আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

আজ হোক ইতিহাস লিখার দিন

জীবনের গল্প বলে যাই গল্পের মতো করে...

ক্যাপ খোলা কলমটা পড়ে আছে ইতিহাসের পাতার উপর। সময়টা কার প্রতিায় বসে। কেউ একজন ব্যাট কিংবা বলে নিজের সৃষ্টিশীলতার স্বার রাখবেন হয়ে উঠবেন নতুন ইতিহাসের শ্রষ্ঠা। হ্যাঁ নতুন ইতিহাস আর বাংলাদেশের মধ্যেকার দূরত্ব এখন ছোট গল্পের সমান। যদি অপ্রত্যাশিত কোন অপয়া সময় শক্তিশালী না হয়ে উঠে তবে আজ ইতিহাস লিখার দিন।

বিশ্ব ক্রিকেটের আজ লিখা হবে নতুন অধ্যায়। হ্যাঁ বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা সাফল্যের দোরগোড়ায় আজ কুইন্স পার্ক ওভালে বারমুডাকে হারালেই ল্যে পেঁৗছে যাবে টাইগাররা। নতুন অধ্যায়ে পা রাখবে বাংলাদেশের ক্রিকেট। পেঁৗছে যাবে দ্বিতীয় পর্ব বা সুপার এইটে। এই ম্যাচের দিকে তাকিয়ে আছে 14 কোটি বাংলাদেশী প্রত্যাশিত চোখ।

সবার অনত্দরে একটাই প্রার্থনা 'জিতুক প্রিয় বাংলাদেশ'। নবাগত বারমুডা ক্রিকেট জগতে খুবই অপরিচিত দেশ। বিশ্বকাপে খেলতে আসার আগে মাত্র 19 ওয়ানডে আনত্দর্জাতিক ম্যাচের অভিজ্ঞতা ছিল তাদের সাথী। প্রথম আসরে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে ভারত ও শ্রীলংকার কাছে বড় ব্যবধানে হার সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে। 5টি জয়ও আছে 21 মাচের পরিসংখ্যানে (3টি কানাডা, 1টি করে নেদারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে)।

পানত্দরে আনত্দর্জাতিক ক্রিকেটে 21 বছরের পথচলা বাংলাদেশের 151 ম্যাচে 34 জয়, যার মধ্যে ভারত, শ্রীলংকা, অস্ট্রেলিয়া, পাকিসত্দানের বিরুদ্ধেও রয়েছে। এবারের বিশ্বকাপের শুরুটাও তো বাংলাদেশের চমক জাগানো। ভারতকে হারিয়ে দুর্দানত্দ সূচনা। সকল বিভাগেই বারমুডার সাথে বাংলাদেশের ব্যবধান যোজন যোজন। সেটা যেমন ক্রিকেটীয় বিচারে তেমিন অক্রিকেটীয় বিষয়গুলোও থাকছে।

বারমুডা বিশ্বকাপে এসেছে শুধুই অংশগ্রণের জন্য। তাই খেলা এবং খেলার বাইরের সময়গুলো তাদের জন্য উপভোগের। যেখানেই যাচ্ছে একসাথে, দল বেঁধে মজা করছে। কিন্তু বাংলাদেশ তাদের তৃতীয় বিশ্বকাপ আসরে অংশ নিতে যেয়ে অনেক বেশি সিরিয়াস। শুধুই অংশগ্রহণের সত্দর পাড়ি দিয়ে এখন দ্বিতীয় পর্ব, আরো সামনে এগিয়ে যাবার স্বপ্ন দেখে বাংলাদেশী ক্রিকেটাররা।

এত ব্যবধান এত দূরত্ব তারপরও আজ মাঠের লড়াইয়ে বরং বাংলাদেশই চাপে থাকবে। সবাইকে অবাক করে এ কথাগুলোই বলেছেন বাংলাদেশী অধিনায়ক হাবিবুল বাশার। প্রত্যাশার চাপ 15 কোটি বাংলাদেশীর আশার ভার বহন করতে হচ্ছে বাংলাদেশ দলকে। সে চাপের ভারে যাতে নুয়ে না পড়ে দল তার জন্য ক্রিকেটারদের কাছে মানসিকভাবে শক্তিশালী থাকার আবেদন অধিনায়কের। শুক্রবার উদ্বেগের একটি দিন কাটিয়ে গতকাল দারুণ খোশমেজাজে ছিল বাংলাদেশ দল।

আজ শেষ ম্যাচে জিতলে আরো প্রায় একমাস সৌন্দর্যের লীলাভুমি ওয়েস্ট ইন্ডিজে থাকার অনুমতি মিলবে বাংলাদেশ দলের। আরো 6 ম্যাচ, আরো আপসেটের সম্ভাবনা দেশবাসীকে আবারো আনন্দে ভাসানোর সুযোগ। কে হাতছাড়া করতে চায় এমন সুযোগ? কিন্তু বাংলাদেশ অধিনায়ক ভবিষ্যৎ নয়, বর্তমান নিয়েই বেশি ভাবতে চান। তাই তার ভাবনায় সুপার এইট নয়, সবার আগে আসছে আজকের ম্যাচ। শ্রীলংকার জয় আমাদের স্বসত্দি এনে দিয়েছে, তার মানে এই নয় আমাদের কাজ শেষ।

আমাদের দায়িত্ব কেবল শুরু। আজ প্রমাণ পাওয়া যাবে আমাদের সামর্থ্য। মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়েও আজ বড় হয়ে দেখা দিবে মানসিক সামর্থ্য। একটুও ছাড় নয়, প্রতিপকে দুর্বল ভাবা নয়, বাংলাদেশ দল চায় সহজ-স্বাভাবিক জয়। একটু ভুল, বেখেয়ালী মনোভাব বদলে দিতে পারে ইতিহাস গড়ার গতিপথ।

সে সুযোগ কেন দেবে বাংলাদেশ? তাই পরীা-নিরীা নয়, সেরা একাদশ নিয়েই মাঠে নামবে বাংলাদেশ। আজ ম্যাচ জিতে কাল এন্টিগার বিমানে চড়তে উদগ্রীব হয়ে আছে বাংলাদেশী ক্রিকেটাররা। যে এন্টিগায় সুপারএইটের প্রথম ম্যাচ বাংলাদেশের হতে পারে 31 মার্চ। এই এন্টিগায় বারমুডাকে হারিয়ে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি অভিযান শুরু করেছিল বাংলাদেশ। সুখময় সেই স্মৃতি এখনো তরতাজা সবার মনে।


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।