আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

স্বপ্নচোর-৮ম র্পব

দ্যা ব্লগার অলসো.....

সেই দিনটির কথা মনে পড়লো জয়ের, যেদিন আলোর সাথে কাটিয়েছিলো জীবনের সবচাইতে সুন্দর মুহূর্ত। সেদিন ছিলো আলোদের স্কুলের বিদায় অনুষ্ঠান। জয়ও গিয়েছিলো, আলো ওকে দাওয়াত করেছিলো। অনুষ্ঠান শেষ হয়ে যাবার পর আলো ওকে বলেছিলো অপেক্ষা করতে। কাঁচা রাস্তা ধরে হাঁটছিলো ওরা।

সময়টা বর্ষাকাল হওয়ায় আলো সাথে করে ছাতা এনেছিলো। ‘স্কুলের পাট তো চুকিয়ে ফেললি, এখন?’ বলল জয়। ‘মানে?’ ‘মানে আর কি, আমাদের গ্রামে একটা মেয়ে যখন হাইস্কুলের গন্ডি পেরোয়, সে তখন পুরোপুরি বিয়ের উপযুক্ত। ’ ‘তাতে কি হলো?’ ‘হয়নি, তবে হবে। লাল টুকটুকে শাড়ি, মাথায় টিকলি দিয়ে সোজা শ্বশুরবাড়ী।

’ ‘অ্যাঁ! বয়েই গেছে, এখনো ঢের দেরি। ’ কথাটা বলেই কেমন যেন গম্ভীর হয়ে গেলো আলো। ‘কি, চুপ হয়ে গেলি যে, চিন্তা ঢুকে গেলো মাথায়? অতো চিন্তা করিসনা, তোকে যে বিয়ে করবে সে খুব ভাগ্যবান, এবং আমার বিশ্বাস সে তোকে অনেক সুখে রাখবে। ’ ‘জ্যোতিষি হয়ে গেছিস?’ ‘পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ে, ঘরকন্নার কাজে যথেষ্ট পারদর্শী, দেখতে খুব সুন্দর, নম্র-ভদ্র; ভালো বর পাবার জন্য এতোগুলো গুণ কি যথেষ্ট নয়?’ জয় দেখলো আলোর চোখের কোলে পানি টলটল করছে, কিছুটা অবাক হলো ও, বললো-‘আলো, তুই কাঁদছিস!’ ‘জয়, তুই কি কোনদিনই বুঝবিনা?’ ‘কিসের কথা বলছিস?’ আলো আর কোন কথা বললনা। জয় আসলে বুঝতে পেরেছিলো, আলো কি বলতে চায়।

যে স্বপ্ন ও মনে মনে লালন করে আলো তা মুখে শুনতে চেয়েছিলো। বুঝেও না বোঝার ভান করেছিলো ও। মাতৃহারা, বাবা থেকেও নেই, আত্মীয়-স্বজনেরা যাকে মনে করে পরগাছা,সে কি করে মুখ খোলার দুঃসাহস করে। তাই মনের মধ্যে সযত্নে লালিত সেই স্বপ্নকে গলা টিপে হত্যা করেছিলো ও। এরপর চুপচাপ, নীরবে হাঁটতে লাগলো ওরা।

ওদের মনের ভেতর জমতে থাকা বিষন্নতা যেন মেঘ হয়ে আকাশে ভেসে উঠলো, পুরো আকাশ ঢেকে গেলো কালো মেঘে। দুজনেই ওরা আকাশের দিকে তাকালো, কেউ কিছু বলার আগেই ঝমঝম করে নামলো শ্রাবণের ফল্গুধারা। আলো তাড়াতাড়ি করে হাতের ছাতা খুলে বললো-‘জয়, আয় ভেতরে। ’ আসলো জয়, দুটো কিশোর-কিশোরী খুব কাছাকাছি হলো। ছাতার বাটে ধরা আলোর হাতের উপর আলতো করে হাত রাখলো জয়, সারা শরীর কাঁপছিলো ওর , কারণ এত কাছে আর কখনোই আসেনি ও আলোর।

বৃষ্টির বেগ ক্রমেই বাড়তে লাগলো। মাথাটাই যা একটু রক্ষা পাচ্ছিলো, গা ভিজে যাচ্ছিলো দুজনেরই। তারপর এক দমকা হাওয়া এসে উড়িয়ে নিয়ে গেলো হাতের ছাতা। জয় ত্বরিতগতিতে পা বাড়াতে যাচ্ছিলো ছাতা উদ্ধারের জন্য, ওর হাত ধরে ফেললো আলো, ‘যাবিনা, দাঁড়া। ’ ওর দিকে তাকালো জয়, দেখলো- আলো বৃষ্টি মানবী হয়ে গেছে।

ওর চোখে এক অন্যরকম দৃষ্টি, সে দৃষ্টির মানে বোঝে জয়। ওর চোখের ভাষা বলছে- ‘আর কোনদিন কি একসাথে বৃষ্টি ভেজা হবে?’ দাঁড়িয়ে থাকলো ওরা। বর্ষণমুখর বিকেলে ফাঁকা রাস্তায় একজোড়া কবুতরের মতো ভিজল ওরা, ভেজালো নিজেদের কষ্ট, অক্ষমতা, গ্লানি। জয়ের ভাবনার সুতো ছিঁড়ে গেলো, কারণ বৃষ্টির ছোট ছোট ফোঁটা ওর গায়ে পড়তে শুরু করেছে। ওর আশে-পাশে মানুষের ভীড় আস্তে আস্তে কমতে শুরু করলো।

বৃষ্টি কি শহরের মানুষের কাছে অচ্ছুত হয়ে গেছে ? ভাবলো জয়। সাথে সাথে ভাবনাটা বাতিলও করে দিলো। কারণ- এ শহরের মানুষ ছোটার উপর থাকে, তাদের আয়েশ করে বৃষ্টিতে ভেজার মতো সময় কোথায়? চলবে....

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।