আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

। । 'বিহারী'দের গল্প :: বিষবৃক্ষের করুণ শাখা-- 1 । ।

এ ব্লগে আর কোন মৌলিক লেখার দরকার নেই, যেহেতু আমি আমার নিকৃষ্টতম লেখার স্বত্ব ও কাউকে দিতে রাজী নই

[ উৎসর্গ :: এই ব্লগে যাদের লেখা আমি পড়ি তীব্র ভালো লাগা নিয়ে, তাদের একজন রাসেল(........) 'কে ] পাকিস্তান রাষ্ট্রের জনক মিসটার জিন্নাহ'র অদ্ভূত 'দ্্বিজাতি' তত্ব বৃহৎ ভারতের বেশ কয়েকটি জাতিগোষ্ঠির স হজাত বিন্যাসকে এলোমেলো করে দিয়েছিল, যার দায় পরিশোধ হচ্ছে 60 বছর থেকে । অন্ত:ত তিনটা জাতিগোষ্ঠিকে বিবেচনায় আনা যায় । বাঙ্গালীরা দু টুকরো হয়ে এক টুকরো গেলেন পাকিস্তানের সাথে, এক টুকরো থাকলেন ভারতে । পাঞ্জাবীরা দু টুকরো হয়ে মুসলমানরা গেলেন পাকিস্তানে, শিখ পাঞ্জাবী রয়ে গেলেন ভারতে । বিশাল প্রদেশ বিহারের মুসলমানরা ও এলেন পাকিস্তানে ।

তিনভুক্তভোগী জাতিগোষ্ঠি'র ভেতর পূর্ব পাকিস্তানের বাঙ্গালীরা নি:সন্দেহে সবচেয়ে ভাগ্যবান । অনেক ত্যাগের বিনিময়ে তারা নিজেদের জন্য স্বাধীন দেশ অধিকার করতে পেরেছেন । মুসলমান পাঞ্জাবীরা ও খারাপ নেই । দানব রাষ্ট্র পাকিস্তানের প্রায় পুরোটা সময় তারাই শাসক ( সেনাবাহিনীতে আধিক্যের কল্যানে) । শিখ পাঞ্জাবীরা নিজেদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র গঠনের সশস্ত্র রক্তক্ষয়ী আন্দোলন করে ব্যর্থ, যদি ও ভারতের বুদ্ধিবৃত্তিক গোষ্ঠির বড় অংশ তারাই ।

সাবেক রাষ্ট্রপতি জৈল সিংহ ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ এদেরই একজন । তবে সবচেয়ে ভুক্তভোগী ও ক্ষতিগ্রস্থ জাতি গোষ্ঠি বিহারী'রা । বর্তমান বিহার ভারত রাষ্ট্রের অন্যতম খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ প্রদেশ হওয়া স্বত্বেও অবকাঠামো উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা য় সবথেকে পিছিয়ে । ভারতের অন্যদের কাছে 'বিহারী' মানেই অগোছালো, ক্ষ্যাৎ, আনস্মার্ট একটা জাতি যাদের বেশীর ভাগ পেশায় গোয়ালা অথবা ধোপা । শিক্ষার মান ভয়াব হ নিচু ।

বিহারের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সার্টিফিকেট নিয়ে ভারতের ভালো কোম্পানীগুলোতে চাকরী পাওয়া যায়না । ভারতের অন্য অংশের ছেলেময়েদের সাথে 'বিহারী'দের স্পষ্টভাবেই আলাদা করা যায় । আমি নিজে ভারতের একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুদিন পড়েছিলাম । দেখেছি 'বিহারী' ছাত্রছাত্রীদের অন্যরা বন্ধু হিসেবে গ্রহন করেনা । 'কিষান কুমার' নামের এক বিহারী'র ভাষ্যমতে এই বাঙ্গাল আমি ছিলাম তার ভার্সিটি জীবনের প্রথম 'ইয়ার'! মুসলমান বিহারীরা মুলত: পাকিস্তানে মাইগ্রেট করেন , প্রধামন্ত্রী লিয়াকত আলীর প্রেরনায় যিনি নিজে ছিলেন বিহারী ।

লিয়াকত আলী তার জিবদ্দশায় পশ্চিম পাকিস্তানের সিভিল সার্ভিসে এবং পূর্ব পাকিস্তানের ব্যাবসা বানিজ্যে 'বিহারী'দের পুনর্বাসন করেন । লক্ষ্যনীয় পাকিস্তানে চলে এলেও এরা 'বিহারী' নামেই পরিচিত থাকলো । পশ্চিম পাকিস্তানে মুলত: করাচী ন গরীতে এবং পূর্ব পাকিস্তানে ঢাকা ও সৈয়দপুরে এদের জায়গা দেয়া হয় । লিয়াকত আলী খান কে হত্যা করার পর যখন পাঞ্জাবীদের নিয়ন্ত্রিত সেনাবাহিনী পাকিস্তানের ক্ষমতা দখন করে, সে সময় থেকে শুরু হয় 'বিহারী'দের দুর্দশা । পশ্চিম অংশের সিভিল সার্ভিস ও অন্যান্য চাকরী থেকে বিহারীদের হটিয়ে পাঞ্জাবীদের বসানো হতে থাকে ।

তবে শাসক গোষ্ঠি পূর্ব অংশে 'বিহারী'দের পৃষ্ঠপোষকতা করতে থাকে মুলত: বাঙ্গালীদের বিরুদ্ধে এদের অবস্থানের জন্য । একই সময়ে কেন্দ্্রে পাঞ্জাবীদের ক্ষমতা কুক্ষিগতকরন অপরদিকে বাঙ্গালী,বেলুচ ও সিন্ধিদের স্বাধিকার আন্দোলন পাকিস্তান রাষ্ট্র ও মিস্টার জিন্নাহ'র 'দ্্বিজাতি' তত্বের কবর রচনা নিশ্চি তকরে । প্রমান করে ধর্মের ভিত্তিতে কখনোই জাতি গঠন হয়না, ভাষা ও সংস্কৃতিভিত্তিক বন্ধনটাই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে । [link|http://www.somewhereinblog.net/Hasan_Murshedblog/post/28692666| c

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।