আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

২২ তম জন্মদিনে

মোবাইল বাজতেছে, ইচ্ছে করে প্রথম call টা receive করলাম না। আবার বাজতে থাকল, কিছুটা সময় পর কল receive করলাম। ঘুম জড়িত কন্ঠে বললাম “ কি হইছে ?? ঘুমাতে দিবি না নাকি ??” ‘শালা ,তোর না এগারটায় campus এ আসার কথা ? এখন ও ঘুমাস??” আসতেছি , বলে call কেটে দিলাম। ঘুম থেকে অনেক আগেই উঠছি। এই call টার জন্য অপেক্ষা করতেছিলাম।

কবির মামার টংয়ে দেখা হল। একসাথে বসে নাস্তা করলাম। কিছুটা গল্প হল। ভাবছিলাম আজকে একসাথে বাইরে কোথাও খেতে যাব। কিন্তু এটা হল না।

আজকে ও বাড়ি চলে যাবে। বেশ জরুরি দরকার । আমি তাই আর কিছু বললাম না। আমার জন্ম দিনে ও থাকতে পারবে না, ভেবে মনটা কিছুটা খারাপ ছিল। ওর ও দেখলাম কিছুটা খারাপ।

কিন্তু ওর এই অল্প সময়টাই মনটা অনেক ভাল করে দিল। এতক্ষন আমি আমার খুব প্রিয় একটা বন্ধুর কথা বলতেছিলাম। Campus এ কিছুক্ষন অন্য বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিলাম। এরপর শাওনকে call দিলাম । আমার স্কুল জীবনের বন্ধু।

ওকে অনেক আগে বলছিলাম পানসীতে খাওয়াব। কিন্তু সময় করতে পারতেছিলাম না। ভাবলাম আজকে যাই। ওকে পেলাম না। শালা study tour শেষ করে হবিগঞ্জে বিশ্রাম নিতেছে।

আমার আরেকটা বন্ধুর কথা মনে পড়লো। ওর জন্মদিনে অনেক কষ্ট করে treat আদায় করছিলাম। ভাবলাম ওকে আজ সেটা ফেরত দেয়া দরকার। ওকে call দিলাম। গতাকাল ওর final exam ছিল।

ঘুমাচ্ছিল, বলল খুব ক্লান্ত এখন আসতে পারবে না। আমি বললাম ,ঠিক আছে। মিনিট খানেক পরে আবার ও কল দিল। বলল, sorry রে। একদমই মাথায় ছিল না।

আমি ,আসতেছি। মিনিট পাঁচেক পর campus এ আসল। জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাল। একসাথে বসে কিছুটা গল্প করলাম। বেশ ক্ষিধা লাগছে।

যাহোক কাউকে পাওয়া গেল। পানসীতে গেলাম । একসাথে খাওয়া দাওয়া করলাম। যার কথা বললাম,এটা আমার আরেকটা খুব কাছের বন্ধু। বেশ কয়েকটা স্কুল friend call দিল।

শুভেচ্ছা জানাল। মনটা আনন্দে ভরে গেল। জ্যোতি, রাজু ... আজকে তোদের খুব মিস করলাম। সন্ধ্যার পর টিউশিনিতে গেলাম। আমার পিচ্ছি দুইটা student আরহাম আর আইমান।

একটা ক্লাস 3 তে পড়ে আরেকটা ক্লাস 5 এ। আরহাম বেশ কয়েকটা comics এর বই নিয়ে এল আর আইমান ২টা গল্পের বই আর একটা চিপস্। আমাকে জন্মদিনের উপহার দিতে চায়। চিপসটা একসাথে ওদের নিয়ে খেলাম । বইগুলি তো আর নিয়ে আসা যায় না ,কথা দিলাম বইগুলি ওদের পড়ে শোনাব।

এরপর কল দিলাম varsity life এর কাছের কিছু বন্ধুকে। সৌরভ, পলাশ, সোহেল … এদের সাথে গেলাম আবার পানসীতে। রাতের খাবার খেলাম একসাথে। মেস এ আসার পর সোহেল আসল খানিক্ষন পর। বলল সৌরভের রুমে যেতে হবে।

গিয়ে দেখি বিশাল বড় একটা কেক নিয়ে তারা আমার জন্য অপেক্ষা করতেছে। কেক কাটা হল। গান গাওয়া হল, খানিকটা নাচানাচি হল আর হল জম্পেশ একটা আড্ডা। ধন্যবাদ বন্ধু ... শিশির, নোমান,চন্দন,সাদি,ওলি। অসম্ভব সুন্দর একটা দিন কাটল।

বাস্তবতা এত সুন্দর হয়ত হয় না। হয় না এত নিখুতঁ আনন্দের। কিন্তু এটা ছিল আমার জন্ম দিন। তাই বাস্তবতার সাথে খানিকটা কল্পনা মেশালাম। আর রঙ্গিন করলাম এই দিনটাকে আমার মত করে।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।