আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

তবে সন্ত্রাসীদের শাস্তি দিবেন কিভাবে?

বাংলাদেশ ব্লগারস এসোসিয়েশন সদস্য নং: ১০ । facebook.com/milton3d

আজ ও গত কয়েকদিনের কয়েকটি পোষ্টের পরিপ্রেক্ষিতে আজকে আমি এই পোষ্টটি দিচ্ছি। যেটা পুরোটাই আমার ব্যাক্তিগত মতামত। র‌্যাব ক্রসফায়ারে করে সন্ত্রাসী মারছে। আমরা পত্র পত্রিকায় পড়ি সন্ত্রাসীদের সাথে বন্দুক যুদ্ধে র‌্যাবের ক্রসফায়ারে পড়ে সন্ত্রাসী মারা যায়।

কিছু অস্ত্র উদ্ধার হয় পরিত্যাক্ত অবস্থায়। এই গল্প আমরা সবাই জানি। পেপারে পড়তে পড়তে সবারই মুখস্ত হয়ে গেছে বলা যায়। র‌্যাবের জন্ম গত জোট সরকারের আমলে। আমি কোন সরকারের পক্ষ নিয়ে কথা বলবো না, শুধু বলবো সেই সময়ে এই ডিপার্টমেন্টের সৃষ্টিটা সত্যিই খুব প্রয়োজন ছিল।

আপনাদের নিশ্চই মনে আছে তখন খুবই খারাপ একটা অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। প্রতিদিন পত্রিকার হেডলাইন, "ওমুক ব্যাবসায়ী নিহত, ওমুক ছাত্র নিহত, ওমুক জায়গায় ছিনতাই" ইত্যাদি ইত্যাদি। এই গুলো নিশ্চই কারো ভুলে যাবার কথা নয়। যেগুলো ভুক্তভুগী কেউ কেউ আমরাও নিজেরাও। একথা অস্বীকার করতে বাঁধা নেই এই র‌্যাবের সৃষ্টির পর এবং তাদের গৃহীত এক্শনের পর পরিস্থিতি কিছুটা হলেও ঠান্ডা হয়েছে।

দেশের বৃহত একটা জনগোষ্ঠী এটার সমর্থন জানিয়েছে মৌন ভাবে। বর্তমানে বাংলাদেশে সামাজিক প্রেক্ষাপটে চলমান বিচার ব্যাবস্থা আমাদের কিছুই দিতে পারেনি। এ কথা স্বীকার করতেই হবে। কেউ আমাকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখাতে পারবেন? ওমুক সন্ত্রাসীর ওমুক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়েছে যার জন্য সে ভাল জীবনে ফিরে এসেছে, আর ভুক্তভুগী সুবিচার পেয়েছে। মানবাধিকার? একটা সন্ত্রাসী যখন একজন নীরিহ মানুষকে মেরে ফেলছে, তখন মানবাধিকার গেল কোথায়? নিহতের স্বজনের কান্না শুধু শহরের দালানে বাড়ি খেয়ে প্রতিধ্বনী হয়।

কোন বিচার হয় না। হয়েছে কি কখনও? কোন আইনেই সেই কুখ্যাত সন্ত্রাসীকে শাস্তি দিতে পারে না প্রসাশন। সে বের হয়ে আসে আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠে আইনের অপব্যাবহারের ফলে। বাংলাদেশের চলমান আইনের অপব্যাবহার করে, এই সন্ত্রাসীরা কি ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে না? আমি ব্যারের ক্রসফায়ারের সমর্থন করি, একটি কারণেই যে, তারা সন্ত্রাসীকে মারছে। তবে হ্যাঁ, অভিযোগ আসতে পারে, কোন কোন ডাকসাইটেরা এই ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তাকে অপব্যাবহার করতে পারেন।

তাই যদি হয় তবে সেটা খুবই দুঃখজনক। সেটার জন্য আলাদা ভাবে কথা বলা প্রয়োজন। ব্যাক্তিকেন্দ্রিক আক্রোশ এর জন্য প্রশাসনকে ব্যাবহার করা খুবই খারাপ। সেটার সাথে সন্ত্রাসীকে মেরে মানবাধিকার লংঘনের ব্যাপারটার কোন মিল নেই। সমাজের যারা কীট তাদেরকে ধ্বংশ করেই ফেলা ভাল।

বাংলাদেশের আইন দিয়ে আর আমলা তান্ত্রিক তোষামোদী দিয়ে এদের শাস্তি দিতে পারা যাবে না। ঠিক তেমনি এদের পূর্নবাসনও করা যাবে না। সুতরাং সমাধান একটাই। আমরা কথা বলতে পারি, এই ডিপার্টমেন্টের জন্য কেউ ভুল বিচার পাচ্ছে কিনা বা নিরিহ মানুষ মারা পড়ছে কিনা? আমার খুব মনে আছে, একটি মাত্র কেইস ঘটেছিল, একবার র‌্যাবের ক্রসফায়ারে একটা নির্দোষ শিক্ষক মারা গিয়েছিল। সেটা নিয়ে অনেক কথাই হয়েছে তখন।

এমন ঘটনার পুরোনাবৃত্তি হওয়া উচিত নয়। সন্ত্রাসীরা তো অমানুষ। ওদের জন্য কান্না কিসের? ওদের জন্য আইন কিসের? ওদের জন্য মানবাধিকার কিসের? এই তৃতীয় বিশ্বের দেশে আপনি বা আমরা সব কিছু আইন দিয়ে বিচার করতে পারবো না। তাই চাই সন্ত্রাসী নির্মূল হোক, সেটা যে উপায়েই হোক না কেন? আমরা শান্তি চাই। [এই পোষ্টের কিছু অংশ একজন ব্লগারের একটি পোষ্টের কমেন্টে আমি লিখেছিলাম]


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।