আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

জয় দিয়ে শুরুটা হলো না বাংলাদেশের

জীবনের গল্প বলে যাই গল্পের মতো করে...

একে তো উদ্বোধনী ম্যাচ তার উপর আসরের সবচেয়ে কঠিন দলের বিপক্ষে লড়তে হবে। হাবিবুলরা তাই জিতবেই এমনটা প্রত্যাশা হয়তো কেউ করেননি। তাই বলে বাংলাদেশ একাদশও যে বিশ্ব একাদশকে একেবারে ছেড়ে কথা বলেনি। যদিও গতকাল ভারতের আহমেদাবাদের সর্দার বল্লভাই প্যাটেল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আইসিএল ওয়ার্ল্ড সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে তারা ১২ রান ব্যবধানে হারে আইসিএল ওয়ার্ল্ড একাদশের কাছে। অনবদ্য ৬৩ রান করার পর বল হাতে ৩ উইকেট তুলে নেয়া দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অলরাউন্ডার ল্যান্স কজনার ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন।

দিবা-রাত্রির গতকালের ম্যাচে টসে জিতে বাংলাদেশ একাদশের অধিনায়ক হাবিবুল বাশার প্রথমে ব্যাট করতে পাঠান বিশ্ব একাদশকে। মারে গুডউইন আর হার্ভের উদ্বোধনী জুটি ১০ বলে ২১ রান তুলে ঝড়োগতিতে শুরু করলেও নিজের প্রথম ওভারে বল করতে আসা তাপস বস্য ওভারের চতুর্থ বলে ৫ বলে ৫ রান করা হার্ভেকে অলক কাপালীর ক্যাচে পরিণত করলে প্রথম সাফল্য পায় বাংলাদেশ। এরপর রফিক দ্রুত দুটি উইকেট তুলে নিলে ৩৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ক্রিস হ্যারিসের দল। ক্রিজে আসা মার্টিনি ১ রান করে ফিরে যাবার পর ১৭ বলে ৬টি চারসহ ২৭ রান করা গুডউইনও বিদায় নেন। শুরুতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের অনুকূলে থাকলেও সেটাকে বদলে দেন অলরাউন্ডর কুজনার এবং নিকি বোয়ে।

এই জুটি ৩৮ বলে ৫৫ রান তুললে ম্যাচে দারুণভাবে ফিরে আসে বিশ্ব একাদশ। কুজনার শেষপর্যন্ত ৪টি চার ও ২টি ছক্কাসহ ৬৩ রানের হার না মানা ইনিংস উপহার দেন। আর নিকি বোয়ে ৫টি বাউন্ডারীসহ ২৩ বলে৩৪ রান করেন। আইসিএল বিশ্ব একাদশ নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে করে ১৬৭ রান। নিজের প্রথম বলেই উইকেট নেয়া রফিক ৪ ওভার বল ছুড়ে ২০ রান দিয়ে তুলে নিয়েছেন ৩ উইকেট।

তাছাড়া মোশাররফ রুবেল ৩০ রানে নেন২ উইকেট। জয়ের জন্য ১৬৮ রানের ল্য ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের দুই ওপেনার শাহরিয়ার নাফিস ও নাজিমুদ্দিন যেভাবে শুরু করেছিলেন তাতে মনে হচ্ছিল শুরুটা বুঝি জয় দিয়ে হচ্ছে। ২০ বলে তারা ২৮ রান তুলার পর ১১ বলে ১টি চার ও ২টি ছক্কার সহায্যে ২০ রান করা নাজিমুদ্দিনের ঝড়ো ব্যাটিং শুরুতেই থামিয়ে দেন অ্যাডামস। ওয়ানডাউনে নামা আফতাবকে নিয়ে আরেক দফা চড়াও হন। এই জুটি দলীয় স্কোরে ৪৮ রান যোগ করার পর ১৭ বলে ২টি করে চার ও ছক্কা হাঁকানো আফতাব নিকি বোয়ের বলে উইকেটরক নিক্সনের হাতে ক্যাচ তুলে দিলে ৭৫ রানে ২ উইকেট হারায় বাংলাদেশ একাদশ।

আইসিএলর লিগে হৈচৈ ফেলে দেয়া অলক কাপালী গতকাল নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। মাত্র ৪ বল খেলে ব্যক্তিগত ১ রানে তিনি ফিরে যাবার পর বাংলাদেশ দ্রুত আরও ৩টি উইকেট হারিয়ে বসে। অধিনায়ক হাবিবুল বাশার ৩ রান করলেও মাহবুবুল করিম ও উইকেটরক ধীমান ঘোষ কোন রানই করতে পারেননি। আর তাতেই আরিক অর্থে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ। এরপর রফিক ১৫ বলে ২টি বাউন্ডারী ও ১টি ছক্কাসহ ২০ রান এবং তাপস বস্য ৬ বলে ২টি ছক্কাসহ ১৩ রান করে বিদায় নিলেও ২১ বলে ৩টি বাউন্ডারী ও ১টি ছক্কাসহ ২৮ রান করা মোশাররফ হোসেন রুবেল শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন।

তাতে তীরে এসেই তরী ঢুবে বাংলাদেশের। জয় থেকে ১২ রান দূরে থাকতেই ৯ উইকেট হারিয়ে করা ১৫৫ রানে থেমে যায় বাংলাদেশের রানের চাকা। বল হাতে বাংলাদেশকে প্রায় একাই কাবু করেন ল্যান্স কুজনার। তিনি মাত্র ১৮ রান দিয়ে তুলে নেন ৩টি উইকেট। তাছাড়া নিকি বোয়ে ও অধিনায়ক হ্যারিস ২টি করে উইকেট পান।


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।