আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

এক খানা সেমি রোমান্টিক গল্প

হাতের লেখা ভালো, চেহারা ভালো না

রনি ভাই, এই গল্পটা আফনারে গিফোট করলাম। কিঞ্চিৎ! কিরে, কথা কছ না ক্যান? বিল উঠতিছে তো! -না, তোর সাথে কোন কথা নাই। ক্যা...ন কথা নাই? -নাইতো নাই! আবার কি! বললেই হলো? কিসের জন্য কথা নাই? ফাজিল! - তুই ভালনা, এজন্য কথা নাই। ওই, কে বলছে তোরে আমি ভালনা? -তুই ফোন রাখ! সুলতানা, ফাজিলের মতো কথা বলিস না। কথা শোন........ -বললাম না কথা বলবো না! তুই ভাল না! ফোন রাখ! কিসের জন্য ভালনা বলবি তো? কি করছি তোর? -কিছু করস নাই।

এম্নিতেই কথা বলবো না। সুলতানা, যা বলি শোন, তুই বিকেলে দেখা করবি। -রঞ্জু, আমি কিন্তু ফোন রেখে দেবো। আমি দেখা করতে পারবো না। ১০০ বার পারবি।

১টা চড় দিলেই পারবি, ফাজিল! শোন, ৩ টার সময় দিলিপ স্যারের ওখানে যাবি, কথা আছে তোর সাথে। ঠিক ৩ টার সময় যেন দেখি! -যদি না দ্যাখ তাইলে কি করবি? তোর সাহস ক্যামন জানিনা! কি করমু শুনবি? -শুনি... এমন বাসা বাসবো জীবনে আর অন্য কোথাও যেতে পারবিনা। -বাসবো মানে! ফাজিল! শোন রঞ্জু, বিকেলে বাসায় আসিস। সেই যে সম্বন্ধটার কথা বলছিলাম না; তারা বিকেলে আমারে দেখতে আসবে। ছেলের দুইটা সুন্দর বোনও আসবে।

তুই সাজুগুজু কইরা আসিস। আমি নীল রংয়ের যে পাঞ্জাবীটা দিছিলাম ঐটা পইড়া আসিস। -সত্য! সত্য সুলতানা! দুইটা বোন! দুইটাই আসবে! ওদের বয়স কত? লম্বা না খাটো? ফর্সাতো? পিছনটা ভারীতো...... সরি.. সরি.....সরি সুলতানা....... রাখি.........রাখি...........। রঞ্জু সুলতানার বাসায় যায়নি। তার মন খুব খারাপ।

মন খারাপ হলেই সে চিঠি লেখে। এখন লালদিঘির পাড়ে বসে সে সুলতানার বরাবর চিঠি লিখছে। ডিয়ার সুলতানা, তুই ওরকম বোকা হইছোস কিভাবে? আজকাল তোর মাথায় কোন কাজ করেনা? তুই জানাস না আমি তোরে ভালবাসি কি-না? সত্য ক, জানস না? আমি মুখ ফুইটা কইনাই সত্য কিন্তু এতবড় মেয়েরেও কি সব মুখ দিয়া বইলা বোঝান লাগবে? তোর মাথায় কি কোন বুদ্ধি নাই? তুই ক্যামেষ্ট্রিতে ফাস্ট ইয়ারে সেকেন্ড ইয়ারে পাস করছোস ক্যামনে? নকল টকল করস নাইতো? তুই আমারে বিকেলে কোন জ্ঞানে বাসায় আসতে কও? যদি তোর বার্থডে পার্টি হতে সেইটা এক কথা। তোর জন্য ঘাস ফুল টাইপের ছোট খাটো কোন ফুল নিয়া আইসা অসহায়ের মতো কইতাম, “ বেকার মানুষতো তাই সস্তা ফুল নিয়া আসলাম। ’ তুই ফুল গুলো খোপায় তুলতে তুলতে বলতি, “ দেখি স্বকার হয়ে উনি কোন ফুল আনেন! ’ তুই সেইটা না কইরা তোরে ছেলে প দেখতে আসবে সেখানে আমারে পাঞ্জাবী পরে যাইতে কস! আসলেই তোর মাথায় কিচ্ছু নাই! সুলতানা, বসন্তে লাল দিঘির পাড়ে কেমন বাতাস ভালইতো জান! আমি এই বাতাসে তোরে ম্যাসেস না লিখে কিভাবে টিকবো বলতো? বসন্তের এখনো কতগুলো দিন বাকী।

এই দিনগুলোতে আমি একলা একলা কি করবো তুইই ক। বসে বসে মশা মারবো? ফাজিল মেয়ে! শোন, তোর যেথায় ইচ্ছা যা, যাওয়ার আগে আমার বেড রুমের জানালাটা আটকে দিয়ে যাবি। তোর কথা মতো ঐ জানালাটা করছি। আমার জমানো ১৭০০ টাকা খরচ গেছে ওর পিছনে। “রঞ্জু, বসস্ত আসতিছে, তোর এইখানে যদি একটা জানালা থাকতো রাতে হেভী মিষ্টি বাতাস আসত!’’ কত মিষ্টি কথা! ফাজিল, তুই গেলে সেই মিষ্টি বাতাস দিয়ে এখন কি করমু? আগে তো মনে হতো তুই জানালার পাশ থেকে হেটে যাচ্ছিস বলে বাতাস হচ্ছে আর এখনতো মনে হবে বোতল শয়তান মুখ বড় করে ‘ফুঁ’ দিচ্ছে।

হাসিস না ফাজিল, বড় হইছোস ঠিকই, মাথায় কোন বুদ্ধি হয় নায়। ’’ হঠাৎ সুলতানা ফোন করায় লেখা বন্ধ করতে হলো। রিসিভ করতেও ইচ্ছা করছেনা এই মুহুর্তে। তারপরও কি-না-কি ভেবে ফোন রিসিভ করলো। বল! -ঐ ফাজিল! কৈ তুই? লাল দিঘির পাড়ে? অভিমানে গেছে নাকি ম্যাসেজ লিখতে? না, এম্নিতেই।

কী বলবি বল ফাজিল! -আমি ফাজিল না তুই ফাজিল? আমারে দিলিপ স্যারের কাছে আসতে বইলা তুই লালদিঘিতে গ্যাছস ক্যান? রঞ্জু খাতা কলম গুছিয়ে দাড়ালো। তুই কই সুলতানা? আমিতো স্যারের কাছে সেই কখন থেকে বইসা আছি। জলদি আয়, দারুন খবর আছে। আজকে তোর বাসায় থাকবো কিন্তু। রঞ্জু হাটা শুরু করল।

ক্যান কি হইছে? অনেক কিছু হইছে। আমারে আর ঘরে উঠতে দেবেনা মনে হয়। বারান্দায় মেহমাদের বসা দেখে আমি পিছনের দরজা থেকে কাউরে না বইলা চইলা আসছি। হেভি হেভি অনেক কথা আছে, তুই জলদি আয়। রঞ্জু ফোন রেখে আবার চিঠি লিখতে বসলো।

‘সুলতানা, আমারে মাফ কইরা দে। আমি ভুলে তোরে বোকা কইছি। তুইতো বোকা না। তোর মাথায় হেভী বুদ্ধি। তোর বুদ্ধিটারে আমি সেলূট করলাম।

’ রঞ্জু কপালে হাত তুলে সুলতানা উদ্দেশ্যে সেলুট করল।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।