আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

চরম অব্যবস্হাপনায় একটা সফল পিকনিকের টিয়া তদন্ত আর কিছু উদাসীয় গান: সূর্য্যদয়ে তুমি সুর্যাস্তে আমি! ও আমার বাঙ্গালী, নাচতে নাচতে হারি!

আসেন দুর্নীতি করি। আর এই দুনিয়াটাকেই খুচাই!

দুনিয়ার সবাই না জানলেও কে কে জানি জানলেও জানতে পারে যে আমি বেজায় বিজি মানুষ। বিজি কথাডা দুই অক্ষরের হইলেও আমার কামের ফিরিস্তি শুনলে বুঝন যাইবো আমি কত বিজি। ম্যাট্রিকে থাকতে আমি একবার চিন্তা লইছিলাম আমি আমার একজন এ্যসিস্ট্যেন্স রাখুম, মাসিক বেতন দিমু ১৫০০ টাকা। প্রস্তাব পাশ করনের লিগা আমি আমার বাপের কানে তুলছিলাম বোইনেরে দিয়া।

ফলাফল যেইটা হইছিলো দুই বেলা খাওন বন্ধ আর কান ধইরা ৩ বার উঠবস করা! যাই হোউক আমি পয়দা হওনের পর থিকাই বিজি। পিকনিকের বিষয়ে আমি যখন ফাস্ট পুস্ট খানা দেখি তখন মন খান আমার পুলক পাইরা ফাল দিয়া উঠলো, অফিসের কলিগ দৌড়াইয়া আইসা কইলো,"চেয়ার ভাঙলেন কেমনে?" -খাড়াইয়া খাড়াইয়া ভুলে একটা ঘুম দিয়া গেছিলাম, মাগার ডাইন সাইডে কাইত হইতে গিয়া ল্যান্ডিং এ সমস্যা! কি কমু আর! পরে ভাবলাম মাসের শেষে ভোর বেলা এত গুলান টাকা খরচ করন তার উপর ঐদিন আবার আইইবি নামক আরেক ভাদামিস্ট জায়গা থিকা বুড়োদের পিকনিক। দোটানায় থাকতে থাকতে দেখলাম পিকনিকের ভেন্যু টিকিট চেন্জ্ঞ অনেকটা সবকিছু এক রাইতে আমাগো এমপি খালেক সাবের ডিগবাজী মারনের কথা মনে করাইয়া দেয়। কেউ কেউ আবার ঘুষনা দিবার চাইলো উক্ত পিকনিকে গেলে নাকি কাফের হওনের সম্ভাবনা আছে। আমি থুড়াই কেয়ার।

দিলাম ফুন সারিয়ারে, একে তো মাইয়া মানুষ তার উপর দেখি ধরে না। মেজাজ চরম বিলা, কারন মোবাইলের নম্বরের সাথে তো আমার নাম উঠে না, তবু কেন সে ফুন ধরে না! সোজা না গিয়া ব্যাকা পথে ৮ খান টিকিট জুগার করলাম। মাগার পরে দেখি যাওনের লোক নাই। পইড়া গেলাম মহাসমস্যায়। এখন মান্নার ফিল্মের টিকিট ব্লাকে বেচনের মতো যদি ঘুরতে হয় তাইলে খবরই আছে, কমছে কম বোলগে হুচা-হাচির ১০-১২ টা পোস্ট বৈদেশ থিকা নাযেল হইতো।

মানে মানে ফুন দেওন শুরু করলাম। দিয়াই দেখি আরেক ঝামেলা, লোক জোগাড় হইলো ১৫ জন। কাইটা কুইটা ১২ জনের মধ্যে আনিলাম! আমার একটা বদঅভ্যাস আছে, যখন লুঙ্গি নিয়া টানাটানি তখন আল্লাহর উপর ছাইড়া দিয়া-ড্রাই রান। আল্লাহ আমারে কোনো দিন ফিরায় নাই, আমিও ফিরি নাই! পিকনিকের আগের দিন রাইতে আমার বাড়ীর আশেপাশে এবং দূরে অদুরে একটা কনফারেন্সের আয়োজন করতে গেলাম, খাইলামও ধরা। তাই বাড়ীতে বইসাই আমার সিডিউলিং: ১) ভোর ছয় ঘটিকায় উঠিয়া টয়লেট এবং ঐখানে থিকা বাহির হমু ৬:১৫ মিনিটে।

হঠাৎ মিটিং থিকা এক ফটিক ফাল দিয়া উইঠা কইলো," ১৫ মিনিট টয়লেট, ইস্যুব গুলের ভূষি খাও না কেন?" -থাম, সকালের এই সময় নিয়া কেউ প্রশ্ন তুলিবে না! ২) ৬:১৬ মিনিটে মুখ হাত ধুইয়া ৬:২০ মিনিটের মধ্যে পোষাক নির্বাচন। ৬:৩৮ এর মধ্যে বস্ত্র পরিধান করিয়া ৬:৪০ এর মধ্যে রাস্তায় নামা এবং গাড়ি ঠিক করা। ৭:২০ এর মধ্যে জায়গায় পৌছাইয়া ৭:৩০ এর মধ্যে গাড়ীতে উঠিয়া ভ্রমনের গীয়ারে পারা! রাইতের বেলা বেশী গাবাইতে গিয়া ঘুমাইলাম ২:৩০টায়। ঘুম থিকা উঠিলাম ঘড়ির এ্যালার্ম শুনিবা মাত্রই। উইঠা দেখি ৬:১০ মিনিট।

আমার মাথায় বিলাকরন প্রক্রিয়া শুরু। তাড়াতাড়ি টয়লেটে গেলাম এবং বাহির হইয়া দেখি ৬:২৫ মিনিট। বাসার সবাইকে উঠাইলাম, বলিলাম সাঙ্গ পাঙ্গদের ফুন লাগাও। ফুন মাইরা দেখি মুবাইল বন্ধ বেশীর ভাগের। আমি আশার আলো দেখতে পাইলাম।

৮ টিকিটে ১২ জন একটু বেশীই মনে হইছিলো। মামাতোর বাসায় গিয়া মামতোর পিছে একটা গদাম মারিয়া কহিলাম,"মোঘলে আযমের মতো না হাটিয়া চার্লি চ্যাপলিনের মতো হাটো, প্রক্রিয়ায় গতি আনো। " সে আরো ঝিমানো শুরু করলো। এদিকে আরেক লাটসাব ঠ্যাং এর জায়গায় মাথা আর মাথার জায়গায় ঠ্যাং দিয়া বিছানায় যেমনে পাড়ো সেমনে ঘুমানোর পজিশনে বলিয়া উঠিলো," ভাই আমার, জায়গা কি হৈবে উক্ত পিকনিকে? মনে বড় সোয়াদ জাগলো পিকিনিক খাওনের!" -তোর হাতে আছে ৮ মিনিট। রেডী হইলে হো না হইলে দোতারা বাজা ঘুমের মধ্যে! সে দেখি তড়াক করিয়া উঠিয়া গেলো।

পরনে খালি জিন্স। হাতে একখানা টি শার্ট লইয়া উদ্যাম গায়ে ছুটিলো বাসার পানে। উল্লেখ্য উহারা আরেকটু দূরে থাকে, এলাকায় মাঝে মাঝেই উদাম গায়ে আড্ডা দেওনের বিশেষ খ্যাতি আছে লাটসাবের! এদিকে দেখি যেমুন ইকোনোমিক্স ভোর ৬:১০ মিনিট হইতেই ৫ মিনিট ৫ মিনিট বলিয়া টাইম এক্সটেনশন করিতেছে। কিন্তু সকাল ৭ ঘটিকাতেও তাহার এক্সটেনশনের কোনো ঘাটতি নাই। হঠাৎ করিয়া তাহাকে আমার চাল মন্ত্রনালয়ের উপদেস্টা মনে হইলো, দেশে নাই চাইল, অথচ তার মুখে ভরা চাইল, নো ঘাটতি, কোথায় ঘাটতি! সর্ব সমেত আমরা রওনা হইলাম ৭:৫ মিনিটে।

গাড়ীতে সর্বসাকূল্যে ৫ জন। গাড়ীতে উঠিতে গিয়া হইলো হেরা ফিরি বিপত্তি। একসাইডে জাতলে আরেক সাইডে দুয়ার খুইলা পইড়া যায়, আরেক সাইড জাতলে আরেক সাইডে দুয়ার খুইলা পইড়া যায়। পরে ঐখানেই আমি ইনস্ট্যান্ট টিয়া তদন্ত (যাহাকে ময়না তদন্তের আধুনিক ভার্সন বলা যায়) শুরু করিয়া ইউনুসের মতো আবিস্কার করিলাম ক্যাবের দরজায় সমস্যা। নিজেকে মনে হইলো সাত সকালে আরেক বাঙ্গালীর নোবেল জয়ের খাটাসীয় অনুভূতি।

তবে যাহাই হোউক বাঙ্গালী হইয়া জন্মাইয়াছি তাই ভাঙ্গা চূড়া জিনিস লইয়াই সমানে রওনা হইলাম এবং উক্ত স্হানে পৌছাইয়া দেখিলাম ৭:৩০ ঘটিকা! কিন্তু একি সাতসকালে দেখি গাড়ীর দুর্ভিক্ষ। পিকনিকের গাড়ী মেলা পরের ব্যাপার, অন্য কোনো গাড়ীও দেখি না। লোকজন পরিচিত কেউ নাই, শুধু কিয়দংশ পেটমুটা পুলাপান রুবেলের মাইর শিখতাছে, কিছু চাকমা কি কি কইতাছে আর মনে হয় আমার দিকে চাইয়াই হাসিতেছে। মেজাজ বিলাকরনের দ্বিতীয় ধাপ শুরু কারন ইনস্ট্যান্ট চড়ুই তদন্ত করিয়া যাহা দেখিলাম আমরাই সর্ব প্রথম। দিলাম সবটিরে ফুন।

ফুনের উপর রাখা আরকি। এদিকে পেটের দিকে কান দিয়া ডাকলা, এক ইন্দুর মেটালিকার গান দাপাইয়া গাইতাছে, আরেক দিকে কিয়দ চিকা সমানে ব্যায়াম কইরা বেড়াইতেছে ক্ষুধার চোটে। মন অন্যদিকে লইবার তোড়ে কিয়দ ফটুক সেশন, রাজধানী স্কুলের কার হাট দেখন, তারপর এটা ওটা খাওন, বাতচিত করন, আবারও আয়োজক কমিটিরে ফুনের উপর রাখন। বুঝিতে পারিলাম চরম অব্যাবস্হাপনার চরম লক্ষন। অতএব কুশীলব সকলেই একে একে পদার্পন করিলেন কেহ তাহার নাম বলেন, কেহ বেশ ভাবে চলেন, মাগার গাড়ীর কোনো খবর নাই।

তাই গাড়ীর কি অবস্হা সেইটা উদাসী পর্যবেক্ষন: ১) গাড়ী রাজউক ভবন হইতে নাচিতে নাচিতে আসিতেছে, তাই এই শৈল্পিয় শিল্প রক্ষার্থে দেরী! ২) অথবা গাড়ীকে কাধে তুলিয়া আমাদের মহান ড্রাইভার ভাইজান হেলিতে দুলিতে আসিতেছেন, তাই সামান্য ক্লেশ কারী অপেক্ষা। ৩) অথবা গাড়ীর ড্রাইভারের সকালে টয়লেটে গিয়া আবিস্কার করিলেন তার পায়জামা আর পেট দুইটাই গিট্টু, তাই এই অযাচিত লেট ৪) অথবা.... থাক আর না যাই ,কেমুন জানি তখন ভালগার চিন্তা মাথার মাঝে উকি দিবার চায়! তবে গাড়ীতে উঠিয়া আবিস্কার করিলাম কেমুন জানি জেন্ডার ডিসক্রিমিনেশন, তয় ব্যাপার না। আর আমার গ্রুপের সবাই পাংখা তয় আমার দুই মামতো আমারে কানে কানে কইলো পেটের ভীতর ইন্দুর আর চুয়া তাগো ব্যায়াম আর কনসার্ট শেষ কইরা পলাশীর হঠকারী যুদ্ধ শুরু করিয়াছে পেটের ময়দানে। আমি তীব্র গলায় সারিয়াকে বলিলাম,"আর কত কাল খাইবো খাবার?" সে মুখে আমাগো দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মতো হাসি ঝুলাইয়া কহিলো,"আসিতেছে! আসিতেছে!" আমি মনে মনে প্রবাদ গুনিলাম পরোটার গম না পাকলে তাইলে খবরই আছে, কখন তারে কাইটা কারখানায় নিবো, তারপর গ্রিন্ডিং করবো, তারপর দলাই মলাই করিয়া পেটে ঢুকাইবো। যাই হোউক,চিল্লাচিল্লি মাগার এইখানে একটা অঘটন, জয়িতাকে ফেলিয়া চলিয়া গেলাম।

মেজাজ আরো বিলাকরনের এক ধাপ, তবুও করিলাম অনেকের সাথে তেব্র প্রতিবাদ। অবশেষে টিকাটুলীর মোড়ে আসন গাড়িয়া অপেক্ষা করিতে লাগিলাম কারন জয়িতা ছিলো কাল্লুদার গাড়ীতে। যাই হোউক, আমরা এত অব্যবস্হাপনার মধ্যে পিকনিকে গেলাম। আমার কাছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য টানে না, কারন বাংলাদেশের আনাচে কানাচে অলিতে গলিতে নাম না জানা মেঠো পথে ঘুরিয়াছি। তাই কোনো সৌন্দর্যই মন টানে না, আমার এই পিকনিকে আসার মেইন উদ্দেশ্যই আছিলো ১০০ টাকায় বাসভ্রমনের সহিত ভালোমন্দ খানা পিনা, কারন খাইতে মেলাই মজা।

আর আরেকটা উদ্দেশ্য ছিলো রেডীও ক্রন্দনের(ফূর্তীর বিপরীত শব্দ) মাইনাচ শামীমের কাছ থিকা আমার রয়্যালিটির কলম। কিন্তু বেটা শরীর ১৭ বার হাতাইয়াও কলমের ক ও পাই নাই। এদিকে বাসে সকালের নাস্তা করিয়া দেখিতে পাইলাম চরম দুর্নীতি। তার কিছু ময়না তদন্তের রিপোর্ট: ১) আমাদের পরানের উদাসীরে সবার পরে প্যাকেট দেওন! ২) প্রত্যু যিনি ব্রেকফাস্টের টেন্ডার পাইয়াছেন, তিনি প্যাকেট পেটে গুজিবার সাথে সাথে পশ্চাদ্দেশেও গুজিয়াছেন যার প্রমান স্বরুপ একখানা ফটুক! অবশেষে আমরা যখন পিকনিক সাইটে আসিয়া পৌছাইলাম, তখন আমার মুখে একটাই ডায়লগ,"সিরাজউদ্দৌলার আমবাগানের আম কৈ?" অসাধারন জায়গা দেখিয়া মনে হইলো তদন্ত রিপোর্ট গুলানরে আর সূর্য্যের আলো দেখামু না! শুরু হইলো দৌড় ঝাপ, ফটুক তুলাতুলি। সব কিছু ভালোই চলতাছিলো কিন্তু একটা ক্যাচাল ক্যামেরার ব্যাটারী শেষ।

ততক্ষনে সবাই গোল হইয়া বসিয়া নিজের নিজের পরিচয় জানাইলাম, তার মধ্যে আমাদের আরেক নয়নের মনি খাটাসীয় খনি সামী মিয়ান্দাদ! সবাই সবাইকে নিয়া নাচিটে লাগিলাম, কিছু কুতকুত টাইপের খেলাও খেলিলাম। উক্ত প্যাকেট নেংটা করন খেলায় জিতিলো আমাদের পিকনিকের সেরা সুন্দরী যার এক হাসিতেই উদাস দুনিয়াদারী মিস স্বদেশী জাপানি প্রাপ্তি!তারপর শুরু হইলো প্রগৈতিহাসিক জ্ঞানী কথোপকথন। জ্ঞানের কথা আমার মোটেও ভালো লাগে না, আর পিকনিকের সময় এইসব জ্ঞান তো আরো ভালো লাগে না। সবচেয়ে মেজাজ গরম হইলো রাহেলাকে লইয়া ঘন্টার পর ঘন্টা আজাইড়া আউটপুটহীন বাতচিত। মাথায় একটা বুদ্ধি খেলিলো।

দিলাম একটা চরম স্পীচ। দেখিলাম সবাই যেমুন বেলুনের মতো ফুলিয়াছিলো ভাবিয়াছিলো এই বুঝি রাহেলার কেস লইয়া তামার তার বানাইয়া ফেলিলাম, সব ফুটা বেলুনের মতো চুপসাইয়া গেলো। নিজেকে মনে হইতে লাগিলো জীবনের কিছু কঠিন পাজলের সহজ সমাধানকারী। আমি শুধু একটা ডায়লগই বলি,"এই ব্লগের কারোই এই ব্যাপারে ডেডিকেশন নাই দেওনের ক্ষমতাও নাই আর আমাদের এই ব্যাপারে তেমন কিছুই করার নাই, কারন This is a lost game!তবে এখানে আমাদের যেটা করনীয় আছে সেটাও আমরা করতে পারবো না। কারন ঐযে- ডেডিকেশন নাই।

" এইখানে অবশ্য আমাদের কি করনীয় আছে সেইটা বলার পর এ্যাগ্রীও করেন সবাই, কিন্তু পরক্ষনেই মনে হলো আমাদের সবকিছু কত ঠুনকো কত লোক দেখনো। So stop this showcase crap! সবাই যখন ছন্নছাড়া তখন সুনীল ভাইজানকে দেখা গেলো কবিতা আবৃত্তি করতে। পিকনিকের এই পার্ট নিয়া কিছু কইলাম না, কারন আমি ভাই খুব নিচুলেভেলের মানুষ। এমুন সময় বেলা বাজে ২:৩০টা। মাগার খাওনের কোনো খবর নাই।

সকাল বেলার ইন্দুর বিলাই গুলান আবার পেটে জাগিয়া উঠিতেছে। আমার মামতোরা কিছুক্ষন পর আমারে খুচায়। পরে যেইটা জানিতে পারিলাম খাওন নাকি যাত্রাবাড়ীতে জ্যামে পড়িয়া যাত্রা দেখিতেছে। আল্লাহর কাছে হাত পাতিয়া দোয়া করিলাম," হে আল্লাহ গরীবেরও পেট আছে!মুখ তুইলা চাও!" মনের মধ্যে তসবী গুনিতে শুনিতে পারিলাম খাওন নাকি কেবল ল্যান্ড করিয়াছে। আমাদের সবার মুখে হাসি ফুটিলো।

উক্ত সময় আমি আমার ক্ষুধা তাড়াইবার জন্য প্রথম গেলাম টমাটুম ক্ষেতে, খায়েস টমাটুম দিয়া পেট ভরা। মাগার দেখি ততক্ষণে ক্ষেতের টমাটুম উঠাইনা শেষ। তারপর গেলাম পুস্কুরিনীতে, খায়েষ মাছ ধরিয়া পকেটে ভরা। মাগার আলো প্রতিসরনের জন্য এ্যাঙ্গেল বুঝিতে না পারিয়া একখান মাছও হাতে আসলো না। কিন্তু পুস্কুরিনিতে গোসল করিতে স্হানীয় ললনারা আসিয়া আমার দিকে তাকাইয়া রহিলো।

আমি ভাবিলাম কেস খারাপ। কাইটা পড়লাম। এমুন সময় মামতো দিলো ফুন। "আপনে কৈ ডুব দিলেন?খাওন গুলান তো কেমুন অসহায়ের মতো পইড়া রইছে!" -তাই নি, আইতাছি! গিয়া হুলস্হুল অবস্হা এবং খাওন মুখে দিয়া মনে হইলো পিকনিক সার্থক!বোরহানী নিয়া ক্যাচাল করার ইচ্ছা ছিলো মাগার বোরহানী খাওনের চান্স পাই নাই। অবশ্য আমার যেকোনো অনুষ্ঠানে যাইয়াই প্রথম কাজ থাকে বোরহানী নিয়া গন্ডগোল করন, যদিও আমি বোরহানী খাই না! খাওন দাওন শেষ, আমার মাথাটাও ঝিমাইতেছিলো।

তখন অ্যামেটার, ভূত, সাগইরারে নিয়া কুল ড্রিংকস খাইলাম। তারপর মাঠে বইসা লটারী করতে বসলাম। এই লটারীটা আমার চোখে দেখা সেরা নিরপেক্ষ লটারী। কোনো গন্ডগোল করনের চান্স পায় নাই প্রত্যু মিয়া। আমাগো সেরা সুন্দরী মিস স্বদেশী জাপানিজ প্রাপ্তি মিয়া পুরস্কার জিতলো।

তবে এই লটারীতে যেইটা দেখলাম কাকতালীয় মুরগীতালিয় ময়নাতালীয় সবই হইয়াছে কেননা যখনই যাহার নাম বলা হইয়াছিলো যেমুন এখন সাসমী মিয়া পাইবো-ঠিক তখনই সে পাইছে, ফাস্ট পুরস্কার সুনীল দা পাইবো- পাইছে। অবশেষে গ্রুপ ফটুক!তারপর শুরু করিলাম যাত্রা! যদিও আমার বিজি শিডিউল এই মাসেই শেষ, কারন আমার কিছু ভাইটাল ডিসিশন নেবার ছিলো। আমার টার্গেট ছিলো এই পিকনিক টা হবে এই ডিসিশন নেবার দারুন জায়গা। মেলা আনন্দ, কিছু বলা কথা না বলা কথা, সবার সাথে আনন্দ হাসি। মনে হইলো এখন নিজের জন্য কিছু করা যার প্রথম ধাপ ছিলো চট্টগ্রামে যাওয়া! জীবনে আমি অনেক শূন্য থিকা শুরু করছি।

যত এ্যাচিভমেন্ট সব গায়ের জোরে, না হইলে কপালের জোড়ে। জানি না সামনে কি আছে! কিন্তু আমার ট্রানজিশন টাইম শুরু হইয়া গেছে!

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।