আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

গভীর কিছু শেখার আছে ....

গত ১০ বছরে দেশের মিডিয়া সেক্টরে যে বিপ্লব ঘটে গেছে, তা আগে কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। অনেক স্যাটেলাইট চ্যানেল ও রেডিও স্টেশনের ভিড়ে মানুষের বিনোদন ও এডুকেশনাল সোর্সেরও বেশ ব্যাপ্তি ঘটেছে। নিত্যনতুন এ মানসম্মত অনুষ্ঠানগুলোর জন্য মানুষ বিদেশি চ্যানেলগুলো থেকে দেশি চ্যানেল দেখতে বেশি আগ্রহী হচ্ছে। তবে এর কোনো পরিবর্তন হয়নি রাষ্ট্রায়ত্ত চ্যানেল বাংলাদেশ টেলিভিশনের। অন্যান্য দেশি স্যাটেলাইট চ্যানেলের আদলে সাম্প্রতিক সময়ে বিটিভি তাদের নিউজ প্রেজেন্টেশনে আমূল পরিবর্তন আনলেও মূল সমস্যা হলো বিটিভির নিউজ দেখলে কেমন যেন প্রাণহীন বলে মনে হয়। নিউজ রিডারদের মুখের এক্সপ্রেশনও যে নিউজ প্রেজেন্টেশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তা বোধহয় বিটিভির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়! এ কারণে নিউজ প্রেজেন্টেশনের কাঠামো বদল হলেও বদল হয়নি কেবল বিটিভির নিউজ প্রেজেন্টেশনের ঢঙ। সেজন্য এখনো দর্শকরা দেশি স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোর নিউজই বেশি দেখে থাকেন। আর বিটিভিতে শিক্ষামূলক প্রোগ্রামের এতোটাই ছড়াছড়ি যে, বিনোদনের বদলে একে শিক্ষামূলক চ্যানেল বললেও ভুল হবে না। অথচ ৬/৭ বছর আগেও বিটিভির নাটকের বেশ জনপ্রিয়তা ছিল। সর্বস্তরের দর্শকরা দেখতে পারতেন বলে নাটকগুলোও বেশ জনপ্রিয়তা পেতো। এখনো সর্বস্তরের দর্শকরা বিটিভি দেখতে পাচ্ছেন, কেবল পাচ্ছেন না আগের মতো জনপ্রিয় নাট্যকারদের নাটকগুলো। অধিকাংশ জনপ্রিয় নাট্যকারের নাটকই চলে যাচ্ছে অন্যান্য দেশি স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোতে। উপরন্তু এসব নাটক বিটিভিতে ফিরিয়ে আনার বা ভালো নাটককে প্রমোট করার ব্যাপারেও বিটিভির হর্তাকর্তা আসলেই উদাসীন। ছোট একটি উদাহরণ দেয়া যাক। বিটিভিতে কয়েক বছর আগে প্রচারিত একদা একজন নুরুল হুদা ধারাবাহিক নাটকটি এতোটাই জনপ্রিয় হয়েছিল যে, পরবর্তীতে এর সিকোয়েল অতঃপর নুরুল হুদা-ও বিটিভিতে প্রচারিত হয় এবং দর্শকপ্রিয়তা পায়। সম্প্রতি ধারাবাহিকটির সিকোয়েল আমাদের নুরুল হুদা প্রচার শুরু হয়েছে। তবে বিটিভিতে নয়, স্যাটেলাইট চ্যানেল এটিএন বাংলায়। কি কারণে এতো জনপ্রিয় একটি নাটককে বিটিভিতে প্রচার করা হলো না দর্শকরা তা ভাবলেও বিটিভির কর্তাবাবুরা আদৌ এ বিষয়টি জানেন কি না তাতে সন্দেহ আছে! আর নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত বিটিভির সাপ্তাহিক নাটকগুলোকে শিক্ষামূলক ও সামাজিক নাটক বললেই বেশি ভালো হবে। সারাদিন কর্মব্যস্ততা শেষে দর্শকরা যখন টিভির সামনে বসেন তখন তারা কিন্তু হালকা বিনোদনের আশায় চ্যানেল ঘোরান। যাদের স্যাটেলাইট চ্যানেল আছে তারা কদাচিৎ বিটিভি দেখেন কিনা তার সার্ভে করলেই বিষয়টি সম্পর্কে আরো পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। ফলে যাদের স্যাটেলাইট সংযোগ নেই তারা এসব শিক্ষামূলক (!) নাটক, প্রোগ্রাম দেখতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে করে বিটিভির প্রতি তারা হচ্ছেন আরো বেশি মনোক্ষুণœ। সাটেলাইট চ্যানেল ইটিভি বন্ধ হওয়ার পর সবাই ভেবেছিলেন, বিটিভি এবার হয়তো তাদের প্রোগ্রামের মান উন্নত করবে। অথচ ইটিভি থাকাকালে বিটিভির প্রোগ্রামের মান যতোটুকু উন্নত হয়েছে পরবর্তী সময়ে তাতে আর কোনো রঙ লাগেনি। গত ছয় বছরে টক শো লাল গোলাপ ও ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদির মতো মনে রাখার মতো প্রোগ্রাম বিটিভিতে প্রচারিত হয়েছে কি না তা বোধকরি বিটিভির প্রোগ্রাম ইনচার্জরাও বলতে পারবেন না। অথচ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোরও কোনো উদ্যোগ নেই বিটিভির প্রোগ্রামের মান উন্নত করার। এ ক্ষেত্রে যা করা যেতে পারে তা হলো, স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোকে টেরেস্ট্রিয়াল সংযোগ দেয়া যেতে পারে। এতে করে সরকারের যেমন রাজস্ব বাড়বে, তেমনি দর্শকরাও বিভিন্ন চ্যানেলের মাঝে কমপেয়ার করে ভালো ও মনমতো অনুষ্ঠান দেখতে পারবেন। অবাধ তথ্য প্রযুক্তির এ যুগে রাষ্ট্রায়ত্ত চ্যানেলকে নজরদারির মধ্যে রাখার কোনো কৃতিত্ব নেই। কারণ জনগণের কাছে তথ্য পৌছানোর অনেক ক্ষেত্রই এখন রয়েছে। তাই বিটিভির প্রোগ্রামের মান উন্নত করার জন্য বিটিভির স্বায়ত্তশাসন ও অন্যান্য দেশি স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোকে টেরেস্ট্রিয়াল দেয়ার মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের সৃষ্টি জরুরি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.