আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

মাক্সকাহন-নিতান্তই অপ্রয়োজনীয় লেখালেখি

inside you're ugly ugly like me মাঝে মাঝে মনখারাপের কারণ হতে পারে মেজাজ খারাপ। এখন নিজের উপরেই আমার মেজাজ খারাপ। একটা বন্ধ টং দোকানের সামনেই বেন্চিতে বসে আছি। প্রতিদিনই এখানে বসি। কিন্তু আজকে দোকানের ঝাপ নামানো।

দোকানী তাবলীগের দাওয়াতে যাওয়ার কথা। এই ব্যাটা কোনদিনও নামাজে যায় না। কিন্তু শবে বরাত কদর এই সময়ে বেশ উত্‍সাহ নিয়ে মসজিদে যায়। আজকে কি কারণে গেসে ঠিক বুঝা গেল না। নিজের উপর মেজাজ খারাপ হলে একটা অন্য ধরনের অনুভূতি হয়।

এরকম আর কারো হয় কিনা জানি না। গলার নিচ থেকে সবকিছু মুখ দিয়ে বেরিয়ে যেতে চায়। গলার ব্যাস নিতান্তই কম বলে বেরুতে পারছে না। খুবই ভয়াবহ অবস্থা। যখন কোন একটা পেইনের মধ্য দিয়ে যেতে হবে তখনই আমার এরকম মনে হয়।

সবসময়ই যে এর কারণ থাকবে তা না, অথবা কারণ থাকলেও তা খুবই তুচ্ছ কারণ। খুব সম্ভবত তখন নাইনটি ফোর। তখন কুরবানীর ঈদগুলা জুন মাস বা মে মাসের দিকে ছিল। ঠিক মনে নাই। আমি তখনো নিজের চোখে শহর দেখি নি।

গ্রামে থাকতাম। গ্রামের একটা স্কুলে যেতাম। ওয়ানের ক্লাসে ঢুকতাম কিন্তু হাতে থাকত টু এর বাংলা বই। এই ভুল কেন যে প্রতিদিন করতাম এ এক বিরাট রহস্য। অবশ্য স্যার মেডামরাও কেউ কিছু বলত না।

হয়তো ওয়ানের ক্লাসে টুয়ের বাংলা বই নিয়ে ঢুকলে তাকে কিছু বলার নিয়ম নাই। একদিন এক ম্যাডাম একটা কবিতা লিখতে দিয়েছিল। ওয়ানের কবিতা। আমি কখনোই ওয়ানের বই পড়ি নাই। কাজী নজরুল ইসলামের আমি হব কবিতাটা লিখে দেখালাম।

ম্যাডাম খাতাটা নিয়ে একবার আমার দিকে তাকাল। এরপর একটা টিক মার্ক দিয়ে খাতাটা ফেরত দিল। ওয়ানের বই না পড়ার কারণ হল আমার ছোট বোন। সে যখন বই পড়তে শুরু করল তখন তার হাতে এল ওয়ানের বই আর আমি যেহেতু বড় তাই আমি একই বই পড়ব না। সেজন্য আমার কাছে ছিল টুয়ের বই।

বড় অদ্ভূত হিসাবী ছিলাম ছোটবেলায়। তখনকার সময়ে গ্রামে এত বেশী কিন্টারগার্টেন ছিল না। সরকারী প্রাইমারী স্কুল ছিল প্রায় দুই মাইল দূরে। পুরা রাস্তা হেটে হেটে যেতাম। অবশ্য কখনোই একা যেতে হত না।

গ্রামের স্কুলে একা একা যাওয়ার নিয়ম নাই। যাওয়ার নিয়ম দলবেঁধে। একদিন কি কারণে যেন একাই যেতে হল। কুরবানীর ঈদের অনেক বড় একটা বন্ধের পরে সেদিন ছিল প্রথম ক্লাস। গিয়ে দেখি সব স্টুডেন্টরা বারান্দায় বা মাঠে কিচির মিচির করছে।

পিওন তখনো আসে নি বলে ক্লাসরুম খোলা হয় নাই। তখন আমার হঠাত করেই মনে হল স্কুল আর কখনো বন্ধ হবে না। ঠিক তখনি এক ধরনের গা গুলানি অনুভূতি এসেছিল। আজকেরটার মতই। আজকে কেন এমন হল বুঝতে পারতেসি না।

হয়তো কিছুক্ষনের মধ্যেই বুঝতে পারব। আমি চাচ্ছি যাতে বুঝতে না পারি। উহু ভুল বললাম। আমি ঠিকই জানি কি কারণে এমন হচ্ছে। কিন্তু চিন্তাটা ঠিকমত গুছানো যাচ্ছে না।

এন বিঃ মন খারাপ তাদেরই হয় যারা ব্যক্তিগত জীবনে সাফল্যের মুখ খুব কমই দেখেছে। আমি ঐ দলেরই একজন। যখনই আমার মন খারাপ থাকে তখনই কোন কিছু নিয়ে ব্যস্ত থাকার চেষ্টা করি। এই লেখাটা মন খারাপ প্রজেক্টের একটা অংশ। এখন থেকে প্রায়ই আমার মন খারাপ থাকবে।

কারণ একবার মন খারাপ হলে তার প্রভাব কয়েকদিন থাকে। এইটা আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষন। ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।