আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

নীল রং ছিল ভীষণ প্রিয়

অনেকের মাঝেও একা থাকা যায়, নি:সঙ্গতায় কারো অনুভব ছুঁয়ে যায় ...

মেয়েটাকে নিয়ে লিখব ভাবি প্রায়ই; শুধু লেখা হয়না । ও হয়ত স্বাছন্দ বোধ করবেনা; অপ্রকাশিতই রাখতে চাইবে আপন স্বত্তাকে। আচ্ছা, ছদ্মনামে তো লেখা যায় । কি নামে মানাবে ওকে ? হ্যাঁ, নীলাঞ্জনা নাম দেয়া যায় ওকে কিছক্ষনের জন্য। না, ওর চোখ নীল নয় ।

স্বাভাবিক কালচে-বাদামী। তবে, ক্ষুদ্র চোখে বিশাল নীল সাগরকে দেখার তীব্র আকাংখা আছে। ওর চোখে নীল বেদনাগুলো আর সব দৃষ্টির আড়ালে টলটল করে। তাই ও নীলাঞ্জনা ...। যেখানেই যায়না কেন, সবার মাঝে অন্যতম না হলেও উল্লেখযোগ্য হয়ে উঠতে পারে খুব সহজেই ।

আর ওখানেই নীলাঞ্জনা অনন্য । ওর কাছে আশে-পাশের সবাই আসে সমস্যা নিয়ে। না, সব সমস্যার সমাধান ও দিতে পারেনা ; তবে ও শুনতে পারে, খুব মনোযোগ দিয়ে। সবাই ভাবে ও খুব সমস্যাহীন, প্রাণচাঞ্চল্যে ভরা । নীলাঞ্জনা সে ধারণা পাল্টায় না।

অনেকের মাঝে একাকীত্বের অনুভবটুকু সংগোপনে সামলে রাখে। ইদানীং নীলাঞ্জনা অনেক ব্যস্ত । কি নিয়ে ? নিজেকে অন্তরালে রাখার তীব্র চেষ্টায় ও ছুটছে, জাগতিক ব্যস্ততায় ডুবিয়ে রাখছে নিজেকে । মগ ভর্তি কফি হাতে, খোলা চুলে, আরাম কেদারায় গা এলিয়ে দিয়ে,চোখ বন্ধ করে আর সবার মত ভবিষ্যত বুনেনা নীলাঞ্জনা । শুধু হঠাত ঘুম ভেঙ্গে গেলে সিক্ত চোখ দুটো সন্তর্পনে মুছে ফেলে।

বাস্তববাদী হওয়ার এক হাস্যকর চেষ্টায় মগ্ন নীলাঞ্জনা আজ। তাতে ওর ভেতরের ক্ষতগুলো আরো দগদগে হয় । যন্ত্রনায় আরো নীলচে হয়ে ওঠে ধমনী। হাঁটতে হাঁটতে কখনও পরিশ্রান্ত হয়ে বলে ওঠে, "কান্তি আমার ক্ষমা কর প্রভু" । প্রার্থনায় এটুকুই চাওয়া আজ ওর ।

নীলাঞ্জনা জানে তার মাঝে দ্বৈততা তীব্রতর হচ্ছে। তরল থেকে কঠিনে রুপান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়ায় অনুভুতিগুলো বায়বীয়তায় অদৃশ্যমান একে একে। তাতেও যদি একটুখানি বাস্তববাদি হওয়া যায় ! না, নীলাঞ্জনা স্বপ্নগুলোকে দাফন করেনি এখনও। কিন্তু ওগুলোকে রেখে দিয়েছে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামীর মত এক কালকুঠুরিতে। কখনো কখনো অন্ধকার সেই গহ্বর থেকে প্রচন্ড রোদের মুখোমুখি দাঁড় করায় স্বপ্নগুলোকে।

প্রখরতাপে চোখ মেলে তাকাতে না পারা স্বপ্নগুলোকে নিয়ে এক অদ্ভুত খেলা যেন নীলাঞ্জনার । তখন খানিকটা উদভ্রান্ত দেখায় ওকে ! মাঝে মাঝে স্বপ্নের ঝাঁপি নিয়ে খেলতে গিয়ে বেভুলে বেসামাল হয়ে ওঠে নীলাঞ্জনা । আর তখন খরস্রোতা নদী ধাবিত হয় যেন। ভয়ার্ত চোখে নীলাঞ্জনা ওর স্বপ্নগুলোকে বয়ে যেতে দেখে। কত উচ্ছ্বাস সেই স্রোতে, ঢেউ আছড়ে পড়ছে তীরে।

এ বহতা নদী কোথাও মোড় নেয়ার আগেই নীলাঞ্জনা ঝাঁপি বন্ধ করে ফেলে তা আবার ছুঁড়ে ফেলে সেই গহ্বরে । দু'মুখো মানুষ দেখতে দেখতে বিভ্রান্ত নীলাঞ্জনা আজ আর কাউকে খুব প্রিয়তম স্থানে বসাতে সাহস করেনা । মানুষকে বিশ্লেষনে এখনও নিজের অক্ষমতাকে স্বীকার করে নেয় ও। স্বল্প জীবনের অভিজ্ঞতায় ও একটা সত্য আবিস্কার করেছে । তাতে নাকি ওর কষ্ট লাঘব হয় অনেকাংশে ।

আর সেই বোধদয়টুকু হলো নিজের মধ্যে কোন আকাংখার জন্ম না দেয়া, কোন কিছু আশা না করা । তা সে বন্ধুদের থেকেই হোক কিনবা রক্তের সম্পর্কের কাছ থেকেই হোক না কেন । ভালবাসা ততটা পীড়াদায়ক নয় যদিনা তাতে আশা নামক অনুভূতি মেশানো থাকে। নীলাঞ্জনা বোধহয় এখন আক্ষরিক অর্থেই বাস্তববাদি হয়ে উঠছে! তবুও ছিটেফোটা আকাংখা কোথায় জানি তাড়িত করে নীলাঞ্জনাকে। কখনও প্রার্থনারত ভারী হাতদুটো আশাই করে বসে অদেখা শক্তির কাছে; "যদি কখনও কাংখিত বন্ধুর সাথে একটা দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়া না হয়, কখনো নীল সমুদ্রের তীরে দাঁড়িয়ে প্রচন্ড গর্জনে নিজেদের কথাগুলো হারানোর সুযোগ না আসে, যদি দেখা না হয় নীল জোসনা হাত ধরে, যে হাতের স্পর্শ আসলে শুধু শরীরের দুটো অংশের নয় বরঞ্চ দুটো উষ্ণ হৃদয়ের; যদি তা না হয় তবে অন্তত্য একবার সুযোগ দিও, আমি সেই পথ পাড়ি দিয়ে পরিশ্রান্ত হতে চাই, নীল জোছনা রাতে গর্জনরত সাগরের তীরে দাঁড়িয়ে ক'ফোটা অশ্রুর ঢেউয়ের সাথে মিশিয়ে একটু হালকা হতে চাই।

"

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।