক হয়ে উঠা পুঁজিতন্ত্র ও পুঁজিতান্ত্রিক শ্রেণীর বিরুদ্ধে সারা দুনিয়ার শ্রমিক শ্রেণীকে একতাবদ্ধ হতে বলা হয়েছে, ওর মধ্যে লড়াকু বা রেডিক্যাল ও ভবিষ্যতের ইঙ্গিত আছে এসব কথা ঠিক। কিন্তু কথাটা তো বিমূর্ত; কী করলে বা কংক্রিট কী পদক্ষেপ নিলে এই বিমুর্ত কথাটা দেশকালপাত্রে মূর্ত হয়ে উঠবে সেটা ওখানে বলা নাই। সোভিয়েত বিপ্লবের পর এর একটা বাস্তব কার্যকর চর্চার রূপ আমরা প্রথম হতে দেখেছিলাম - কিন্তু এটাই পরিশেষে "ব্লক" ধারণা নিয়ে আমাদের সামনে হাজির।

"দুনিয়ার মজদুর এক হও" - এই শ্লোগানের বাংলাদেশের মত দেশে মানে কী হবে? কংক্রিট পদক্ষেপে মানেটা কী এরকম সোভিয়েত ইউনিয়ন বিপ্লব করেছে বলে ওর বৈদেশিক নীতিটা আমাদের সমর্থন করে যেতে হবে? ওটাই বিমূর্ত ধারণায় ; "দুনিয়ার মজদুর এক হও" এর মূর্তায়ন, আন্তর্জাতিকতাবাদ (internationalism) ? ভাবতে থাকুন, ততক্ষণ অন্য এক প্রসঙ্গে ঘুরে আসি। কমিউনিষ্ট বা না-কমিউনিষ্ট বিপ্লব যাই ঘটুক, শেষ বিচারে দেখলে সোভিয়েত ইউনিয়ন একটা রাষ্ট্র, ওর রাষ্ট্র গঠনটা রাষ্ট্রের ক্লাসিক অর্থে ওর নাগরিকের দেয়া সার্বভৌমত্ত্ব, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা প্রশ্ন তো এই রাষ্ট্র জন্মের অনুসঙ্গ, সহজাত। ফলে এর একটা স্বার্থ প্রতিফলিত হয়ে রাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতি হিসাবে ফরেন অফিসের মাধ্যমে প্রকাশিত হবে। সোভিয়েত কমিউনিষ্ট বিপ্লব বলেই কী আমরা আপনা আপনি ধরে নিব সোভিয়েত রাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতি আর "দুনিয়ার মজদুর এক হও" - এই শ্লোগানের ব্যবহারিক মানে একই কথা? অবশ্যই একই কথা নয়। মূল সমস্যা হলো, আন্তর্জাতিকতাবাদ (internationalism) ধারণা "দুনিয়ার মজদুর এক হও" এর মূর্তায়ন বা ব্যবহারিক রূপ বা অর্থও দাঁড়ায় নাই, ফলে এর সাথে হিসাবে রাষ্ট্র হিসাবে রাশিয়ান স্বার্থ একাকার হয়ে দাঁড়ায় নাই।

বরং, "দুনিয়ার মজদুর এক হও" -এই আন্তর্জাতিকতাবাদের শ্লোগানের আড়ালে আমাদের মত রাশিয়ান রাষ্ট্রের একপেশে স্বার্থটা আমাদের সবার স্বার্থ বলে কাজ করে গেছে। দেশের মুক্তি খুঁজতে গিয়ে উল্টা সোভিয়েত রাষ্ট্রকে নিরাপদ করতেই নিজেরা বলি হয়ে গেছি। ব্লক ভাবনার বিস্তার ও প্রয়োগ দেখে আমরা আজ নিশ্চিত বলতে পারি আমরা ব্যবহৃত হয়ে গেছি। সোভিয়েত ইউনিয়নের রাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতি হয়ত নিজের জন্য সফল, খুবই কাজের কিন্তু "দুনিয়ার মজদুর এক হও" -এই আন্তর্জাতিকতাবাদের শ্লোগানের কোন ব্যবহারিক কার্যকর রূপ দাঁড়ায় নাই। এতে আন্তর্জাতিকতাবাদের গুরুত্ত্বপূর্ণ বিমূর্ত ধারণাটাই যেন অবাস্তব, খেলো হয়ে গেছে।

অথচ বিমূর্ত ধারণাটা বিমুর্তই রয়ে গেছে। আমাদের জন্য বাস্তবতা হয়ে পড়েছিল, কোন দেশ জনগোষ্টি আত্মপ্রকাশ করতে চাইলে সোভিয়েত অথবা আমেরিকান ব্লকে নাম লেখান ছাড়া উপায় নাই। এতে কোন দেশই রাষ্ট্র হিসাবে সবলতা লাভ করতে পারে নাই। বড় জোড় কিছু সাটেলাইট রাষ্ট্র দেখেছি। স্যাটেলাইট রাষ্ট্র একটা স্ববিরোধী ধারণা, রাষ্ট্র ধারণার সাথে যার কোন সম্পর্ক নাই।

এখানে আর একটা সত্য হলো, বিপ্লবী রাশিয়ার জন্ম নেবার পর থেকেই উপস্হিত পুঁজিতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো স্বভাবতই এর শত্রু রাষ্ট্র হয়ে যায়। ব্লক ধারণা বিস্তারের মাধ্যমে অন্য দূর্বল রাষ্ট্রগুলোকে পশ্চিমা শক্তির বিরুদ্ধে জড়ো করে প্রতিরক্ষাবুহ্য তৈরি করা হয়ে পড়ে সোভিয়েত বৈদেশিক নীতির মূল কাজ। আবার লক্ষ্যণীয়, একই ব্লকের মধ্যে থাকা রাষ্ট্রগুলোর নিজস্ব স্বার্থ সংঘাত একই সাথে অটুট থেকে গেছিল। পশ্চিমা শক্তির বিরুদ্ধে জড়ো করে প্রতিরক্ষাবুহ্য তৈরি করার প্রক্রিয়াটা এবার একটু তলিয়ে দেখব। সেই সাথে স্হানীয় কমিউনিজমের সমস্যার তত্ত্বগত কিছু অমীমাংসিত ইস্যুর দিকে নজর ফেরাব।

সোভিয়েত ব্লক ও স্হানীয় কমিউনিজম: রাষ্ট্র ধারণায় দূর্বলতা আমাদের খুব কমজনেরই স্মরণে আছে ১৯১৭ সালের বলশেভিক বিপ্লবটা ঘটেছিল রাশিয়ায় জারের বিরুদ্ধে, সোভিয়েত ইউনিয়নে নয়। ১৯২২ সালের আগে সোভিয়েত ইউনিয়নে বলে কোন কিছুর অস্তিত্ত্বই ছিল না। বিপ্লবী রাশিয়ার পড়শী ১৫টা দেশ মিলিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন নামে একটা কনফেডারেশন রাষ্ট্রে রূপলাভের ঘটনা ১৯২২ সাল থেকে জারি হয়ে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত গিয়ে একটা স্হির স্হায়ী রূপ নেয়, নাম হয় USSR (ইউনাইটেড সোভিয়েত সোশালিষ্ট রিপাবলিক)। কেন রাশিয়ান বিপ্লবকে কনফেডারেশনের জামা পড়তে হলো? এই প্রশ্ন একজামিন করে আগে বাড়তে থাকব। রাশিয়ান বিপ্লবের পর বিপ্লবের নায়কদের মাঝে একটা অস্হির তত্ত্বীয় বিতর্ক শুরু হয়, বিপ্লবকে কিভাবে রক্ষা করা যাবে এই নিয়ে।

রাশিয়ায় বিপ্লব ঘটেছিল বলে প্রশ্নটা ক্লাসিক রাষ্ট্র ধারণায় রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করে উঠেনি, তর্ক উঠেছিল নতুন রাশিয়ান বিপ্লবকে কিভাবে রক্ষা করা যাবে - এভাবে। যাই হোক, এসব তর্কের মধ্যে সব চেয়ে ঝড় তোলা বিতর্ক হলো, ট্রটস্কির "একদেশে সমাজতন্ত্র" (“Socialism in one country”) আদৌ করা সম্ভব কীনা ও টিকানো সম্ভব কী না। প্রশ্নটা ক্লাসিক রাষ্ট্র ধারণার মত কেবল নিজ রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষার কথা তুলে নয়, একইসাথে দুনিয়ায় কমিউনিষ্ট বিপ্লব করা ও টিকানোর কীভাবে সম্ভব অর্থাৎ, "দুনিয়ার মজদুর এক হও" -এই আন্তর্জাতিকতাবাদের গুরুত্ত্বপূর্ণ প্রশ্নের ব্যবহারিক সমাধানের-রূপের প্রশ্নকে সমন্বিত করে কথাটা তোলা হয়েছিল। বিতর্কটা তাই নিয়ে। তার মানে বুঝা যাচ্ছে পরবর্তীতে আমরা যা ব্লক ধারণার উপর ভর করে সোভিয়েত রাষ্ট্রের বৈদেশিক ও প্রতিরক্ষা নীতি দেখছি তা শুরুতে এরকম ছিল না।

দুঃখজনক হলো, এসব বিতর্ক রাশিয়ায় কখনই তত্ত্বীয়ভাবে কোন পরিণতি লাভ করে নাই। কারণ, ১৯২৪ সালের বছর শুরু জানুয়ারিতে লেনিন মারা যান। পরবর্তীতে ট্রটস্কি দশান্তরিথয়ে বিদেশেই তার মৃত্যু হয়। ফলে বিতর্ক তোলা বা শুনার মত আো কাউকে পঅয়া যায়নি। এই পরিস্হিতিতে, এই গুরুত্ত্বপূর্ণ বিতর্ক তত্ত্বীয়ভাবে নিরসন করে সিদ্ধান্তে না পৌছাতে পারলে যা হয় তাই ঘটেছিল; আন্তর্জাতিকতা বাদ থাক, রাষ্ট্রের বৈদেশিক ও প্রতিরক্ষা নীতি দরকার, নিজে বাঁচার জন্য এই তাৎক্ষণিক বাস্তব প্রয়োজন এজন্য অপেক্ষা করে বসে থাকতে পারে না।

ফলে ইস্যুটাকে চিন্তায় তত্ত্বে অমীমাংসিত রেখে উপস্হিত ব্যবহারিক সাময়িক সমাধানটাই একসময় নীতি হয়ে উঠেছিল - এটাই পরবর্তীকালে আমরা যাকে ব্লক ভাবনা হিসাবে দেখছি। তবে এর একটা ঐতিহাসিকভাবে অর্থাৎ ইতিহাসে সেইসময় বাস্তব পরিস্হিতি ঘটনা কীভাবে ঘটেছিল সেভাবে দেখে - কীভাবে হলে ভাল হতো, আমরা কীভাবে ঘটুক দেখতে চাই তা নয় - একটা বিচার হবারও দরকার আছে। সে বিচারে বেশি যাব না। সে বিবেচনায় হয়ত জানা যাবে, কেন রাশিয়ান রাষ্ট্রের স্বার্থটা আর সব বিবেচনার (আন্তর্জাতিকতাবাদ ইত্যাদি) উপর প্রবল হতে পেরেছিল। তবে আমরা ইতোমধ্যে দেখে ফেলেছি ব্লক ভাবনায় যাওয়া ছাড়া ভিন্ন কিছু পথ নেবার কোন তত্ত্বীয় মীমাংসিত প্রস্তুতি রাশিয়ান বিপ্লবের ছিল না।

তবু রাশিয়ান বিপ্লব ফেডারেশন রাষ্ট্রের জামা, বাফার ষ্টেট ইত্যাদি গড়ে নিজেকে সুরক্ষিত করে তোলার ধাপগুলো জানার দরকার আছে। রাশিয়ান বিপ্লবের কাল ১৯১৭ সাল। সময়টা নজর করলে আমরা দেখব মূলত সারা ইউরোপসহ বিশ্ব ১৯১৪ সাল থেকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল। ইউরোপের প্রতিটা সরকার ঐ ধাক্কা সামলাতে বেসামাল। এরই ভিতর নতুন ধারণা, যুদ্ধসঙ্কটের নতুন দৃষ্টিভঙ্গী ও উপায় হিসাবে পড়শীরা সবাই রাশিয়ান বিপ্লবকে দেখতে শুরু করেছিল।

স্বভাবতই এর প্রভাব কমবেশি সবদেশই পড়েছিল, রাশিয়ার পড়শী দেশগুলো এতে প্রভাবিত হয়েছিল সবচেয়ে বেশী। তাই ফলাফলে আমরা দেখেছিলাম, ইউরোপের প্রতিটা দেশে একদিকে টালমাটাল স্ব স্ব দেশের সরকার, আর একদিকে স্ব স্ব দেশে হয় নতুন স্হানীয় কমিউনিষ্ট পার্টি অথবা কমিউনিষ্ট পার্টি থাকলে তাকে গাঝেড়ে উঠে - গড়ে তোলার হিড়িক পড়ছিল। পড়শি দেশের বিপ্লবের ঢেউ এভাবেই আছড়ে পড়েছিল এসব দেশে। রাশিয়ান বিপ্লব, দুনিয়ার প্রথম বিপ্লবের ছোঁয়া ও প্রভাব মানে, কেবল এর রাজনৈতিক আদর্শগতই নয়, সামরিক সহযোগিতাও - এসব কমিউনিষ্ট পার্টিকে স্ব স্ব দেশে ক্ষমতাদখল করতে সাহায্য করেছিল। কমিউনিষ্ট পার্টিগুলো স্ব স্ব দেশে ক্ষমতাদখলের পর একজোট হয়ে ফেডারেশন বানানো শুরু করে।

বানানি শুরু হয়েছিল চারটা দেশ রাশিয়া, ট্রান্সককেশিয়ান (জর্জিয়া, আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান), ইউক্রেন, বেলারুশ নিয়ে (১৯২৪), এরপর আস্তে আস্তে তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান, কাজাখিস্তান, কিরঘিজিস্তান (১৯৩৬); এর আরও পরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষাশেষি বাল্টিক দেশ এস্তনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া ও মলদাভিয়া (রোমানিয়ার অংশ) ইত্যাদি - এইভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেখা গেল ১৫ দেশের ফেডারেশন USSR নাম ধারণ করে ফেলেছে। তবু এখানেই শেষ নয়। এতে রাশিয়ার নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করেছিল USSR, এখন USSR এর নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করবে কে? ফেডারেশন রাষ্ট্রের আকার যত বেড়েছে নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষার চাহিদা ততই পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। ফলে আসে নতুন ধারণা বাফার ষ্টেট, এক পড়শি দেশের নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে মূল দেশের শত্রু অপর দেশ - এই দুয়ের মাঝে সান্ডুইচ দেশ হয়ে বসে থাকা, ব্যবহৃত হবার জন্যই যার জন্ম। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে হিটলারের জর্মনির যখন পরাজয় ঘটে তখন চার দেশের সৈন্য জর্মানিকে চার টুকরো করে চার অংশ দখল করে বসেছিল।

ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও আমেরিকার অংশত্রয় মিলে গঠিত হয় নতুন দেশ পশ্চিম জর্মানি আর সোভিয়েত অংশ হয় পূর্ব জর্মানি। ফর্মুলা হলো খুব সহজ, সামরিক দখলে থাকা দেশ বা অংশে স্হানীয় কমিউনিষ্ট পার্টিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসিয়ে ছেড়ে চলে যাওয়া, নিজের নিরাপত্তার যুক্তিতে একটা শান্তিচুক্তি সই করে কয়েক ডিভিশন সৈন্য রেখে যাওয়া। এভাবেই পূর্ব জার্মানি সোভিয়েতের বাফার ষ্টেট হয়ে যায়। এটা পশ্চিম অংশে পশ্চিমা শক্তির উপর এমন চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয় যে একটা পশ্চিম জর্মানী রাষ্ট্র গড়ে এর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা ছাড়া কোন সহজ সমাধান পশ্চিমা তিনশক্তি দেখেনি। ফলে পূর্ব-জর্মানী একটা আলাদা রাষ্ট্র বটে তবে বাফার ষ্টেট, সোভিয়েতের দেয়া নিরাপত্তার বিনিময়ে বাফার সুবিধা দিয়ে টিকে থাকাই ওর কপাল।

একইভাবে ভাগ্য লেখা হয়ে যায়, পোল্যান্ড, রুমানিয়া, চেকশ্লোভাকিয়া, যুগশ্লোভিয়াসহ অনেকের। USSR এর নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রধান হুমকি মনে করা হত পড়শি ইউরোপীয় দেশগুলো। ফলে বাস্তবত ইউরোপই ভাগ হয়ে গেল। পশ্চিম ইউরোপকে একপাশে সরিয়ে মাঝে বাফার রাষ্ট্রগুলোর জন্ম দিয়ে ওর ওপারে USSR। আর USSR এর সবার মাঝখানে চারদিকে বাফার রাষ্ট্রের দেওয়াল বানিয়ে কেন্দ্রে থেকে গেল রাশিয়ান ফেডারেশন।

এটাই সেই প্রাকটিক্যাল সমাধান - বাফার ষ্ট্রেট ও সমর্থক রাষ্ট্রের বলয় তৈরি করা, এর পরেও আবার লাগোয়া সীমানা না থাকলে ব্লক, পুরা দুনিয়াকে ব্লকে ভাগ করে ফেলা। এটা পরিণতিতে কী ডেকে নিয়ে এসেছিল তা তো আমরা আমাদের দেশের কমিউনিষ্ট পার্টিগুলোর দিকে তাকালেই বুঝতে পারি। পার্টিগুলো হয়েছিল, রাশিয়ার বৈদেশিক নীতি বাস্তবায়নের নিজ দেশে একএকজন স্হানীয় এজেন্ট। নিজেরা রক্তমাংসের মানুষ হিসাবে চিন্তা করতে ভুলে গিয়েছিল। যা কিছু করতে চাইত, এমনকি কিছু নিয়ে ভাবতে চাইলেও তাঁর মনে পড়ে যেত তথাকথিত আন্তর্জাতিকতাবাদের সাথে মিলিয়ে তাঁকে ভাবতে হবে।

অথচ ওটা ছিল আসলে স্রেফ সোভিয়েত রাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতি। কান দিয়ে দেখার এই অপচেষ্টা বেশিদিন করতে হয়নি, ১৯৮৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ঘটলে সব সমস্যার নৈব্যাক্তিক সমাধান হয়ে যায়। এই প্রসঙ্গ শেষ করার আগে একটা ছোট নোক্তা দিয়ে শেষ করব। বাফার ষ্টেটের ধারণা ও এর প্রতি সোভিয়েত লোভ ১৯৫৬ সালে শেষ হয়েছিল মনে করলে ভুল হবে। এটার সর্বশেষ ব্যবহার ১৯৭৯ সালে।

আজকের আফগানিস্তানে সে সময়ের বারবাক কারমেল সরকার কায়েম হয়েছিল, যে সঙ্কট আজ মহীরুহ হয়ে লেজে লেজে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় আলকায়েদা পর্যন্ত বিকশিত। পাকিস্তানে আমেরিকান প্রভাব ও পড়শী সেন্ট্রাল এশিয়ান (তখন সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ) দেশকে ইসলাম ও আফগান কোন কোন সম্প্রদায়ের সাথ জাতিগত মিলের প্রভাব থেকে বাঁচাবার ভয়ে ঐ কান্ড করেছিল প্রেসিডেন্ট ব্রেজনেভ। ফলে বাফার ষ্টেট হিসাবে আফগানিস্তান - এটাকেই সমাধান মনে করা হয়েছিল। [চলতি উপ-শিরোনামের বাকী অংশ থেকে পরের পর্ব শুরু হবে। পরের পর্বই শেষ পর্ব হবে।

]

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.