আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

। । 'বিহারী' দের গল্প::বিষবৃক্ষের করুণ শাখা-2 । ।

এ ব্লগে আর কোন মৌলিক লেখার দরকার নেই, যেহেতু আমি আমার নিকৃষ্টতম লেখার স্বত্ব ও কাউকে দিতে রাজী নই

71 এর মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা কামী বাঙ্গালী জন গোষ্ঠি বিরুদ্ধে হত্যাযজ্ঞে অংশ নিয়েছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনী যাদের বেশীর ভাগের জাতিস্বত্বা পাকিস্তানী, পূর্ব পাকিস্তানে পুনবার্সিত 'বিহারী' এবং জামাতে ইসলাম -মুসলিম লীগ-নেজামে ইসলামের মতো ধর্মভিত্তিক দলগুলোর নেতাকমর্ীরা যারা জাতিগত ভাবে বাঙ্গালীই ছিলো । তিন ঘাতক গোষ্ঠির প্রত্যকের আলাদা আলাদা স্বার্থ ছিলো । 'বিহারী'দের বিবেচনায় ছিলো-- পূর্ব পাকিস্তানে তারা ইতিমধ্যেই ব্যবসা বানিজ্যে ভালো ভাবে প্রতিষ্ঠিত । বাংলাদেশ রাস্ট্র সৃষ্টি হলে এই অধিকার তারা হারাবে, মুল জন্মভূমি ভারতে ফিরে যাবার সুযোগ নেই-- কারন 'হিন্দু' ভারতকে অস্বীকার করে 'মুসলিম পাকিস্তানে' তারা এসেছে স্বেচ্ছায় । যেতে হবে পশ্চিম পাকিস্তানে ।

কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানে থাকা 'বিহারী' দের নিজেদের অবস্থাই খারাপ । দেশ বিভাগের এতো বছর পর ও মুল স্রোতের সাথে তাদের আত্নীকরন হয়নি । করাচী ন গরীতেই শুধু প্রাধান্য । বাকী সবার কাছে এতোদিন পর ও 'মোহাজের' নামে পরিচিত- 'পাকিস্তানী ' হয়ে উঠা হয়নি । মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস ধরে হত্যাকান্ডে স হযোগীতার পর ও এই 'বিহারী' রাআবারো 'বিট্রেড' হলো পাকিস্তানী তথা 'পাঞ্জাবী'দের দ্্বারা ।

জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী আত্নসমর্প নকারী সৈন্যদের পাকিস্তান ফিরিয়ে নিলে ও তাদের স হযোগী বাহিনী 'রাজাকার' 'আলবদর' 'আল শামস' দের ফিরিয়ে নেয়নি । ফলে 'বিহারী' রা আবারো আটকা পড়লো এমন এক ভূ-খন্ডে যার প্রধান জন গোষ্ঠির হত্যাকান্ডে তারা সরাসরি জড়িত ছিলো । এরা যেভাবে 'জাতিগত শোধন' চালিয়েছিল বাঙ্গালীর বিরুদ্ধে , বিজয়ী বাঙ্গালী তার প্রতিশোধ নেয়নি । নেয়নি যে তার প্রমান , গত 35 বছর ধরে এরা বেঁচে আছে নিজেদের পরিচয়েই এই রাষ্ট্রে , যে রাষ্ট্রকে জন্মলগ্নে তারা হত্যা করতে চেয়েছিল । এটা সম্ভবত: এ কারনে হয়েছে যে বাঙ্গালী জাতিগত আচরনে প্রতিশোধ পরায়ন বা যুদ্ধংদেহী নয় ।

জানা ইতিহাসে জাতি হিসেবে বাঙ্গালীরা এই একবারই 71 এ যুদ্ধ করেছিলো । করেছিলো , কারন এ ছাড়া তার বেঁচে থাকার আর কোনো পথ ছিলোনা । বাংলাদেশের 'বিহারী' রা 35 বছর ধরে 'রিফিউজি' হিসেবে আছে এ দেশে , অপরদিকে পাকিস্তানের করাচীভিত্তিক 'বিহারী'রা 47 থেকেই আছে 'মোহাজির ' হিসেবে । মুল জন গে াষ্ঠির সাথে এদের আতি্নকরন হয়নি গত 60 বছরে ও । এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভাগ্যবান ভারত থেকে আসা বাঙ্গালী মুসলমানেরা ।

পূর্ব বাংলার মানুষ খুব স হজেই পশ্চিম বাংলা , আসাম থেকে বাঙ্গালী মুসলমানদের গ্রহন করে নিয়েছে । এমনকি দেখা যায় বাংলাদেশ রাষ্ট্রের গত 35 বছরে শেখ মুজিব ও তার মেয়ে শেখ হাসিনা ছাড়া বাকী সব শাসকই মুলত: পশ্চিম বাংলার বাঙ্গালী । এদের কারোরই শেকড় এই বাংলায় নয় । বিপরীতে পূর্ববাঙ্গালী হিন্দুদের অনেক অনেক বেশী দুর্দশার শিকার হতে হয়েছে পশ্চিম বাংলায় আতি্নকরন হতে গিয়ে । সুনীল গাঙ্গুলীর 'পূর্ব-পশ্চিম ' উপন্যাসে কিছুটা ছবি পাওয়া যায় ।

'মেঘালয় ', ত্রিপুরা' 'নাগাল্যান্ড' ও 'আসাম ' এর অনেক জায়গায় এখনো কিন্তু এটা হয়ে উঠেনি । এখনো অনেক জায়গায় বাঙ্গালীদের থাকতে হয় ক্যাম্পের মতো আলাদা জায়গায় । প্রতি বছর বাঙ্গালী- খাসিয়া, বাঙ্গালী - টিপরা, বাঙ্গালী- নাগা, বাঙ্গালী-আসামী রায়ট হয় । এই খবর গুলো গুরুত্বহীন , এমনকি বাঙ্গালীপ্রধান 'পশ্চিমবঙ্গ'ের' মিডিয়ায় । যা হোক 80 এর দশকের শুরুতে পাকিস্তানের 'বিহারী' রা আলতাফ হোসেনের নেতৃত্বে 'মোহাজের কওমী মুভমেন্ট' শুরু করে ।

পাকিস্তানী সামরিক শাসকদের নিযর্াতনের মুখে এই 'মুভমেন্ট' সশস্ত্র হতে বাধ্য হয় । রক্তক্ষয়ী আন্দোলন এখনো চলছে । সমপ্রতি নাম বদলে হয়েছে 'মোত্তাহিদা কওমী মুভমেন্ট' । সব মিলিয়ে 'বিহারী' দের গল্প -- একটা 'বিট্রেড' , 'ফ্রাসটেইটেড' জাতিগোষ্ঠির গল্প-- যারা ধমর্ীয় রাজনীতির করুন শিকার । [গাঢ়] এই লেখাটা পড়ে যেনো কারো মনে না হয় , আমি 'বিহারী'দের প্রতি স হানুভূতিশীল ।

আমার পূর্ব পুরুষের হত্যাকান্ডে সম্মিলিতভাবে অংশ নিয়েছিল যে তিনটি গোষ্ঠি-- পাকিস্তান রাষ্ট্র, পূর্ব পাকিস্তানের 'বিহারী' এবং বাংলাভাষী ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক গোষ্ঠি-- সকলের প্রতি আমার ঘৃনা আমৃতু্য । তবে আলতাফ হোসেনের 'এম.কিউ.এম' এর প্রতি আমার সমর্থন আছে । 'রিফিউজি' বিহারীরা ফিরে যাক তাদের নিজেদের রাষ্ট্রেযে রাষ্ট্রে লোভের একদিন নিজেদের জন্মভূমি ফেলে তারা চলে এসেছিলো, যে রাষ্ট্র টিকিয়ে রাখার জন ্যতারা ঘাতক হয়েছিলো -- সে রাষ্ট্রে ফিরে গিয়ে তারা নিজেদের অধিকার আদায় করুক( একই কামনা বাংলাভাষী রাজাকার ও তাদের আদর্শ বাহকদের জন্য ) । [/গাঢ়]

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।