আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

অমি পিয়ালের 'অপরাধ' এবং কি-বোর্ড হাবিলদারদের যুদ্ধ

আমরা যদি না জাগি মা, কেমনে সকাল হবে...

যৌবনযাত্রার দায়ে পিয়ালকে 'বাতিল' করে দেওয়ার একটা প্রবণতা লক্ষ্য করছি বিস্ময়ের সঙ্গে। কোনো বিচারেই যৌবনজ্বালা কিংবা যৌবনযাত্রায় যুদ্ধাপরাধীদের ক্যাম্পেইন চালানোর পক্ষপাতি ছিলাম না আমি। এখনো নই। এ প্রসঙ্গে আহসান হাবিব শিমুল, মিরাজ, আউলাসহ আরো দুয়েকজনের বক্তব্যের সঙ্গে প্রায় একমত আমি। ঘটনার শুরুতে যৌবনযাত্রা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্যও পিয়ালকে পরামর্শ দিয়েছিলাম।

তিনি গা করেননি। তারপরও গত অন্তত ছয় মাসে, হয়তো এক বছরে এই প্রথম বিব্রত হয়েছি এই একটি ঘটনায়। কারণ এর পিছনে ছিলেন অমি রহমান পিয়াল। তাকে আমি আইকন ভাবি না, নেতাও মনে করি না। কিন্তু আমি দেখেছি, এই ব্লগে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যা কিছু কাজ বা লেখালেখি হয়েছে, তার বেশিরভাগই এই পিয়ালের।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি গভীর অনুরাগ না থাকলে অমন নিবিষ্টভাবে কারো পক্ষে কাজ করে যাওয়া সম্ভব নয়। ফলে যৌবনযাত্রার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার পরও তার কৃতিত্ব ম্লান হয়ে যায় না। ইন ফ্যাক্ট, তাদের যে সংঘ, ১৭ বা ১৯ জনের, তার মধ্যে আমার দেখায় শত পাগলামি সত্ত্বেও আইজুদ্দিন এবং অপর একজন ছাড়া অমি রহমান পিয়াল তৃতীয় ব্যক্তি, যাদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আদতেই ভণ্ডামি নেই, যারা ব্লগারদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য কি-বোর্ডের আগায় মুক্তিযোদ্ধা সাজেন না। সত্যি বলতে কী, এই ব্লগের সবচেয়ে ভয়াবহতম 'ট্রাজেডি' ঘটানোর লোভটা আমি তাদের মুখ চেয়েই সংবরণ করি বারে বারে। তাই বলি, চিৎকার যারা করছেন, ঘোলা জলে যারা মাছ শিকারে নেমেছেন, তাদের বলি, পিয়ালকে বাতিল করে দেওয়া যায় না।

কাজটি খুব কঠিন হবে! এবং কি-বোর্ড হাবিলদারদের যুদ্ধ কি বোর্ড হাতে রাজা-উজির মারা থেকে এইবার একটু ক্ষ্যামা দেন ভাইসকল। এইবার একটু ঘর থেকে বাইর হন। একটা মিছিল করেন। গণস্বাক্ষর নেন। ঢাকায় লাখ লাখ মানুষ আছে যারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে সচেতন নয়।

বিচারের দাবির যৌক্তিকতা ওদের একটু বোঝান। আপনারা দয়া করে তাদের কাছে একবার হলেও যান। ঘুরে ফিরে যে হাজারকয়েক ইন্টারনেট ইউজার আছে তাদের নিয়ে আর লম্ফঝম্প কৈরেন না। তারা যথেষ্টই সচেতন। এক কলা বারবার দেখিয়ে তাদের আর অতি জ্ঞানী বানানোর দরকার নাই।

সচেতন মানুষকে অতি সচেতন করারও আর দরকার নাই। ঢাকা শহরের জনসংখ্যা ১ কোটি। এর মধ্যে ৫০ লাখ নয়, ১০ লাখ নয়, মাত্র ১০ হাজার লোককে বোঝাতে গেলেও ব্লগবাসীদের সময় লাগবে কমপক্ষে কয়েক বছর। আসেন কাজ শুরু করি ভাইসকল। যদি আপনারা মন থেকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চান।


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।